করোনাভাইরাস শনাক্তে ৫০০ কিট দেবে চীন : রাষ্ট্রদূত

চীনকে মাস্ক, গাউন, স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নতুন করোনাভাইরাস শনাক্তকরণে বাংলাদেশকে চীন ৫০০ কিট দেবে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত। চীনের এ দুঃসময়ে বাংলাদেশ যে সহমর্মিতা দেখাচ্ছে তা বন্ধুত্বের পরিচয় বহন করে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ছবি: যুগান্তর

নতুন করোনাভাইরাস শনাক্তকরণে বাংলাদেশকে চীন ৫০০ কিট দেবে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত। চীনের এ দুঃসময়ে বাংলাদেশ যে সহমর্মিতা দেখাচ্ছে তা বন্ধুত্বের পরিচয় বহন করে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক অনুষ্ঠানে চীনা রাষ্ট্রদূত লি জিমিং এ কথা বলেন। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়- করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত চীনের বাসিন্দাদের জন্য মাস্ক, গাউন, ক্যাপ, হ্যান্ড গ্লাভস ও স্যানিটাইজারসহ স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পাশাপাশি এ ভাইরাসের সংক্রমণে প্রাণহানির ঘটনায় শোক ও সমবেদনা জানিয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে চিঠি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

এ বিষয়ে চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এমন মহানুভবতার সাধুবাদ জানাই।

করোনাভাইরাস ইস্যুতে চীনকে বাংলাদেশ যে সহযোগিতা করছে তা প্রশংসার দাবি রাখে। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে চীনা দূতাবাস ৫০০ করোনাভাইরাস কিট সরবরাহ করবে। তিনি জানান, দু’পক্ষের কৌশলগত সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

চীনা রাষ্ট্রদূতের হাতে স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী তুলে দিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন বলেন, সহমর্মিতামূলক সহায়তা হিসেবে চীনের জন্য এসব সামগ্রী দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী চীনে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের যথাযথ সেবা দেয়ায় চীন সরকারের প্রশংসা করেন।

এ সংকট চীন দ্রুত কাটিয়ে উঠতে পারবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর আয়োজনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে প্রধানমন্ত্রী নিমন্ত্রণ জানান।

এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন বলেন, উহান শহর থেকে ৩১২ বাংলাদেশিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিশেষ ফ্লাইটে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ওই বিমানের পাইলটদের অন্যদেশ প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। এতে বিপাকে পড়েছে বিমান।

তিনি জানান, চীনের বিভিন্ন শহরে অবরুদ্ধ আরও ১৭১ বাংলাদেশিকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগও নেয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় চীনে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের আরও কিছুদিন সেখানে অবস্থান করার পর দেশে ফেরার পরামর্শ দেন তিনি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন আরও বলেন, একমাত্র সিঙ্গাপুর ছাড়া কোথাও কোনো বাংলাদেশি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হননি। এছাড়া এ ভাইরাসের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের চীনা প্রকল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রভাব পড়বে না। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি খুব শিগগিরই চালু হবে।

২৪০০ মেগাওয়াটের মধ্যে ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আগামী দুই মাসের মধ্যে উৎপাদন করা হবে।

তিনি বলেন, আমাদের দেশে গভীর সমুদ্রবন্দর না থাকায় খরচ বেড়ে যায়। বড় জাহাজ আসতে পারে না। বাংলাদেশে এক লাখ ২০ হাজার টনের একটি জাহাজ এলে সেটি খালাস করতে কমপক্ষে ১০টি ছোট জাহাজ গভীর সমুদ্রে পাঠানো হয়। এতে খরচ অনেক বেড়ে যায়।

এতে প্রতি টনে ৫০ ডলার অতিরিক্ত খরচ হয়। মাতারবাড়ীতে নদী খনন করা হয়েছে। নদী খননের ফলে সেখানে আমাদের গভীর সমুদ্রবন্দর হয়ে যাচ্ছে। আর এটি হলে অনেক খরচ বেঁচে যাবে।

গভীর সমুদ্রবন্দর নিয়ে চীন ও জাপানের আগ্রহের বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন করলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাতারবাড়ীতে জাপানিরাই কাজ করছে। মাতারবাড়ীতে গভীর সমুদ্রবন্দর জাপান করে দিচ্ছে। মাতারবাড়ীতে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য মাটি খনন করা হয়েছে নদী থেকে। ফলে নদী ১৪ মিটারের মতো গভীর হয়েছে।

বিদ্যুৎ কেন্দ্র করতে গিয়ে গভীর সমুদ্রবন্দর হয়ে যাচ্ছে। তাহলে পয়রা গভীর সমুদ্রবন্দর হচ্ছে না- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশে একটার বেশি দুটিও গভীর সমুদ্রবন্দর থাকতে পারে। সাংবাদিকদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানবপাচার নিয়ে কুয়েতের একটি গণমাধ্যমের খবর সঠিক নয়। এ নিয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।

কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণে আরও অর্থ দেয়া হবে -প্রধানমন্ত্রী : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যুব সমাজকে দক্ষ ও যোগ্যতাসম্পন্ন করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আরও বেশি অর্থ বরাদ্দ দেয়া হবে।

যাতে শিক্ষার্থীরা চাকরির পেছনে না গিয়ে উদ্যোক্তা হতে পারেন। রোববার সকালে প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে (পিএমও) প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের ষষ্ঠ উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের প্রধান পৃষ্ঠপোষক শেখ হাসিনা বলেন, চাকরির পেছনে ছোটার মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে। দক্ষ ও যোগ্যতাসম্পন্ন প্রজন্ম গড়ে তুলতে ট্রাস্ট থেকে আরও বেশি অর্থ বরাদ্দ দেয়া হবে।

যুব সমাজকে চাকরি করার চাইতে চাকরি দেয়ায় মনোযোগী হতে তিনি আহ্বান জানান। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা মেধাবী কিন্তু দরিদ্র শিক্ষার্থীদের স্বাবলম্বী করে তোলার পাশাপাশি তাদের পরিবারকে আরও উন্নত করতে ট্রাস্ট গঠন করেছি।

গণহারে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সহায়তা দেয়ার বিষয়ে দ্বিমত ব্যক্ত করে শেখ হাসিনা বলেন, তারা যেন সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্র্ভরশীল হয়ে না পড়ে। উপবৃত্তি সংক্রান্ত তথ্য আপডেট করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের তিনি এ বিষয়ে দায়িত্ব প্রদানের নির্দেশনা দেন।

এমফিল ও পিএইচডি শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা দেয়ার জন্য সিড মানি হিসেবে আরও পাঁচ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী সম্মতিও দেন। এ লক্ষ্যে এর আগেও সরকার পাঁচ কোটি টাকা দিয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসন সক্ষমতা অনুযায়ী ভর্তির জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে তিনি সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ দেন।

ট্রাস্টের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাকির হোসেন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, অর্থ সচিব আবদুর রউফ তালুকদার, পিএমও সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, প্রেস সচিব ইহসানুল করিম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ড. মো. আখতারুজ্জামান, ইউজিসি চেয়ারম্যান (বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন) অধ্যাপক কাজী শহীদুল্লাহ, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অতিরিক্ত সচিব নাসরিন আফরোজ ট্রাস্টের সার্বিক কর্মকাণ্ড এবং ভবিষ্যৎ করণীয় বিষয়ে বৈঠকে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।

অর্থের অভাবে শিক্ষার সুযোগবঞ্চিত দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদানের লক্ষ্যে ২০১২ সালে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট গঠন করা হয়। ২০১১-১২ অর্থবছরে ট্রাস্টের সিড মানি হিসেবে এক হাজার কোটি টাকা দেয়া হয়।

২০১৩ সাল থেকে এ পর্যন্ড ট্রাস্ট থেকে দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি ও আর্থিক সহায়তার জন্য ইতিমধ্যে ৫৫০ দশমিক ৯০ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। ট্রাস্ট এ বছর বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ২ লাখ ৯ হাজার ৬০০ দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১১১ দশমিক ৪০ কোটির অধিক অর্থ বিতরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

'কোভিড-১৯' সর্বশেষ আপডেট

# আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ ৪৮ ১৫
বিশ্ব ৬,২২,১৫৭১,৩৭,৩৬৪২৮,৭৯৯
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

 
×