চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন: পরিকল্পিত নগরী গড়তে চান রেজাউল

শাহাদাতের লক্ষ্য পর্যটননির্ভর ‘স্মার্ট সিটি’

  মজুমদার নাজিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম ব্যুরো ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) নির্বাচন সামনে রেখে ইশতেহার তৈরির কাজ শুরু করেছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী ও বিএনপি প্রার্র্থী ডা. শাহাদাত হোসেন। কয়েক দিনের মধ্যেই দুই প্রার্থীর ইশতেহার চূড়ান্ত হবে।

বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য প্রফেসর ড. অনুপম সেনের নেতৃত্বে তৈরি হচ্ছে রেজাউলের ইশতেহার। আর শাহাদাতের ইশতেহার তৈরি করছেন বিএনপিপন্থী পেশাজীবীদের একটি দল- যেখানে আছেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক থেকে শুরু করে বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধিরা।

দুই প্রার্থীই চমক দেখাতে চান ইশতেহারে। নজর কাড়তে চান ভোটারদের। জলাবদ্ধতাসহ নাগরিক সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ প্রার্থী গড়ে তুলতে চান ‘পরিকল্পিত ও পরিচ্ছন্ন নগরী’। প্রয়াত মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী যেভাবে সহজ পন্থায় গৃহকর আদায় করতেন রেজাউল সে পদ্ধতিই ফিরিয়ে আনতে চান। অপরদিকে বিএনপি প্রার্থীর লক্ষ্য নাগরিক সমস্যার সমাধান করে চট্টগ্রামকে ব্যবসায়িক হাব এবং পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলা। মূলত পর্যটন ও ব্যবসা-বাণিজ্যবান্ধব ‘স্মার্ট সিটি’ গড়ে তোলাই তার লক্ষ্য। গৃহকর আদায়ের ক্ষেত্রে বিএনপি প্রার্থী নগরবাসীর মতামতের ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেবেন বলে জানিয়েছেন।

আওয়ামী লীগ প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, ‘আমার ইশতেহার তৈরি হচ্ছে। প্রখ্যাত সমাজবিজ্ঞানী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য প্রফেসর ড. অনুপম সেন কয়েকজন পেশাজীবীকে সঙ্গে নিয়ে ইশতেহার তৈরি করছেন। আমি আমার মতামত দিয়েছি। এর সঙ্গে ড. অনুপম সেনের চিন্তাধারা যুক্ত হবে। পুরো ইশতেহার প্রস্তুত হতে আরও কয়েকদিন সময় লাগবে।

তিনি বলেন, ইশতেহারে চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধানকে প্রাধান্য দেয়া হবে। জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকারের একটি মেগা প্রকল্প চলমান। এ প্রকল্পের কথা ইশতেহারে থাকবে। এর বাইরে সিটি কর্পোরেশন এক্ষেত্রে কি কি করতে পরে তাও তুলে ধরা হবে। জলাবদ্ধতা সমস্যা ছাড়াও সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক বাণিজ্য রোধ, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, স্যুয়ারেজ এসব নাগরিক সমস্যা সমাধানের কথা থাকবে। তরুণদের জন্য খেলার মাঠ নেই, বিনোদনের ব্যবস্থা নেই। এ বিষয়ে আমার ব্যক্তিগত চিন্তাভাবনা রয়েছে।

আওয়ামী লীগ প্রার্থী বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় চট্টগ্রাম নগরীকে একটি পরিকল্পিত নগরী হিসেবে গড়ে তুলব। এই পরিকল্পিত নগরী কিভাবে করতে চাই তার রূপরেখা ইশতেহারে থাকবে। বর্তমান মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন আমার দলের। তার যেসব কাজ অসমাপ্ত রয়েছে, সেগুলো বেগবান করব। তার আগে আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী চট্টগ্রামকে মডেল সিটি হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়ে সারা দেশে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছিলেন। তিনি অনেক কিছুই করেছেন। তার চিন্তাভাবনাও আমার ইশতেহারে থাকবে। তার আয়বর্ধক প্রকল্পগুলো সাড়া জাগিয়েছিল। এটা নিয়েও আমি চিন্তাভাবনা করছি। মহিউদ্দিন চৌধুরী যেসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি সেগুলো আমি বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করব। একটি পরিকল্পিত, সুন্দর, সন্ত্রাস, মাদক ও যানজটমুক্ত নগরী গড়ে তুলতে চাই। নাগরিকদের যেসব মৌলিক চাহিদা রয়েছে ইশতেহার সেসব চাহিদার আলোকে তৈরি করা হবে।

নির্বাচিত হলে জনগণের ওপর গৃহকরের বাড়তি বোঝা চাপাতে চান না রেজাউল করিম। এক্ষেত্রে বর্তমান মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের গৃহকর আদায়ের পদ্ধতি অনুসরণ না করে মহিউদ্দিন চৌধুরীর সময়কার সহনীয় গৃহকর ব্যবস্থা চালু করতে চান তিনি।

এ প্রসঙ্গে রেজাউল করিম চৌধুরী আরও বলেন, গৃহকর নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। মহিউদ্দিন ভাই যে পদ্ধতি অনুসরণ করেছিলেন আমিও সেটাই করব যাতে নগরবাসীর ওপর কোনো চাপ না পড়ে।

বিএনপি প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন জানিয়েছেন, তার ইশতেহার তৈরির জন্য পোশাজবীদের সমন্বয়ে একটি কমিটি হচ্ছে। দু-এক দিনের মধ্যেই কমিটি কাজ শুরু করবে। তিনি বলেন, ‘ভৌগোলিকভাবে চট্টগ্রাম গুরুত্বপূর্ণ শহর। এখানে আছে বঙ্গোপসাগর। দেশের সবচেয়ে বড় সমুদ্রবন্দর। তাই এখানকার অর্থনীতি সমুদ্রকেন্দ্রিক এবং পর্যটননির্ভর। আমি চট্টগ্রামকে একটি ব্যবসায়িক হাব এবং পরিচ্ছন্ন, সুন্দর, সবুজ নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এক কথায় বলা যায়, স্মার্ট সিটি হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এজন্য রাস্তাঘাট, অবকাঠামো নির্মাণ, যানজট নিরসনসহ যা যা করা দরকার তার সবই করব।’

শাহাদাত বলেন, ‘আমাদের অর্থনীতির চালিকাশক্তি হল শ্রম জনশক্তি এবং গার্মেন্ট শিল্প। কিন্তু গার্মেন্ট শিল্প এখন খারাপ সময় অতিক্রম করছে। এ শিল্পের পাশাপাশি চট্টগ্রামের পাহাড় ও সমুদ্র সম্পদকে কাজে লাগিয়ে যদি পর্যটন শিল্প গড়ে তুলতে পারি, তাহলে বিকল্প আয়ের উৎস তৈরি হবে। শ্রীলংকা, মালদ্বীপ, নেপালসহ আমাদের আশপাশের অনেক দেশ পর্যটননির্ভর অর্থনীতিতে উন্নতি করেছে। চট্টগ্রাম একটি পর্যটন শহর। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই এটার উন্নয়ন করতে হবে।’

জলাবদ্ধতা নিরসনের বিষয়টিকেও ইশতেহারে প্রাধান্য দেয়া হবে জানিয়ে ডা. শাহাদাত বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনের দায়িত্ব এখন মূলত সিডিএর কাছে চলে গেছে। তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া হবে। গৃহকর আদায়ের ক্ষেত্রে নগরবাসীর সঙ্গে বৈঠকের পর তাদের মতামতের ভিত্তিতে যে পদ্ধতিটি গ্রহণযোগ্য হবে সেটাই অনুসরণ করা হবে।

ঘটনাপ্রবাহ : চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন ২০২০

আরও
 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত