পুঠিয়ায় শ্রমিক নেতা হত্যামামলা: রায় বাস্তবায়নে অসহযোগিতার অভিযোগ

  যুগান্তর রিপোর্ট ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নুরুল ইসলাম। ফাইল ছবি

রাজশাহীর পুঠিয়ায় শ্রমিক নেতা নুরুল ইসলাম হত্যামামলার এজাহার পাল্টে দেয়ার ঘটনায় হাইকোর্টের দেয়া রায় বাস্তবায়নে পুলিশের অসহযোগিতার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটির কাজে পুলিশ বাধা দিচ্ছে বলেও নুরুল ইসলামের মেয়ে নিগার সুলতানা অভিযোগ করেছেন। পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বরাবরে তিনি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রাজশাহীর পুলিশ সুপার।

নিগার সুলতানার লিখিত অভিযোগে বলা হয়, এজাহার পাল্টে দেয়ার মামলায় হাইকোর্টের নির্দেশে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও রাজশাহী বিভাগীয় পুলিশ আলাদা তদন্ত কমিটি গঠন করে। সাক্ষ্যগ্রহণ ও রিমান্ডের আবেদনসহ বিভিন্ন কাজে স্থানীয় পুলিশ অসহযোগিতা করছে।

রাজশাহীর পুলিশ সুপার মো. শহীদুল্লাহ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মাহামুদুল হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মতিউর রহমান ও ডিবি পুলিশ সদস্য মো. রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে তিনি অভিযোগ করেন।

নিগার সুলতানা যুগান্তরকে বলেন, এক কিশোরকে (কথিত আসামি) গ্রেফতারের পর সংবাদ সম্মেলন করে পুলিশ তার পরিচয় ও ১৬৪ ধারার জবানবন্দি সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরে। এ খবর জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমেও প্রকাশ পায়। অথচ শিশু আইনে অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামির পরিচয় প্রকাশ করা যায় না।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শুক্রবার রাজশাহীর পুলিশ সুপার মো. শহীদুল্লাহ যুগান্তরকে বলেন, নুরুল ইসলাম হত্যামামলা নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও রাজশাহী বিভাগীয় পুলিশ তদন্ত করছে। তদন্ত কাজে আমাদের পক্ষ থেকে বাধা দেয়ার প্রশ্নই ওঠে না। নিগার সুলতানার অভিযোগ ঠিক নয়।

পুঠিয়া সড়ক পরিবহন মটর শ্রমিক ইউনিয়ন নির্বাচন নিয়ে বিরোধের জেরে শ্রমিক নেতা নুরুল ইসলাম খুন হন। গত বছরের ১১ জুন পুঠিয়ার কাঁঠালবাড়িয়া এলাকার একটি ইটভাটা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিগার সুলতানা থানায় এজাহার দাখিল করেন। কিন্তু নিগারের এজাহার গ্রহণ না করে সাদা কাগজে তার স্বাক্ষর নেয়া হয়। থানা থেকে কোনো তৎপরতা না দেখে এর কয়েকদিন পর নুরুলের স্ত্রী সাজেদা বেগম আদালতে নালিশি মামলা করেন।

শুনানিকালে নিগার সুলতানার স্বাক্ষর করা এজাহার হাজির করে থানা পুলিশ। এতে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি দেখানো হয়। এতে সন্দেহভাজন পাঁচজনের নাম দেয়া হয়।

এ এজাহারের বিষয়ে নিগার ও তার মা সাজেদা তখনই আপত্তি জানান। তারা বলেন, এটি তাদের এজাহার নয়। এরপর ১৮ জুলাই তারা আইজি, রাজশাহী রেঞ্জের পুলিশের ডিআইজি ও রাজশাহীর এসপির কাছে এজাহার বদলে ফেলার অভিযোগ করেন। কিন্তু পুলিশ প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এ অবস্থায় তারা হাইকোর্টে রিট করেন।

রিটের শুনানি নিয়ে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চ রুল জারি করেন এবং বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন। হাইকোর্টের নির্দেশে তদন্ত করে রাজশাহী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মেহেদী হাসান তালুকদার পুঠিয়া থানার তাৎকালিন ওসি শাকিল উদ্দিন আহমেদ বাপ্পিসহ পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিল করেন। গত বছর ৬ নভেম্বর প্রতিবেদনটি হাইকোর্টে পাঠানো হয়।

এরপর প্রতিবেদনটির ওপর শুনানি শেষে হাইকোর্ট পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) মামলাটির তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্তকালে আবেদনকারীর মূল এজাহার, রাজশাহীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের তদন্ত প্রতিবেদন ও সাক্ষ্য বিবেচনা করতে বলা হয়। এ তদন্ত কার্যক্রম তদারকি করতে পিবিআই প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদারকে নির্দেশ দেয়া হয়। গত বছর ১ ডিসেম্বর হাইকোর্ট বেঞ্চ বেশকিছু পর্যবেক্ষণসহ রায় দেন।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত