ঢাবির সান্ধ্যকালীন কোর্স নিয়ে একাট্টা আওয়ামী-বিএনপি পন্থী শিক্ষকরা
jugantor
ঢাবির সান্ধ্যকালীন কোর্স নিয়ে একাট্টা আওয়ামী-বিএনপি পন্থী শিক্ষকরা

  মাহাদী হাসান  

২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে বিভিন্ন বিষয়ে মতবিরোধ থাকলেও এবার সান্ধ্যকালীন কোর্স চালু রাখতে একাট্টা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামী ও বিএনপি-জামায়াত পন্থী শিক্ষকরা। এ জন্য দফায় দফায় হয়েছে অভ্যন্তরীণ ও যৌথ মিটিং।

এসব মিটিং থেকে সান্ধ্যকালীন কোর্স চালু রাখার পক্ষেই মতামত দিয়েছেন অধিকাংশ শিক্ষক। আর সাধারণ শিক্ষার্থীরা মনে করেন, আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্যই শিক্ষকদের এমন সিদ্ধান্ত।

গত বছরের ৯ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫২তম সমাবর্তনে সভাপতির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় সান্ধ্যকালীন কোর্স বন্ধের আহ্বান জানান। এরপরই ১১ ডিসেম্বর সান্ধ্যকালীন কোর্স পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈশিষ্ট্য ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে উল্লেখ করে এটি বন্ধের জন্য নির্দেশনা প্রদান করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন। ফলে নানা মহলে সান্ধ্যকালীন কোর্স নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

ঢাবিতে সান্ধ্যকালীন কোর্সের যৌক্তিকতা যাচাই করার জন্য গঠিত পাঁচ সদস্যের কমিটির তদন্ত রিপোর্টে এই কোর্সে সাময়িকভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ করার পরামর্শ দেয়া হয়। আর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি জরুরি একাডেমিক কাউন্সিলের সভা ডেকেছেন ঢাবি ভিসি অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান।

এদিকে একাডেমিক কাউন্সিলকে সামনে রেখে সান্ধ্যকালীন কোর্স চালু রাখার জন্য একাধিকবার মিটিং করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন নীল দল ও বিএনপি-জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দলের শিক্ষকরা।

মিটিংয়ে উপস্থিত এক শিক্ষক জানান, সোমবার ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের নীল দল ও সাদা দলের সিনিয়র শিক্ষকরা তাদের মতামত জানানোর জন্য একটি যৌথ মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করেন। এ মিটিংয়ে সান্ধ্যকালীন কোর্স চালু রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেন অধিকাংশ শিক্ষক। পাশাপাশি কিছু শিক্ষক এই কোর্স চালু রাখা হলে এর জন্য সুনির্দিষ্ট কিছু নীতিমালা তৈরির পরামর্শ দিয়েছেন।

এর ঠিক একদিন পর মঙ্গলবার অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার জন্য সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে মিটিং ডাকেন আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের নীল দল। এ মিটিং থেকেও সান্ধ্যকালীন কোর্স চালু রাখার বিষয়ে প্রস্তাব দেয়া হয়।

এ প্রসঙ্গে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের সাদা দলের আহ্বায়ক ও ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের সহযোগী অধ্যপক ড. মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, সান্ধ্যকালীন কোর্স চালু রাখা কোনো দলাদলির বিষয় নয়, আমাদের সামষ্টিক বিষয়। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় তথা ফ্যাকাল্টির একটা সিদ্ধান্তের বিষয়। তিনি আরও বলেন, আমরা দলমত নির্বিশেষে মনে করি, সান্ধ্যকালীন কোর্স থাকা উচিত।

ঢাবির সান্ধ্যকালীন কোর্স নিয়ে একাট্টা আওয়ামী-বিএনপি পন্থী শিক্ষকরা

 মাহাদী হাসান 
২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে বিভিন্ন বিষয়ে মতবিরোধ থাকলেও এবার সান্ধ্যকালীন কোর্স চালু রাখতে একাট্টা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামী ও বিএনপি-জামায়াত পন্থী শিক্ষকরা। এ জন্য দফায় দফায় হয়েছে অভ্যন্তরীণ ও যৌথ মিটিং।

এসব মিটিং থেকে সান্ধ্যকালীন কোর্স চালু রাখার পক্ষেই মতামত দিয়েছেন অধিকাংশ শিক্ষক। আর সাধারণ শিক্ষার্থীরা মনে করেন, আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্যই শিক্ষকদের এমন সিদ্ধান্ত।

গত বছরের ৯ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫২তম সমাবর্তনে সভাপতির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় সান্ধ্যকালীন কোর্স বন্ধের আহ্বান জানান। এরপরই ১১ ডিসেম্বর সান্ধ্যকালীন কোর্স পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈশিষ্ট্য ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে উল্লেখ করে এটি বন্ধের জন্য নির্দেশনা প্রদান করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন। ফলে নানা মহলে সান্ধ্যকালীন কোর্স নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

ঢাবিতে সান্ধ্যকালীন কোর্সের যৌক্তিকতা যাচাই করার জন্য গঠিত পাঁচ সদস্যের কমিটির তদন্ত রিপোর্টে এই কোর্সে সাময়িকভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ করার পরামর্শ দেয়া হয়। আর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি জরুরি একাডেমিক কাউন্সিলের সভা ডেকেছেন ঢাবি ভিসি অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান।

এদিকে একাডেমিক কাউন্সিলকে সামনে রেখে সান্ধ্যকালীন কোর্স চালু রাখার জন্য একাধিকবার মিটিং করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন নীল দল ও বিএনপি-জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দলের শিক্ষকরা।

মিটিংয়ে উপস্থিত এক শিক্ষক জানান, সোমবার ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের নীল দল ও সাদা দলের সিনিয়র শিক্ষকরা তাদের মতামত জানানোর জন্য একটি যৌথ মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করেন। এ মিটিংয়ে সান্ধ্যকালীন কোর্স চালু রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেন অধিকাংশ শিক্ষক। পাশাপাশি কিছু শিক্ষক এই কোর্স চালু রাখা হলে এর জন্য সুনির্দিষ্ট কিছু নীতিমালা তৈরির পরামর্শ দিয়েছেন।

এর ঠিক একদিন পর মঙ্গলবার অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার জন্য সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে মিটিং ডাকেন আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের নীল দল। এ মিটিং থেকেও সান্ধ্যকালীন কোর্স চালু রাখার বিষয়ে প্রস্তাব দেয়া হয়।

এ প্রসঙ্গে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের সাদা দলের আহ্বায়ক ও ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের সহযোগী অধ্যপক ড. মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, সান্ধ্যকালীন কোর্স চালু রাখা কোনো দলাদলির বিষয় নয়, আমাদের সামষ্টিক বিষয়। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় তথা ফ্যাকাল্টির একটা সিদ্ধান্তের বিষয়। তিনি আরও বলেন, আমরা দলমত নির্বিশেষে মনে করি, সান্ধ্যকালীন কোর্স থাকা উচিত।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন