অভিনব প্রতারণা: পুলিশের কাছে ‘পুলিশ’ পরিচয় দিয়ে শ্রীঘরে
jugantor
অভিনব প্রতারণা: পুলিশের কাছে ‘পুলিশ’ পরিচয় দিয়ে শ্রীঘরে

  মাহমুদুল হাসান নয়ন  

২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) সহকারী সুপার (এএসপি) পরিচয়ে কাজী অফিসে গিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে এক প্রতারক। একটি খেলনা পিস্তল বের করে ‘দেখিয়ে দেয়ার’ হুমকি দেয়। ‘ক্ষমতা দেখাতে’ মতিঝিল থানায় ফোন করে পুলিশ ডাকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই পুলিশের হাতেই গ্রেফতার হয় সে।

সম্প্রতি অভিনব এ প্রতারণার ঘটনা ঘটে মতিঝিলের এজিবি কলোনির বায়তুল মামুর জামে মসজিদ মার্কেটের কাজী অফিসে। প্রতারকের নাম জাফর আহম্মদ শুভ (৩২)। তার গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে। বাসা দক্ষিণ যাত্রবাড়ীতে।

ঘটনার শিকার কাজী অফিসের সহকারী রফিকুল ইসলাম সিদ্দিকী আল কোরাইশি যুগান্তরকে বলেন, গত বছর কলোনির ছেলেরা একটি রেস্টুরেন্টে এক ছেলে ও মেয়ের বিয়ের কাবিন করান। পাত্রের নাম হৃদয় হাসান (২৪)। চলতি মাসের ১৬ তারিখ রাত সোয়া আটটার দিকে মোজাম্মেল হোসেন (৩৩) নামের একজনকে নিয়ে পাত্র হৃদয় হাসান কাজী অফিসে এসে কাবিননামাটি চান। কাজী ময়নাল হোসেন তখন অফিসে ছিলেন না। এ কারণে ১৮ তারিখ তাদের আসতে বলি। কারণ কাজীর স্বাক্ষর ছাড়া কাবিন দেয়ার সুযোগ নেই। এতে মোজাম্মেল ক্ষিপ্ত হয়ে এক ব্যক্তিকে ফোন করেন। সোয়া নয়টার দিকে জাফর আহম্মদ শুভ নামে একজন এসে নিজেকে পুলিশের এএসপি (এসবি) পরিচয় দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। বিবাহের কাবিননামা ছিনিয়ে নেবে, ছিঁড়ে ফেলবে বলে হুমকি দেন। একপর্যায় প্যান্টের বাম পকেট থেকে পিস্তল বের করে দেখিয়ে নেয়ার ভয় দেখান। ক্ষমতা দেখাতে এএসপি পরিচয়ে মতিঝিল থানায় ফোন দিয়ে পুলিশও ডাকেন। থানা থেকে পুলিশ আসতেই তিনি (শুভ) নেমপ্লেট দেখে পুলিশ সদস্যদের ‘অমুক সাহেব, তমুক সাহেব’ বলে ডাকতে থাকেন। শুরুতে পুলিশ সদস্যরা তাকে ‘স্যার’ সম্বোধন করেন। পরে তার অযৌক্তিক দাবি ও অসংলগ্ন কথায় সন্দেহ বাড়ে পুলিশ সদস্যের মধ্যে। এরপর জিজ্ঞাসাবাদে ধরা পড়েন ওই প্রতারক। এ ঘটনায় পরদিন মতিঝিল থানায় বাদী হয়ে মামলা দায়ের করি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মতিঝিল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জাহাঙ্গীর আলম যুগান্তরকে বলেন, সে (শুভ) থানায় কল দিয়ে এএসপি পরিচয় দেয়। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে তার কথাবার্তা অসংলগ্ন মনে হয়। একপর্যায়ে জিজ্ঞাসাবাদে ধরা পড়ে প্রতারণা। প্রতারক পরে নিজেকে ব্যবসায়ী পরিচয় দেয় এবং তার স্ত্রী ডাক্তার বলে জানায়।

মতিঝিল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনির হোসেন মোল্লা বলেন, সে শুরুতে পুলিশ পরিচয় দিয়ে এক ধরনের প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে, পরে আবার পুলিশ ডেকে এএসপি পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে।

জানতে চাইলে পুলিশের মতিঝিল জোনের সহকারী কমিশনার জাহিদুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় মতিঝিল থানায় একটি মামলা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে প্রতারক শুভকে জেলে পাঠানো হয়েছে।

অভিনব প্রতারণা: পুলিশের কাছে ‘পুলিশ’ পরিচয় দিয়ে শ্রীঘরে

 মাহমুদুল হাসান নয়ন 
২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) সহকারী সুপার (এএসপি) পরিচয়ে কাজী অফিসে গিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে এক প্রতারক। একটি খেলনা পিস্তল বের করে ‘দেখিয়ে দেয়ার’ হুমকি দেয়। ‘ক্ষমতা দেখাতে’ মতিঝিল থানায় ফোন করে পুলিশ ডাকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই পুলিশের হাতেই গ্রেফতার হয় সে।

সম্প্রতি অভিনব এ প্রতারণার ঘটনা ঘটে মতিঝিলের এজিবি কলোনির বায়তুল মামুর জামে মসজিদ মার্কেটের কাজী অফিসে। প্রতারকের নাম জাফর আহম্মদ শুভ (৩২)। তার গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে। বাসা দক্ষিণ যাত্রবাড়ীতে।

ঘটনার শিকার কাজী অফিসের সহকারী রফিকুল ইসলাম সিদ্দিকী আল কোরাইশি যুগান্তরকে বলেন, গত বছর কলোনির ছেলেরা একটি রেস্টুরেন্টে এক ছেলে ও মেয়ের বিয়ের কাবিন করান। পাত্রের নাম হৃদয় হাসান (২৪)। চলতি মাসের ১৬ তারিখ রাত সোয়া আটটার দিকে মোজাম্মেল হোসেন (৩৩) নামের একজনকে নিয়ে পাত্র হৃদয় হাসান কাজী অফিসে এসে কাবিননামাটি চান। কাজী ময়নাল হোসেন তখন অফিসে ছিলেন না। এ কারণে ১৮ তারিখ তাদের আসতে বলি। কারণ কাজীর স্বাক্ষর ছাড়া কাবিন দেয়ার সুযোগ নেই। এতে মোজাম্মেল ক্ষিপ্ত হয়ে এক ব্যক্তিকে ফোন করেন। সোয়া নয়টার দিকে জাফর আহম্মদ শুভ নামে একজন এসে নিজেকে পুলিশের এএসপি (এসবি) পরিচয় দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। বিবাহের কাবিননামা ছিনিয়ে নেবে, ছিঁড়ে ফেলবে বলে হুমকি দেন। একপর্যায় প্যান্টের বাম পকেট থেকে পিস্তল বের করে দেখিয়ে নেয়ার ভয় দেখান। ক্ষমতা দেখাতে এএসপি পরিচয়ে মতিঝিল থানায় ফোন দিয়ে পুলিশও ডাকেন। থানা থেকে পুলিশ আসতেই তিনি (শুভ) নেমপ্লেট দেখে পুলিশ সদস্যদের ‘অমুক সাহেব, তমুক সাহেব’ বলে ডাকতে থাকেন। শুরুতে পুলিশ সদস্যরা তাকে ‘স্যার’ সম্বোধন করেন। পরে তার অযৌক্তিক দাবি ও অসংলগ্ন কথায় সন্দেহ বাড়ে পুলিশ সদস্যের মধ্যে। এরপর জিজ্ঞাসাবাদে ধরা পড়েন ওই প্রতারক। এ ঘটনায় পরদিন মতিঝিল থানায় বাদী হয়ে মামলা দায়ের করি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মতিঝিল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জাহাঙ্গীর আলম যুগান্তরকে বলেন, সে (শুভ) থানায় কল দিয়ে এএসপি পরিচয় দেয়। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে তার কথাবার্তা অসংলগ্ন মনে হয়। একপর্যায়ে জিজ্ঞাসাবাদে ধরা পড়ে প্রতারণা। প্রতারক পরে নিজেকে ব্যবসায়ী পরিচয় দেয় এবং তার স্ত্রী ডাক্তার বলে জানায়।

মতিঝিল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনির হোসেন মোল্লা বলেন, সে শুরুতে পুলিশ পরিচয় দিয়ে এক ধরনের প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে, পরে আবার পুলিশ ডেকে এএসপি পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে।

জানতে চাইলে পুলিশের মতিঝিল জোনের সহকারী কমিশনার জাহিদুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় মতিঝিল থানায় একটি মামলা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে প্রতারক শুভকে জেলে পাঠানো হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন