বিতর্কিত কাউন্সিলর প্রার্থীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার নেতাকর্মীরা
jugantor
চসিক নির্বাচনে আ’লীগের মনোনয়ন
বিতর্কিত কাউন্সিলর প্রার্থীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার নেতাকর্মীরা
সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে পুনর্বিবেচনা

  আহমেদ মুসা, চট্টগ্রাম ব্যুরো  

২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে মিথ্যা তথ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বাগিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে দলীয় মনোনয়ন বোর্ডে লিখিত অভিযোগও দেয়া হয়েছে।

এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। কয়েকজন প্রার্থীর বানোয়াট তথ্য দেয়ার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে তোলপাড় চলছে।

আওয়ামী লীগের উপদফতর সম্পাদক সায়েম খান শনিবার যুগান্তরকে বলেন, কাউন্সিলর পদে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার আগে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে কি না, তা জানাতে চারদিন সময় দেয়া হয়েছিল। প্রাপ্ত অভিযোগ যাচাই-বাছাইসহ সার্বিক বিবেচনা করে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।

এরপরও কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তার মনোনয়ন পুনর্বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে তা নির্ভর করবে মনোনয়ন বোর্ডের ওপর।

বিভিন্ন ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রাপ্ত বিতর্কিতদের মধ্যে রয়েছেন- ৪ নম্বর চান্দগাঁও ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সাইফুদ্দিন খালেদ সাইফু, ১৬ নম্বর চকবাজার ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সাইয়েদ গোলাম হায়দার মিন্টু, ৩১ নম্বর জামাল খান ওয়ার্ডের শৈবাল দাশ সুমন ও ৩৫ নম্বর বক্সিরহাট ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাজী নুরুল হক।

আওয়ামী লীগ নেতারা জানান, চসিকের ৪১টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ৪১ জন ও সংরক্ষিত (মহিলা) ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ১৪ জনকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়। কাউন্সিলর পদে বিতর্কিত অনেকজনকে মনোনয়ন দেয়া নিয়ে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে মনোনয়নবঞ্চিত ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অভিযোগ- আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন, এমন কেউ কেউ দলীয় মনোনয়ন বোর্ডে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। চিহ্নিত রাজাকারপুত্র ও বহু অপকর্মের সঙ্গে জড়িত এমন ব্যক্তিও নানা কৌশলে মনোনয়ন বাগিয়ে নিয়েছেন।

আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের অভিযোগ- চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৪ নম্বর চান্দগাঁও ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সাইফুদ্দিন খালেদ সাইফু চিহ্নিত রাজাকারপুত্র। গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বাগিয়ে নিয়ে তিনি কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। তবে তার নানা অপকর্মের কথা ওয়ার্ডের মানুষের মুখে মুখে।

পাঁচ বছর ধরে বিএনপি-জামায়াতের লোকজন ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের নিয়ে তিনি এলাকায় রাজত্ব কায়েম করেন। তার বিরুদ্ধে বাস-টেম্পো-মাইক্রো স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি, জমি দখল, সরকারি জায়গায় কবরস্থান তৈরি এবং মন্ত্রী ও মেয়রের নামফলক ভেঙে ফেলার মতো অভিযোগ রয়েছে। তার এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে এলাকায় মানববন্ধন কর্মসূচিসহ নানা প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়। এরপরও তিনি দলীয় মনোনয়ন পাওয়ায় এলাকাবাসী বিস্মিত।

এদিকে ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর সাইয়েদ গোলাম হায়দার মিন্টুর দলীয় সমর্থন প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে শনিবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন চকবাজার থানা ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতারা। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চকবাজার থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাফর আহমেদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, মিন্টুকে আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় মনোনয়ন দেয়ায় স্থানীয় নেতাকর্মীরা বিব্রতবোধ করছেন। মনোনয়ন বোর্ডের কাছে মিন্টু নিজেকে চকবাজার থানা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা উল্লেখ করে আবেদন করেছেন। অথচ চকবাজার থানা আওয়ামী লীগের কোনো উপদেষ্টা পরিষদ নেই। আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে মিন্টু কখনও জড়িত ছিলেন না।

তিনি বলেন, কাউন্সিলর হিসেবে ১৯৭৭ সালে মিন্টুর আত্মপ্রকাশ ঘটে। যখন যে দল ক্ষমতায় ছিল, মিন্টু সেই দলের সঙ্গে সখ্য রেখে চলেছেন। যে ব্যক্তি কখনও জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু উচ্চারণ করেননি, তাকে প্রার্থী হিসেবে দলীয় সমর্থন দেয়ায় দুর্দিনের ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে।

২১ নম্বর জামাল খান ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন নিজেকে ২১ নম্বর জামালখান ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য পরিচয় দিয়েছেন। প্রকৃতপক্ষে তিনি আওয়ামী লীগের কোনো পদে নেই।

৩৫ নম্বর বক্সির হাট ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর হাজী নুরুল হকের বিরুদ্ধেও উঠেছে তথ্য গোপনের অভিযোগ। তিনি নিজেকে মহানগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অথচ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যের নাম নুরুল হক। তার বাড়ি হালিশহর বড়পুল এলাকায়।

তথ্য গোপন করে নুরুল হকের মনোনয়ন আদায় করার প্রতিবাদ ও মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে শনিবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে এলাকাবাসী মানববন্ধন করেছে।

মিথ্যা তথ্য দেয়ার অভিযোগে হাজী নুরুল হকের বিরুদ্ধে ৩৫ নম্বর বক্সিরহাট ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কাউন্সিলর প্রার্থী ফয়েজ উল্লাহ চৌধুরী বাহাদুর আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডে চিঠি দিয়েছেন। তবে হাজী নুরুল হক বলেছেন, নির্বাচন এলেই তার বিরুদ্ধে বাহাদুর ষড়যন্ত্র করেন। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

চসিক নির্বাচনে আ’লীগের মনোনয়ন

বিতর্কিত কাউন্সিলর প্রার্থীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার নেতাকর্মীরা

সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে পুনর্বিবেচনা
 আহমেদ মুসা, চট্টগ্রাম ব্যুরো 
২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে মিথ্যা তথ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বাগিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে দলীয় মনোনয়ন বোর্ডে লিখিত অভিযোগও দেয়া হয়েছে।

এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। কয়েকজন প্রার্থীর বানোয়াট তথ্য দেয়ার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে তোলপাড় চলছে।

আওয়ামী লীগের উপদফতর সম্পাদক সায়েম খান শনিবার যুগান্তরকে বলেন, কাউন্সিলর পদে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার আগে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে কি না, তা জানাতে চারদিন সময় দেয়া হয়েছিল। প্রাপ্ত অভিযোগ যাচাই-বাছাইসহ সার্বিক বিবেচনা করে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।

এরপরও কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তার মনোনয়ন পুনর্বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে তা নির্ভর করবে মনোনয়ন বোর্ডের ওপর।

বিভিন্ন ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রাপ্ত বিতর্কিতদের মধ্যে রয়েছেন- ৪ নম্বর চান্দগাঁও ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সাইফুদ্দিন খালেদ সাইফু, ১৬ নম্বর চকবাজার ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সাইয়েদ গোলাম হায়দার মিন্টু, ৩১ নম্বর জামাল খান ওয়ার্ডের শৈবাল দাশ সুমন ও ৩৫ নম্বর বক্সিরহাট ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাজী নুরুল হক।

আওয়ামী লীগ নেতারা জানান, চসিকের ৪১টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ৪১ জন ও সংরক্ষিত (মহিলা) ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ১৪ জনকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়। কাউন্সিলর পদে বিতর্কিত অনেকজনকে মনোনয়ন দেয়া নিয়ে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে মনোনয়নবঞ্চিত ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অভিযোগ- আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন, এমন কেউ কেউ দলীয় মনোনয়ন বোর্ডে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। চিহ্নিত রাজাকারপুত্র ও বহু অপকর্মের সঙ্গে জড়িত এমন ব্যক্তিও নানা কৌশলে মনোনয়ন বাগিয়ে নিয়েছেন।

আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের অভিযোগ- চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৪ নম্বর চান্দগাঁও ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সাইফুদ্দিন খালেদ সাইফু চিহ্নিত রাজাকারপুত্র। গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বাগিয়ে নিয়ে তিনি কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। তবে তার নানা অপকর্মের কথা ওয়ার্ডের মানুষের মুখে মুখে।

পাঁচ বছর ধরে বিএনপি-জামায়াতের লোকজন ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের নিয়ে তিনি এলাকায় রাজত্ব কায়েম করেন। তার বিরুদ্ধে বাস-টেম্পো-মাইক্রো স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি, জমি দখল, সরকারি জায়গায় কবরস্থান তৈরি এবং মন্ত্রী ও মেয়রের নামফলক ভেঙে ফেলার মতো অভিযোগ রয়েছে। তার এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে এলাকায় মানববন্ধন কর্মসূচিসহ নানা প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়। এরপরও তিনি দলীয় মনোনয়ন পাওয়ায় এলাকাবাসী বিস্মিত।

এদিকে ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর সাইয়েদ গোলাম হায়দার মিন্টুর দলীয় সমর্থন প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে শনিবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন চকবাজার থানা ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতারা। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চকবাজার থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাফর আহমেদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, মিন্টুকে আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় মনোনয়ন দেয়ায় স্থানীয় নেতাকর্মীরা বিব্রতবোধ করছেন। মনোনয়ন বোর্ডের কাছে মিন্টু নিজেকে চকবাজার থানা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা উল্লেখ করে আবেদন করেছেন। অথচ চকবাজার থানা আওয়ামী লীগের কোনো উপদেষ্টা পরিষদ নেই। আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে মিন্টু কখনও জড়িত ছিলেন না।

তিনি বলেন, কাউন্সিলর হিসেবে ১৯৭৭ সালে মিন্টুর আত্মপ্রকাশ ঘটে। যখন যে দল ক্ষমতায় ছিল, মিন্টু সেই দলের সঙ্গে সখ্য রেখে চলেছেন। যে ব্যক্তি কখনও জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু উচ্চারণ করেননি, তাকে প্রার্থী হিসেবে দলীয় সমর্থন দেয়ায় দুর্দিনের ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে।

২১ নম্বর জামাল খান ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন নিজেকে ২১ নম্বর জামালখান ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য পরিচয় দিয়েছেন। প্রকৃতপক্ষে তিনি আওয়ামী লীগের কোনো পদে নেই।

৩৫ নম্বর বক্সির হাট ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর হাজী নুরুল হকের বিরুদ্ধেও উঠেছে তথ্য গোপনের অভিযোগ। তিনি নিজেকে মহানগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অথচ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যের নাম নুরুল হক। তার বাড়ি হালিশহর বড়পুল এলাকায়।

তথ্য গোপন করে নুরুল হকের মনোনয়ন আদায় করার প্রতিবাদ ও মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে শনিবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে এলাকাবাসী মানববন্ধন করেছে।

মিথ্যা তথ্য দেয়ার অভিযোগে হাজী নুরুল হকের বিরুদ্ধে ৩৫ নম্বর বক্সিরহাট ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কাউন্সিলর প্রার্থী ফয়েজ উল্লাহ চৌধুরী বাহাদুর আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডে চিঠি দিয়েছেন। তবে হাজী নুরুল হক বলেছেন, নির্বাচন এলেই তার বিরুদ্ধে বাহাদুর ষড়যন্ত্র করেন। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : চসিক নির্বাচন ২০২০

২৭ জানুয়ারি, ২০২১
২৬ জানুয়ারি, ২০২১