খালেদা জিয়াকে নিয়ে বারবার কথা বলার সময় নাই: ওবায়দুল কাদের

দল ক্ষমতায় থাকায় তাই সাংগঠনিক দুর্বলতা টের পাচ্ছেন না * দুঃসময় আসবে না এটা কখনও ভাববেন না

  যুগান্তর রিপোর্ট ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ওবায়দুল কাদের
ওবায়দুল কাদের। ফাইল ছবি

খালেদা জিয়ার জামিন প্রসঙ্গে বারবার কথা বলতে চান না আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেছেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ব বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। দেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। আমাদের অনেক কর্মসূচি রয়েছে। অনেক কাজ রয়েছে। দেশের কাজ, দলের কাজ। একজন খালেদা জিয়াকে নিয়ে বারবার প্রশ্নের উত্তর দেব, সেই সময় আমাদের নেই। এ নিয়ে অনেক কথা হয়েছে।

বুধবার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের এক সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা বিভাগের অধীন সব সাংগঠনিক জেলা, মহানগরের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এবং সংসদ সদস্যদের নিয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ওবায়দুল কাদের বলেন, এটা কোনো রাজনৈতিক মামলা নয়। এটা দুর্নীতির মামলা। আদালত যেটা সিদ্ধান্ত নেয়ার নেবেন। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগ, শেখ হাসিনা কিংবা কারও কিছু করার এখতিয়ার নেই। কাজেই বারবার এ প্রশ্ন করে বিব্রত করবেন না। আমি বারবার এ প্রশ্নের উত্তর দিতে চাই না।

করোনাভাইরাস বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কোনো প্রভাব ফেলছে কিনা এবং এই বিষয়ে সরকারের ভাবনা কি- এ প্রশ্নের উত্তরে সেতুমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব অর্থনীতি যদি কোনো ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কোনো কারণে যদি মন্দা দেখা দেয়; তার প্রভাব সারা বিশ্বেই পড়ে। করোনাভাইরাস আমাদের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে- সেই অবস্থা এখনও আসেনি। এটা যদি বেশি দিন থাকে তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায় না।

তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে হলে পদ্মা সেতুর কাজে কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে। পদ্মা সেতুতে চীনের আড়াইশ’ কর্মী-শ্রমিক নববর্ষের ছুটিতে স্বদেশে গেছেন। তারা এখনও আসেননি। করোনাভাইরাসের যে প্রতিক্রিয়া এরপরও তিনটি স্প্যান আমাদের বসে গেছে। আগামীকালও একটি স্প্যান বসার কথা। তবে যারা ছুটির কারণে চীনে আছেন আগামী আড়াই মাসের মধ্যে তারা ফিরে না এলে একটু সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।

দল ক্ষমতায় থাকায় সাংগঠনিক দুর্বলতা টের পাচ্ছেন না : সভায় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা ২৯টি সম্মেলন করেছি। এর মধ্যে দুটি ঢাকা সিটির। কিন্তু ঢাকা বিভাগে এ পর্যন্ত কোনো সম্মেলন হয়নি। শেখ হাসিনার বড় নির্দেশনা হচ্ছে দলকে সাজাতে হবে। সাংগঠনিকভাবে সুশৃঙ্খল এবং সংগঠনকে সময়ের চাহিদা মেটানোর উপযোগী করা আমাদের অত্যাবশ্যকীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, দল ক্ষমতায় থাকায় সাংগঠনিক দুর্বলতা টের পাচ্ছেন না। অনেক জায়গায় দেখা যায় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক হয়ে আছে। ৮-১০ বছর হয়ে গেছে আর কেউ নেই। পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি। আবার অনেকে পূর্ণাঙ্গ কমিটি জমা দিচ্ছে অনুমোদন পেতে পেতে ৬ মাস।

সম্মেলন করতে বললে বলেন, আমাদের তো মেয়াদ শেষ হয়নি। সম্মেলন যেদিন থেকে হবে ক্ষণগণনা সেদিন থেকে হবে। এ সময় কেন্দ্রীয় সম্মেলন থেকে সবাইকে শিক্ষা নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, কমিটি করতে গিয়ে নিজের লোক পকেটে ঢুকাবেন না। এতে দলের কোনো লাভ হবে না। নিজের বলয় শক্ত করার জন্য বিতর্কিত ব্যক্তিদের আনবেন না। এপ্রিল থেকে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও উপজেলা ঢেলে সাজাবেন। এরপর জেলাগুলোর সম্মেলন হবে। ঘরে বসে কমিটি করবেন না। এতে দল শেষ হয়ে যাবে। সম্মেলন ছাড়া কোনো কমিটি করা যাবে না।

তিনি আরও বলেন, অনেক সময় জেলার নেতারা উপজেলা, ইউনিয়ন কমিটি ভেঙে দিয়েছেন। এটা হবে না। কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ ছাড়া কোনো কমিটি ভাঙা যাবে না। কমিটি ভাঙতে হলে কেন্দ্রের কাছে সুপারিশ করবেন। নেত্রী পর্যন্ত বিষয়টি গড়াবে। সেখানেই ফাইনাল সিদ্ধান্ত হবে যে, কমিটি ভাঙার সুপারিশ যথাযথ কিনা?

কোনো কারণে আপনার সঙ্গে বনিবনা হল না, আর যে কাউকে বহিষ্কার করে দিলেন- এভাবে হয় না। কমিটি নিয়ে বসতে হবে। কমিটির কাছে বহিষ্কারের জন্য সুপারিশ করতে পারেন। কিন্তু সরাসরি বহিষ্কার করতে পারবেন না।

দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক করে দিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, এখন সুসময়, কিন্তু দুঃসময় আসবে না; এটা কখনও ভাববেন না। কেউ কারও থাকবে না। আজকে নিজের মনে করে একজনকে নেতা বানাচ্ছেন। আপনার যখন খারাপ সময় আসবে আপনাকে সালামও দেবে না। কাজেই এসব নেতা বানিয়ে লাভ নেই।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, আবদুর রহমান ও শাহজাহান খান, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, প্রচার সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, পানিসম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম, আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মোহাম্মদ মন্নাফি, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন কবির প্রমুখ।

মার্চ মাসে কোনো সম্মেলন নয় : জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে মার্চ মাসে আওয়ামী লীগের নানা কর্মসূচি রয়েছে। এ কারণে ওই মাসে দলটির তৃণমূল সম্মেলন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এপ্রিল মাস থেকে পুনরায় সারা দেশে সম্মেলনের কার্যক্রম শুরু করবে দলটি।

সভায় ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক জেলা, মহানগরের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এবং সংসদ সদস্যদের এই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। এর আগে আওয়ামী লীগের দফতর থেকে ৬ মার্চের মধ্যে সারা দেশের জেলা-উপজেলা ও ইউনিয়নের কমিটি করার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। জানা যায়, মার্চ মাসের মধ্যে আওয়ামী লীগের আগের নির্দেশ অনুযায়ী রাজশাহী বিভাগের ৩টি জেলা ও অন্য ৫টি জেলার সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল।

সভায় বক্তারা বলেন, কমিটি দেয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করতে হবে। নিজের লোককে কমিটিতে এনে কোনো সিন্ডিকেট তৈরি করলে তার ফল ভালো হবে না।

'কোভিড-১৯' সর্বশেষ আপডেট

# আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ ৪৮ ১৫
বিশ্ব ৬,৫০,৫৬৭১,৩৯,৫৫২৩০,২৯৯
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

 
×