ভালোবাসায় সিক্ত ক্রিকেটার শাহীন
jugantor
ভালোবাসায় সিক্ত ক্রিকেটার শাহীন

  কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি  

১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ক্রিকেটার শাহীন

নিজ এলাকার মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হলেন অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ী দলের সদস্য শাহীন আলম। শুক্রবার সকালে ঢাকা থেকে কুড়িগ্রাম শহরে পৌঁছলে শাহীনকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান জেলার ক্রীড়ামোদীরা। এরপর তাকে নিয়ে একটি মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা বের হয়।

শোভাযাত্রাটি শহর প্রদক্ষিণ করে কলেজ মোড়ে যায়। সেখানে বিজয় স্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান শাহীন। পরে জেলা ক্রীড়া সংস্থাসহ জেলার বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে তাকে সংবর্ধনা দেয়া হয়। পরে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রাসহকারে তাকে উলিপুর উপজেলার যমুনা পাইকপাড়া গ্রামে নিজবাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় গ্রামবাসী তাকে একনজর দেখার জন্য বাড়িতে ভিড় করেন।

শাহীন আলম উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের যমুনা পাইকপাড়া গ্রামের দিনমজুর শাহাদত হোসেনের ছেলে। তিন ভাইবোনের মধ্যে শাহীন আলম ছোট। দুই বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। মা সাতিনা বেগম গৃহিণী।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কুড়িগ্রাম জেলার সহকারী কোচ বিজন কুমার দাস জানান, শাহীন আলমের উত্থান ২০১৬ সালে। এ সময় জেলা অনূর্ধ্ব-১৬ টিমের জন্য তাকে প্রথম নির্বাচন করা হয়। এর আগে সে গ্রামেগঞ্জে টেপ টেনিস দিয়ে খেলা করত।

জানা যায়, কুড়িগ্রাম ক্রিকেট একাডেমির কোচ মনোজ কুমার দাস ময়না প্রথম ক্রিকেটে শাহীন আলমকে হাতেখড়ি দেন। এরপর ২০১৭ সালে বিকেএসপির হান্টিং দলের ক্রিকেট কোচ রুশো তাকে বিকেএসপিতে প্রশিক্ষণের সুযোগ দেন। সেখান থেকেই তার উত্থান। তিনি শ্রীলংকা ও নিউজিল্যান্ডে জাতীয় দলের বয়সভিত্তিক গ্রুপের হয়ে সফর করেন। সর্বশেষ অনূর্ধ্ব-১৯ যুব বিশ্বকাপ দলে জায়গা করে নেন।

শাহীন আলমের দিনমজুর বাবা শাহাদত হোসেন ও মা সাতিনা বেগম ছেলের এ সাফল্যে দারুণ খুশি। তারা জানান, সেদিনের খেলাটি তারা দেখেছেন। অভাবের কারণে ছেলেকে তেমন একটা সহযোগিতা করতে পারেননি। আজ সেই ছেলে তাদের গর্ব।

ক্রীড়া পৃষ্ঠপোষক ফিরোজ আহমেদ জানান, শাহীন গ্রামের বাড়ি থেকে ১০ কিলোমিটার পথ সাইকেলে করে কুড়িগ্রাম স্টেডিয়ামে এসে প্র্যাকটিস করত। তাকে তার লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য সবরকম সহায়তা করেছি। ওর জন্য সবাই দোয়া করবেন। কুড়িগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সাঈদ হাসান লোবান বলেন, শাহীনকে নিয়ে কুড়িগ্রামবাসী গর্বিত।

এক প্রতিক্রিয়ায় শাহীন আলম বলেন, ‘বিশ্বকাপ জয়ে দেশের সম্মান বয়ে আনতে পেরে আমি গর্বিত। আগামী দুই বছর বিসিবি-২১ নতুন প্রকল্পের সঙ্গে চুক্তি করেছি। সেখানে আরও ভালো করার চেষ্টা করব। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গণভবনে আমাদের সংবর্ধনা দেবেন- ভাবতেই স্বপ্নের মতো লাগছে। তার কাছে সম্মান পাওয়া জীবনে একটি বড় অর্জন। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন।’

ভালোবাসায় সিক্ত ক্রিকেটার শাহীন

 কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি 
১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
ক্রিকেটার শাহীন
ক্রিকেটার শাহীন। ছবি: যুগান্তর

নিজ এলাকার মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হলেন অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ী দলের সদস্য শাহীন আলম। শুক্রবার সকালে ঢাকা থেকে কুড়িগ্রাম শহরে পৌঁছলে শাহীনকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান জেলার ক্রীড়ামোদীরা। এরপর তাকে নিয়ে একটি মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা বের হয়।

শোভাযাত্রাটি শহর প্রদক্ষিণ করে কলেজ মোড়ে যায়। সেখানে বিজয় স্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান শাহীন। পরে জেলা ক্রীড়া সংস্থাসহ জেলার বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে তাকে সংবর্ধনা দেয়া হয়। পরে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রাসহকারে তাকে উলিপুর উপজেলার যমুনা পাইকপাড়া গ্রামে নিজবাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় গ্রামবাসী তাকে একনজর দেখার জন্য বাড়িতে ভিড় করেন।

শাহীন আলম উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের যমুনা পাইকপাড়া গ্রামের দিনমজুর শাহাদত হোসেনের ছেলে। তিন ভাইবোনের মধ্যে শাহীন আলম ছোট। দুই বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। মা সাতিনা বেগম গৃহিণী।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কুড়িগ্রাম জেলার সহকারী কোচ বিজন কুমার দাস জানান, শাহীন আলমের উত্থান ২০১৬ সালে। এ সময় জেলা অনূর্ধ্ব-১৬ টিমের জন্য তাকে প্রথম নির্বাচন করা হয়। এর আগে সে গ্রামেগঞ্জে টেপ টেনিস দিয়ে খেলা করত।

জানা যায়, কুড়িগ্রাম ক্রিকেট একাডেমির কোচ মনোজ কুমার দাস ময়না প্রথম ক্রিকেটে শাহীন আলমকে হাতেখড়ি দেন। এরপর ২০১৭ সালে বিকেএসপির হান্টিং দলের ক্রিকেট কোচ রুশো তাকে বিকেএসপিতে প্রশিক্ষণের সুযোগ দেন। সেখান থেকেই তার উত্থান। তিনি শ্রীলংকা ও নিউজিল্যান্ডে জাতীয় দলের বয়সভিত্তিক গ্রুপের হয়ে সফর করেন। সর্বশেষ অনূর্ধ্ব-১৯ যুব বিশ্বকাপ দলে জায়গা করে নেন।

শাহীন আলমের দিনমজুর বাবা শাহাদত হোসেন ও মা সাতিনা বেগম ছেলের এ সাফল্যে দারুণ খুশি। তারা জানান, সেদিনের খেলাটি তারা দেখেছেন। অভাবের কারণে ছেলেকে তেমন একটা সহযোগিতা করতে পারেননি। আজ সেই ছেলে তাদের গর্ব।

ক্রীড়া পৃষ্ঠপোষক ফিরোজ আহমেদ জানান, শাহীন গ্রামের বাড়ি থেকে ১০ কিলোমিটার পথ সাইকেলে করে কুড়িগ্রাম স্টেডিয়ামে এসে প্র্যাকটিস করত। তাকে তার লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য সবরকম সহায়তা করেছি। ওর জন্য সবাই দোয়া করবেন। কুড়িগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সাঈদ হাসান লোবান বলেন, শাহীনকে নিয়ে কুড়িগ্রামবাসী গর্বিত।

এক প্রতিক্রিয়ায় শাহীন আলম বলেন, ‘বিশ্বকাপ জয়ে দেশের সম্মান বয়ে আনতে পেরে আমি গর্বিত। আগামী দুই বছর বিসিবি-২১ নতুন প্রকল্পের সঙ্গে চুক্তি করেছি। সেখানে আরও ভালো করার চেষ্টা করব। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গণভবনে আমাদের সংবর্ধনা দেবেন- ভাবতেই স্বপ্নের মতো লাগছে। তার কাছে সম্মান পাওয়া জীবনে একটি বড় অর্জন। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন।’

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন