গাজীপুরে সাহেব আলী হত্যা: ছদ্মবেশে খুনের রহস্য উন্মোচন
jugantor
গাজীপুরে সাহেব আলী হত্যা: ছদ্মবেশে খুনের রহস্য উন্মোচন
স্বীকারোক্তির পর মর্জিনা, রিনা ও আনোয়ারা কারাগারে * পাত্রী দেখার ভান করে খুনি শনাক্ত, হার মানল সিনেমার কাহিনীও

  সিরাজুল ইসলাম  

১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

খুন

মা আনেয়ারা ও ছোট বোন রিনাকে নিয়ে গার্মেন্ট কর্মী মর্জিনা (৩০) বালিশচাপা দিয়ে খুন করেন ৬৫ বছর বয়সী স্বামী সাহেব আলীকে। গাজীপুরে কবিরাজি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন কুড়িগ্রামের এ সাহেব আলী।

২০১৮ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি গাজীপুরের জয়দেবপুরের টেকেনগোতে ভাড়া বাসায় সাহেব আলীকে খুনের পর লাশটি পাশেই ডোবায় ফেলে দেয়া হয়। তারা প্রচার করে বাসা থেকে বের হওয়ার পর সাহেব আলী আর বাসায় ফেরেননি। হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে নির্বিঘ্নে এলাকা ছেড়ে গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহে চলে যান আবদুস সালামের পরিবারের সবাই।

সাহেব আলীর দুই স্ত্রী ও সন্তানরা কুড়িগ্রামে থাকে। আগের দুই বিয়ের কথা গোপন করে আবদুস সালামের মেয়ে মর্জিনাকে বিয়ে করেন সাহেব আলী। এই ঘরে একটি সন্তানও রয়েছে তার। তবে সাহেব আলীর ছেলে বাবলু হাসান বাবাকে না জানিয়েই মর্জিনার ছোট বোন রিনাকে বিয়ে করেন।

এ নিয়ে সাহেব আলীর সঙ্গে মর্জিনার বিরোধের জেরে এই খুনের ঘটনা ঘটে। হত্যাকাণ্ডের সময় শ্বশুর সালাম ও শ্যালক শরীফ বাসায় ছিলেন না। ঘটনার পর সাহেব আলীর ছেলে লাবলু হাসান জয়দেবপুর থানায় মামলা করেন।

খুনের পর মর্জিনারা ময়মনসিংহের ধোবাউড়ার পাথাড়িগাঁও গ্রামে মাস দেড়েক থাকেন। সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে গেছে মনে করে তারা জীবিকার তাগিদে ভালুকার সিডস্টোর এলাকায় গিয়ে নতুন করে বসবাস শুরু করেন। ক্লুলেস মামলাটি শেষ পর্যন্ত তদন্তের দায়িত্ব পায় ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি)।

একপর্যায়ে বিয়ের জন্য পাত্রী দেখতে গিয়ে খুনিদের সন্ধান মিলে। এ ঘটনা সিনেমার কাহিনীকেও হার মানিয়েছে। পরে গ্রেফতার করা হয় হত্যায় জড়িত মর্জিনা, রিনা এবং আনোয়ারাকে। তারা আদালতেও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

সিআইডির উচ্চপর্যায়ের সূত্র যুগান্তরকে জানায়, কুড়িগ্রামে দুই স্ত্রী ও সন্তানদের না জানিয়েই ২০১৩ সালে সাহেব আলী বিয়ে করেন মর্জিনাকে। মর্জিনার পরিবার জানত, সাহেব আলীর এক স্ত্রী ছিল এবং তাকে তালাক দেয়া হয়েছে। এদিকে সাহেব আলীর সন্তানরা সবাই আবদুল সালামকে চাচা বলতেন এবং জানতেন তাদের বাবা এ বাড়িতে সাবলেট থাকছেন।

পুলিশের অতিরিক্ত আইজি সিআইডির প্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন যুগান্তরকে বলেন, মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে সাহেব আলীর ছেলে বাবলু হাসানের সঙ্গে মর্জিনার ছোট বোন রিনা বেগমের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং পরে তারা বিয়ে করেন গোপনে। এ খবর সাহেব আলী না জানলেও মর্জিনারা জানতেন। তিনি বলেন, রিনা-বাবলুর সম্পর্কের কারণে সাহেব আলী ও মর্জিনার মধ্যে বিভেদ তৈরি হয়।

সেই জেরেই ওইদিন রাত ১০টায় মর্জিনা, রিনা ও আনোয়ারা তাকে খুন করে রাত ২টার দিকে লাশ বাড়ির ৩০০ গজ দূরে পতিত জমিতে ফেলে রাখে। খুনের রাতে শ্যালক শরীফ এবং শ্বশুর আবদুস সালাম গ্রামের বাড়ি ছিল। পরদিন মর্জিনারা বিষয়টি শরীফ এবং সালামকে জানায়। পরে সবাই মিলে বাড়িওয়ালাকে বলে বাসা ছেড়ে দেয়।

সিআইডির ডিআইজি মাইনুল হাসান যুগান্তরকে বলেন, সিআইডি টিম ঘাতকদের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের ধোবাউড়ার পাথারীগাঁও গ্রামকে ঘিরে তদন্ত শুরু করে। তারা ওই গ্রামে লুঙ্গি পরে ছদ্মবেশে অবস্থান করে। এক বাড়িতে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে পাত্রী দেখতে যায় সিআইডি টিমটি। পাত্রী দেখার ফাঁকে টিমের এক সদস্য ওই বাড়ির লোকদের বলেন, এই গ্রামের সালাম নামের এক লোকের সঙ্গে আমি অনেকদিন আগে চাকরি করেছি।

তার কাছ থেকেই এই গ্রামের নাম শুনেছি। কিন্তু তার বাড়ি চিনি না। মোবাইল নম্বরও নেই। আপনারা কি তাকে চিনেন? তখন পাত্রীপক্ষের লোকজন জানায়, সালামের বাড়ি তাদের বাড়ির পাশেই। এ পর্যায়ে জানতে চাওয়া হয়, ওরা কেমন লোক। ওই সময় তারা জানান, ওরা খুব একটা ভালো লোক না। শুনেছি কিছুদিন আগে গাজীপুর খুন করে পালিয়ে এসেছিল। এক-দেড় মাস থাকার পর তারা আবার বাড়ি ছেড়ে চলে যায়।

পরে সালাম ও তার পরিবারের সদস্যদের খোঁজে ভালুকা সিডস্টোর এলাকায় ছুটে যায় সিআইডি টিম। প্রথমে সালামের ছেলে সবুজের ফোন নম্বর সংগ্রহ করে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন সিআইডি কর্মকর্তা। সবুজের সঙ্গে দেখা হওয়ার পর আটক করা হয় সবুজকে। পরে মর্জিনা, রিনা এবং অনোয়ারাকে গ্রেফতার করা হয়। তারা গত ১৯ জানুয়ারি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবাবনবন্দিও দেয়।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মতিউর রহমান যুগান্তরকে বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাহেব আলীর ছেলে লাবলু হাসান বাদী হয়ে ২০১৮ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি জয়দেবপুর থানায় অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা করেন। কিন্তু দুই মাসের তদন্তেও রহস্য উদ্ঘাটন করা যায়নি।

পরে মামলাটি সিআইডির ওপর ন্যস্ত করা হয়। ২০১৮ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব দেয়া হয় সিআইডির এসআই জাহিদুল ইসলামকে। পরে আবার সিআইডি গাজীপুর মেট্রোর পুলিশ পরিদর্শক রেজাউল করিমকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়।

জানতে চাইলে সিআইডি কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, তদন্তের একপর্যায়ে জানতে পারি, মৃত সাহেব আলীর দুই স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও তৃতীয় দফায় মর্জিনাকে বিয়ে করেন। গার্মেন্টকর্মী মর্জিনারা ওই এলাকার সৈয়দ মোর্শেদের বাড়িতে ভাড়া থাকত। ওই বাড়িতেই থাকতেন সাহেব আলী।

খুনের ৫-৭ দিন পরই মর্জিনা ও তার পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে দেন। তাদের বিষয়ে তেমন কোনো তথ্য দিতে পারেনি বাড়িওয়ালা মোর্শেদ। পরে ছদ্মবেশে মর্জিনার গ্রামের বাড়ির তথ্য সংগ্রহ করি। প্রযুক্তির সহায়তায় ১৮ জানুয়ারি মর্জিনা, রিনা এবং আনোয়ারাকে ভালুকার সিডস্টোর এলাকার একটি বাড়ি থেকে গ্রেফতার করি।

গাজীপুরে সাহেব আলী হত্যা: ছদ্মবেশে খুনের রহস্য উন্মোচন

স্বীকারোক্তির পর মর্জিনা, রিনা ও আনোয়ারা কারাগারে * পাত্রী দেখার ভান করে খুনি শনাক্ত, হার মানল সিনেমার কাহিনীও
 সিরাজুল ইসলাম 
১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
খুন
খুন। প্রতীকী ছবি

মা আনেয়ারা ও ছোট বোন রিনাকে নিয়ে গার্মেন্ট কর্মী মর্জিনা (৩০) বালিশচাপা দিয়ে খুন করেন ৬৫ বছর বয়সী স্বামী সাহেব আলীকে। গাজীপুরে কবিরাজি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন কুড়িগ্রামের এ সাহেব আলী।

২০১৮ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি গাজীপুরের জয়দেবপুরের টেকেনগোতে ভাড়া বাসায় সাহেব আলীকে খুনের পর লাশটি পাশেই ডোবায় ফেলে দেয়া হয়। তারা প্রচার করে বাসা থেকে বের হওয়ার পর সাহেব আলী আর বাসায় ফেরেননি। হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে নির্বিঘ্নে এলাকা ছেড়ে গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহে চলে যান আবদুস সালামের পরিবারের সবাই।

সাহেব আলীর দুই স্ত্রী ও সন্তানরা কুড়িগ্রামে থাকে। আগের দুই বিয়ের কথা গোপন করে আবদুস সালামের মেয়ে মর্জিনাকে বিয়ে করেন সাহেব আলী। এই ঘরে একটি সন্তানও রয়েছে তার। তবে সাহেব আলীর ছেলে বাবলু হাসান বাবাকে না জানিয়েই মর্জিনার ছোট বোন রিনাকে বিয়ে করেন।

এ নিয়ে সাহেব আলীর সঙ্গে মর্জিনার বিরোধের জেরে এই খুনের ঘটনা ঘটে। হত্যাকাণ্ডের সময় শ্বশুর সালাম ও শ্যালক শরীফ বাসায় ছিলেন না। ঘটনার পর সাহেব আলীর ছেলে লাবলু হাসান জয়দেবপুর থানায় মামলা করেন।

খুনের পর মর্জিনারা ময়মনসিংহের ধোবাউড়ার পাথাড়িগাঁও গ্রামে মাস দেড়েক থাকেন। সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে গেছে মনে করে তারা জীবিকার তাগিদে ভালুকার সিডস্টোর এলাকায় গিয়ে নতুন করে বসবাস শুরু করেন। ক্লুলেস মামলাটি শেষ পর্যন্ত তদন্তের দায়িত্ব পায় ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি)।

একপর্যায়ে বিয়ের জন্য পাত্রী দেখতে গিয়ে খুনিদের সন্ধান মিলে। এ ঘটনা সিনেমার কাহিনীকেও হার মানিয়েছে। পরে গ্রেফতার করা হয় হত্যায় জড়িত মর্জিনা, রিনা এবং আনোয়ারাকে। তারা আদালতেও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

সিআইডির উচ্চপর্যায়ের সূত্র যুগান্তরকে জানায়, কুড়িগ্রামে দুই স্ত্রী ও সন্তানদের না জানিয়েই ২০১৩ সালে সাহেব আলী বিয়ে করেন মর্জিনাকে। মর্জিনার পরিবার জানত, সাহেব আলীর এক স্ত্রী ছিল এবং তাকে তালাক দেয়া হয়েছে। এদিকে সাহেব আলীর সন্তানরা সবাই আবদুল সালামকে চাচা বলতেন এবং জানতেন তাদের বাবা এ বাড়িতে সাবলেট থাকছেন।

পুলিশের অতিরিক্ত আইজি সিআইডির প্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন যুগান্তরকে বলেন, মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে সাহেব আলীর ছেলে বাবলু হাসানের সঙ্গে মর্জিনার ছোট বোন রিনা বেগমের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং পরে তারা বিয়ে করেন গোপনে। এ খবর সাহেব আলী না জানলেও মর্জিনারা জানতেন। তিনি বলেন, রিনা-বাবলুর সম্পর্কের কারণে সাহেব আলী ও মর্জিনার মধ্যে বিভেদ তৈরি হয়।

সেই জেরেই ওইদিন রাত ১০টায় মর্জিনা, রিনা ও আনোয়ারা তাকে খুন করে রাত ২টার দিকে লাশ বাড়ির ৩০০ গজ দূরে পতিত জমিতে ফেলে রাখে। খুনের রাতে শ্যালক শরীফ এবং শ্বশুর আবদুস সালাম গ্রামের বাড়ি ছিল। পরদিন মর্জিনারা বিষয়টি শরীফ এবং সালামকে জানায়। পরে সবাই মিলে বাড়িওয়ালাকে বলে বাসা ছেড়ে দেয়।

সিআইডির ডিআইজি মাইনুল হাসান যুগান্তরকে বলেন, সিআইডি টিম ঘাতকদের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের ধোবাউড়ার পাথারীগাঁও গ্রামকে ঘিরে তদন্ত শুরু করে। তারা ওই গ্রামে লুঙ্গি পরে ছদ্মবেশে অবস্থান করে। এক বাড়িতে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে পাত্রী দেখতে যায় সিআইডি টিমটি। পাত্রী দেখার ফাঁকে টিমের এক সদস্য ওই বাড়ির লোকদের বলেন, এই গ্রামের সালাম নামের এক লোকের সঙ্গে আমি অনেকদিন আগে চাকরি করেছি।

তার কাছ থেকেই এই গ্রামের নাম শুনেছি। কিন্তু তার বাড়ি চিনি না। মোবাইল নম্বরও নেই। আপনারা কি তাকে চিনেন? তখন পাত্রীপক্ষের লোকজন জানায়, সালামের বাড়ি তাদের বাড়ির পাশেই। এ পর্যায়ে জানতে চাওয়া হয়, ওরা কেমন লোক। ওই সময় তারা জানান, ওরা খুব একটা ভালো লোক না। শুনেছি কিছুদিন আগে গাজীপুর খুন করে পালিয়ে এসেছিল। এক-দেড় মাস থাকার পর তারা আবার বাড়ি ছেড়ে চলে যায়।

পরে সালাম ও তার পরিবারের সদস্যদের খোঁজে ভালুকা সিডস্টোর এলাকায় ছুটে যায় সিআইডি টিম। প্রথমে সালামের ছেলে সবুজের ফোন নম্বর সংগ্রহ করে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন সিআইডি কর্মকর্তা। সবুজের সঙ্গে দেখা হওয়ার পর আটক করা হয় সবুজকে। পরে মর্জিনা, রিনা এবং অনোয়ারাকে গ্রেফতার করা হয়। তারা গত ১৯ জানুয়ারি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবাবনবন্দিও দেয়।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মতিউর রহমান যুগান্তরকে বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাহেব আলীর ছেলে লাবলু হাসান বাদী হয়ে ২০১৮ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি জয়দেবপুর থানায় অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা করেন। কিন্তু দুই মাসের তদন্তেও রহস্য উদ্ঘাটন করা যায়নি।

পরে মামলাটি সিআইডির ওপর ন্যস্ত করা হয়। ২০১৮ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব দেয়া হয় সিআইডির এসআই জাহিদুল ইসলামকে। পরে আবার সিআইডি গাজীপুর মেট্রোর পুলিশ পরিদর্শক রেজাউল করিমকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়।

জানতে চাইলে সিআইডি কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, তদন্তের একপর্যায়ে জানতে পারি, মৃত সাহেব আলীর দুই স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও তৃতীয় দফায় মর্জিনাকে বিয়ে করেন। গার্মেন্টকর্মী মর্জিনারা ওই এলাকার সৈয়দ মোর্শেদের বাড়িতে ভাড়া থাকত। ওই বাড়িতেই থাকতেন সাহেব আলী।

খুনের ৫-৭ দিন পরই মর্জিনা ও তার পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে দেন। তাদের বিষয়ে তেমন কোনো তথ্য দিতে পারেনি বাড়িওয়ালা মোর্শেদ। পরে ছদ্মবেশে মর্জিনার গ্রামের বাড়ির তথ্য সংগ্রহ করি। প্রযুক্তির সহায়তায় ১৮ জানুয়ারি মর্জিনা, রিনা এবং আনোয়ারাকে ভালুকার সিডস্টোর এলাকার একটি বাড়ি থেকে গ্রেফতার করি।