জনগণ প্রশ্রয় দেয়নি বলেই জঙ্গিদের নিবৃত্ত করেছি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

  ঢাবি প্রতিনিধি ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। ফাইল ছবি

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ কখনওই জঙ্গিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়নি এবং এ জন্যই আমরা সহজে জঙ্গিদের নিবৃত করতে পেরেছি।

সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী অডিটরিয়ামে ‘ডাকসু ল অ্যান্ড পলিটিক্স রিভিউ’ জার্নালের উদ্যোগে ‘ডি ইউ থিংকস’ শীর্ষক আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

বিশেষজ্ঞ প্যানেলের সদস্য হিসেবে ছিলেন ঢাবির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের চেয়ারম্যান ড. রুহুল আমিন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ড. দেলওয়ার হোসেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যান্স ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের ডিজিএম কামাল হোসেন এবং বাংলাদেশ পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম।

শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ডাকসুর সহ-সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেইন এবং সঞ্চালনা করেন ডাকসুর আন্তর্জাতিক সম্পাদক শাহরিমা তানজিন অর্নি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, আমরা একটা পর্যায়ে চলে আসছিলাম যখন আমরা একের পর এক ষড়যন্ত্রের শিকার হচ্ছিলাম।

এর মূল হোতা যারা ছিল তাদের সবকিছু আমরা উদ্ঘাটন করে দেখলাম সবই আমাদের দেশীয়। এরা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন নামে আমাদের দেশকে একটা জঙ্গি রাজ্যে পরিণত করার প্রচেষ্টা চালিয়েছে। এরমধ্যে বড় ঘটনা হচ্ছে হলি আর্টিজন বেকারিতে হামলা। তাদের মূল টার্গেট ছিল বাংলাদেশকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে দেয়া।

তিনি বলেন, ঠিক এই সময়ই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করলেন। মন্ত্রী বলেন, আমরা সব ব্যাংকের ওপর নজরদারি শুরু করেছিলাম। কীভাবে অর্থ আসে কারা অর্থায়ন করে। পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশকে আসলে যেভাবে চিত্রিত করা হচ্ছে যে, এখানে বুঝি যেখানে সেখানে বোমা পড়ে।

রাস্তায় জঙ্গিরা ঘোরে কিন্তু প্রকৃত চিত্র হলো এই যে, ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে জিটিআই ইনডেক্সে দেখানো হয়েছে যে, বাংলাদেশের অবস্থান ঝুঁকির দিক থেকে ৩১তম। এর আগে ‘ডি ইউ থিংকস’ আয়োজনের তৃতীয় পর্বে শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে ‘ভায়োলেন্ট এক্সট্রেমিজম ফান্ডিং ইন সাউথ এশিয়া : এ কম্পারেটিভ স্টাডি অব বাংলাদেশ, ভারত এবং পাকিস্তান’ শীর্ষক গবেষণা অভিসন্দর্ভ উপস্থাপন করেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী নাহিয়ান রেজা সাবরিয়েত।

কারাগারে ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ বন্দি : সংসদ রিপোর্টার জানায়, দেশের কারগারগুলোয় আসামি ধারণক্ষমতা ৪৬ হাজারের ওপরে। কিন্তু আজ কারাগারে প্রায় দ্বিগুণ অর্থাৎ ৮৮ হাজারের বেশি বন্দি রয়েছে। সরকার শুধু কারাগারই নির্মাণ করছে না, কারাগারগুলো আধুনিক করার জন্যও কাজ করছে। বন্দিদের বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। যেন এখান থেকে বের হয়ে তারা ফের অপরাধে লিপ্ত না হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সোমবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বদলে দেয়ার কথা বলেছিলেন। আজ সেই দেশ কোথা থেকে কোথায় এসেছে- এটা এমনি এমনি হয়নি।

এর জন্য দরকার দক্ষ, সাহসী ও সৎ নেতৃত্ব। যেটা আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনার মধ্যে আছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ক্ষমতায় আসার পর ২০১৩ সালে টানা অগ্নিসন্ত্রাস শুরু হয়েছিল। সেসময় যেন হত্যার একটা হোলিখেলা শুরু হয়েছিল। সেই জায়গা থেকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আজ জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমন করতে পেরেছি। দেশের মানুষকে একত্রিত করে জঙ্গি দমনে সফল হয়েছি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় এসে এই তিন টার্মে পুলিশের জনবল বাড়িয়েছেন। প্রায় ৮২ হাজার জনবল বাড়ানো হয়েছে। পুলিশের যখন যেটা প্রয়োজন, প্রধানমন্ত্রী সেটাই দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতা গ্রহণের পর পুলিশকে ঢেলে সাজানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন, সাজাতে পেরেছি বলেই সন্ত্রাস দমন করতে পেরেছি।

এখন ‘৯৯৯’ নম্বরে কল করলেই নানারকম সেবা পাচ্ছে মানুষ। মন্ত্রী বলেন, পুলিশের সঙ্গে বিজিবিকেও শক্তিশালী করেছি। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করা হয়েছে। জনগণকে সম্পৃক্ত করে মাদক নির্মূল সম্ভব না হলেও নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে পারব।

তিনি বলেন, আমরা ক্ষমতায় আসার পর ই-পাসপোর্ট সংযোজন করেছি। পাসপোর্ট নিয়ে আর কাউকে কখনও বিড়ম্বনায় পড়তে হবে না। সাইবার ক্রাইম বন্ধে এনটিএমসি গঠন করেছি। যে কারণে আমরা অপরাধীদের লোকেশন বের করতে পারছি।

'কোভিড-১৯' সর্বশেষ আপডেট

# আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ ৫৬ ২৬
বিশ্ব ৯,৩৬,২০৪ ১,৯৪,৫৭৮ ৪৭,২৪৯
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

 
×