ঢাকা-১০ আসনে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম: নির্দিষ্ট স্থানে জনসভায় সব প্রার্থীকে সীমাবদ্ধ করতে চায় ইসি
jugantor
ঢাকা-১০ আসনে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম: নির্দিষ্ট স্থানে জনসভায় সব প্রার্থীকে সীমাবদ্ধ করতে চায় ইসি
২৩ ফেব্রুয়ারি সব প্রার্থীর সঙ্গে বসবেন রিটার্নিং কর্মকর্তা * প্রথম পর্যায়ে সফল হলে আচরণ বিধিতে এ সংক্রান্ত সংশোধনী আনার চিন্তা

  যুগান্তর রিপোর্ট  

২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নির্দিষ্ট স্থানে সব প্রার্থীকে পোস্টার সাঁটানো, মাইকিং ও জনসভায় সীমাবদ্ধ করতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এরই অংশ হিসেবে পরীক্ষামূলকভাবে ঢাকা-১০ সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে প্রার্থীদের এমনই প্রস্তাব দিতে যাচ্ছে কমিশন।

এতে ঢাকা-১০ আসনের ২১টি নির্দিষ্ট স্থানে পোস্টার টানানো, নির্ধারিত দিন ও সময়ে জনসভা বা শোভাযাত্রা করা এবং একই জায়গায় পর্যায়ক্রমে সকল প্রার্থীকে মাইকিং করার প্রস্তাব করা হবে।

আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের দিনে প্রার্থীদের এসব প্রস্তাব দিয়ে সমঝোতার আহ্বান জানানো হবে। এটি সফল হলে ক্রমান্বয়ে আরও কয়েকটি নির্বাচনে এর প্রয়োগ করবে নির্বাচন কমিশন। এতে সবার সাড়া মিললে আচরণ বিধিমালায় এসব বিধান যুক্তের চিন্তা রয়েছে ইসির।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এসব তথ্য জানিয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম যুগান্তরকে বলেন, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মাইকিংয়ের উচ্চশব্দ, প্রার্থীদের প্রচারের কারণে যানজট ও পোস্টারের জঞ্জালে নগরবাসীর জীবন অনেকটা অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। তাই আমরা একই স্থান থেকে প্রচার চালাতে প্রার্থীদের অনুরোধ করব। তবে আচরণ বিধিতে এসব বিধান যুক্ত করে তা সংশোধন করব না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসির কর্মকর্তারা জানান, রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালায় মাইকের ব্যবহার, ক্যাম্প স্থাপন, জনসভা ও পথসভার বিষয়ে স্পষ্ট বিধান রয়েছে। এসব বিধানের ফাঁক গলে প্রার্থীরা যথেচ্ছ প্রচার চালিয়ে আসছে। এতে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি হয়। এসব বিবেচনায় আচরণ বিধিমালায় না থাকা সত্ত্বেও কয়েকটি প্রস্তাব প্রার্থীদের দেয়া হবে। বিধিমালায় এসব বিধান না থাকায় এসব প্রস্তাব বাধ্যতামূলক নয়, তবে প্রার্থীদের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা করা হবে। এটি সফল হলে অন্য নির্বাচনগুলোতে এর প্রয়োগ করা হবে কিনা- সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

জানতে চাইলে ঢাকা-১০ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ঢাকা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা জিএম সাহাতাব উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের দিন সব প্রার্থীর কাছে আমাদের প্রস্তাব উপস্থাপন করব। তারা রাজি হলেই কেবল তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হবে।

জানা গেছে, প্রার্থীদের সঙ্গে বৈঠকের জন্য একটি কার্যপত্র তৈরি করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। এতে পাঁচটি সমঝোতা প্রস্তাব তুলে ধরা হচ্ছে। সেগুলো হচ্ছে- ঢাকা-১০ আসনে ২১টি জায়গা নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সেখানে নিজ নিজ স্ট্যান্ড স্থাপন করে পোস্টার ঝুলাতে পারবেন। এক একটি জায়গায় পর্যায়ক্রমে সকল প্রার্থী শব্দযন্ত্র ব্যবহার করে আচরণ বিধিমালায় বর্ণিত সময়কালে প্রচারণা চালাতে পারবেন। আইনে অনুমোদিত ডেসিবল মাত্রায় মাইক বা শব্দযন্ত্র ব্যবহার করতে হবে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা নির্ধারিত স্থানে শোভাযাত্রা ও পদযাত্রা সীমিত রাখতে হবে। নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ প্রত্যেক প্রার্থীকে এ লক্ষ্যে নির্দিষ্ট দিন ও সময় নির্ধারণ করে দেবেন। নির্বাচন কমিশন জনসভার জন্য এক বা একাধিক জায়গা নির্দিষ্ট করে দেবে। উক্ত নির্ধারিত স্থানে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে প্রার্থীরা পর্যায়ক্রমে সভা করবে।

এসব প্রস্তাবের কারণ হিসেবে ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনকে উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ওই কার্যপত্রে।

এতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে ৩০৪ মিলিয়ন বা সাড়ে ৩ কোটি পোস্টার ছাপা হয়েছে; যার ওজন প্রায় ৩৩ মেট্রিক টন। কিছু পোস্টার ইতিমধ্যে ড্রেনে পড়েছে। ঢাকা মহানগরীর জলাবদ্ধতা আরও বাড়িয়ে তুলছে। বাকি পোস্টার ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে পোড়ানো হলে ব্যাপক বায়ু দূষণ হবে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় সকল প্রার্থী আলাদা আলাদা স্ট্যান্ডে পোস্টার ঝুলিয়ে প্রচার চালালে পরিবেশ দূষণ ও জলাবদ্ধ থেকে শহর রক্ষা পাবে।

ক্যাম্প স্থাপনের বিষয়ে বলা হয়েছে, অনেক প্রার্থী রাস্তার ফুটপাতে নির্বাচনী ক্যাম্প স্থাপন করে প্রচার চালিয়েছে। এতে লোকজনের চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটে ও এ সকল জায়গায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। সভা, শোভাযাত্রা ও জনসভা ইত্যাদির মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারকালে অনেক সময় তা বড় মিছিলে রূপ নেয়, এতেও শহরবাসী ভোগান্তিতে পড়েন। পথসভা, শোভাযাত্রা ও জনসভা কয়েকটি নির্দিষ্ট জায়গার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হলে এ অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব বলে কার্যপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঢাকা-১০ আসনে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম: নির্দিষ্ট স্থানে জনসভায় সব প্রার্থীকে সীমাবদ্ধ করতে চায় ইসি

২৩ ফেব্রুয়ারি সব প্রার্থীর সঙ্গে বসবেন রিটার্নিং কর্মকর্তা * প্রথম পর্যায়ে সফল হলে আচরণ বিধিতে এ সংক্রান্ত সংশোধনী আনার চিন্তা
 যুগান্তর রিপোর্ট 
২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নির্দিষ্ট স্থানে সব প্রার্থীকে পোস্টার সাঁটানো, মাইকিং ও জনসভায় সীমাবদ্ধ করতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এরই অংশ হিসেবে পরীক্ষামূলকভাবে ঢাকা-১০ সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে প্রার্থীদের এমনই প্রস্তাব দিতে যাচ্ছে কমিশন।

এতে ঢাকা-১০ আসনের ২১টি নির্দিষ্ট স্থানে পোস্টার টানানো, নির্ধারিত দিন ও সময়ে জনসভা বা শোভাযাত্রা করা এবং একই জায়গায় পর্যায়ক্রমে সকল প্রার্থীকে মাইকিং করার প্রস্তাব করা হবে।

আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের দিনে প্রার্থীদের এসব প্রস্তাব দিয়ে সমঝোতার আহ্বান জানানো হবে। এটি সফল হলে ক্রমান্বয়ে আরও কয়েকটি নির্বাচনে এর প্রয়োগ করবে নির্বাচন কমিশন। এতে সবার সাড়া মিললে আচরণ বিধিমালায় এসব বিধান যুক্তের চিন্তা রয়েছে ইসির।

 সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এসব তথ্য জানিয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম যুগান্তরকে বলেন, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মাইকিংয়ের উচ্চশব্দ, প্রার্থীদের প্রচারের কারণে যানজট ও পোস্টারের জঞ্জালে নগরবাসীর জীবন অনেকটা অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। তাই আমরা একই স্থান থেকে প্রচার চালাতে প্রার্থীদের অনুরোধ করব। তবে আচরণ বিধিতে এসব বিধান যুক্ত করে তা সংশোধন করব না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসির কর্মকর্তারা জানান, রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালায় মাইকের ব্যবহার, ক্যাম্প স্থাপন, জনসভা ও পথসভার বিষয়ে স্পষ্ট বিধান রয়েছে। এসব বিধানের ফাঁক গলে প্রার্থীরা যথেচ্ছ প্রচার চালিয়ে আসছে। এতে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি হয়। এসব বিবেচনায় আচরণ বিধিমালায় না থাকা সত্ত্বেও কয়েকটি প্রস্তাব প্রার্থীদের দেয়া হবে। বিধিমালায় এসব বিধান না থাকায় এসব প্রস্তাব বাধ্যতামূলক নয়, তবে প্রার্থীদের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা করা হবে। এটি সফল হলে অন্য নির্বাচনগুলোতে এর প্রয়োগ করা হবে কিনা- সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। 

জানতে চাইলে ঢাকা-১০ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ঢাকা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা জিএম সাহাতাব উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের দিন সব প্রার্থীর কাছে আমাদের প্রস্তাব উপস্থাপন করব। তারা রাজি হলেই কেবল তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হবে।

জানা গেছে, প্রার্থীদের সঙ্গে বৈঠকের জন্য একটি কার্যপত্র তৈরি করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। এতে পাঁচটি সমঝোতা প্রস্তাব তুলে ধরা হচ্ছে। সেগুলো হচ্ছে- ঢাকা-১০ আসনে ২১টি জায়গা নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সেখানে নিজ নিজ স্ট্যান্ড স্থাপন করে পোস্টার ঝুলাতে পারবেন। এক একটি জায়গায় পর্যায়ক্রমে সকল প্রার্থী শব্দযন্ত্র ব্যবহার করে আচরণ বিধিমালায় বর্ণিত সময়কালে প্রচারণা চালাতে পারবেন। আইনে অনুমোদিত ডেসিবল মাত্রায় মাইক বা শব্দযন্ত্র ব্যবহার করতে হবে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা নির্ধারিত স্থানে শোভাযাত্রা ও পদযাত্রা সীমিত রাখতে হবে। নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ প্রত্যেক প্রার্থীকে এ লক্ষ্যে নির্দিষ্ট দিন ও সময় নির্ধারণ করে দেবেন। নির্বাচন কমিশন জনসভার জন্য এক বা একাধিক জায়গা নির্দিষ্ট করে দেবে। উক্ত নির্ধারিত স্থানে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে প্রার্থীরা পর্যায়ক্রমে সভা করবে।

এসব প্রস্তাবের কারণ হিসেবে ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনকে উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ওই কার্যপত্রে।

এতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে ৩০৪ মিলিয়ন বা সাড়ে ৩ কোটি পোস্টার ছাপা হয়েছে; যার ওজন প্রায় ৩৩ মেট্রিক টন। কিছু পোস্টার ইতিমধ্যে ড্রেনে পড়েছে। ঢাকা মহানগরীর জলাবদ্ধতা আরও বাড়িয়ে তুলছে। বাকি পোস্টার ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে পোড়ানো হলে ব্যাপক বায়ু দূষণ হবে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় সকল প্রার্থী আলাদা আলাদা স্ট্যান্ডে পোস্টার ঝুলিয়ে প্রচার চালালে পরিবেশ দূষণ ও জলাবদ্ধ থেকে শহর রক্ষা পাবে।

ক্যাম্প স্থাপনের বিষয়ে বলা হয়েছে, অনেক প্রার্থী রাস্তার ফুটপাতে নির্বাচনী ক্যাম্প স্থাপন করে প্রচার চালিয়েছে। এতে লোকজনের চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটে ও এ সকল জায়গায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। সভা, শোভাযাত্রা ও জনসভা ইত্যাদির মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারকালে অনেক সময় তা বড় মিছিলে রূপ নেয়, এতেও শহরবাসী ভোগান্তিতে পড়েন। পথসভা, শোভাযাত্রা ও জনসভা কয়েকটি নির্দিষ্ট জায়গার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হলে এ অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব বলে কার্যপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন