রোহিঙ্গাদের জন্য ৮৭ কোটি ডলার চায় জাতিসংঘ

  যুগান্তর ডেস্ক ০৪ মার্চ ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

জাতিসংঘ জানিয়েছে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় চলতি বছর ৮৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার প্রয়োজন।

সংস্থাটির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং সহযোগী এনজিও যে যৌথ কর্মপরিকল্পনা (জেআরপি) ঘোষণা করেছে, সেখানেই উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে এই অর্থ চাওয়া হয়েছে।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মঙ্গলবার বলা হয়, মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া প্রায় ৮ লাখ ৫৫ হাজার রোহিঙ্গার পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকটে দুর্দশায় পড়া ৪ লাখ ৪৪ হাজার বাংলাদেশির জন্য ব্যয় হবে এ অর্থ।

ইউএনএইচসিআরের হাইকমিশনার ফিলিপো গ্র্যান্ডি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের অবস্থান এবং ভবিষ্যতে তাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন উভয় ক্ষেত্রেই তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২০২০ সালের এই যৌথ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন গুরুত্বপূর্ণ।

যতদিন না নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন সম্ভব হচ্ছে, ততদিন রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি বাংলাদেশের সঙ্গে থাকতে বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

যৌথ কর্মপরিকল্পনায় বলা হয়েছে, ওই ৮৭ কোটি ৭০ লাখ ডলারের ৫৫ শতাংশই প্রয়োজন হবে খাদ্য, আশ্রয়, সুপেয় পানি এবং পয়ঃনিষ্কাশনের জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে। এছাড়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, শিক্ষা, আশ্রয় কেন্দ্রের ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি ও পরিবেশ সংক্রান্ত কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পাশাপাশি স্থানীয় বাংলাদেশিদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে বাকি অর্থ প্রয়োজন বলে জানানো হয়েছে পরিকল্পনায়।

জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা আইওএমের মহাপরিচালক আন্তোনিও ভিতোরিনো বলেন, ২০১৭ সালের আগস্টে এ সংকটের সূচনা থেকেই আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলো শরণার্থীদের জীবন রক্ষার জন্য জরুরি সহায়তা দিয়ে আসছে। ২০১৯ সালে ক্যাম্পে থাকা সব রোহিঙ্গার বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের কাজ শেষ হয়েছে, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

গত বছর যৌথ কর্মপরিকল্পনায় ৯২ কোটি ১০ লাখ ডলারের তহবিল চেয়েছিল জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা ও সহযোগী এনজিও। এর মধ্যে তারা হাতে পেয়েছিল ৬৫ কোটি ডলার, যা প্রত্যাশার ৭০ শতাংশের মতো।

রোহিঙ্গা সহায়তায় ৩১ মিলিয়ন ইউরো বরাদ্দ ইউরোপিয়ান কমিশনের : রোহিঙ্গাদের জন্য ইউরোপিয়ান কমিশন ৩১ মিলিয়ন ইউরো (২৯২ কোটি ৬০ লাখ) বরাদ্দ দিয়েছে। বাংলাদেশের রোহিঙ্গা সংকট ও মিয়ানমারে এই অর্থসহায়তা ব্যয় হবে। সংস্থাটির সংকট ব্যবস্থাপনা কমিশনার জানেজ ল্যানাসিস বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকট উত্তোরণে এই সহায়তা আমাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। বাংলাদেশ ও মিয়ানমারে অবস্থানকারী রোহিঙ্গাদের মানবিক দিক বিবেচনা করে এ সহায়তার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

কমিশনের ওয়েবসাইটে বলা হয়, ৩১ মিলিয়ন ইউরো সহায়তার ১৮.৫ মিলিয়ন ব্যয় হবে বাংলাদেশে অবস্থানকারী রোহিঙ্গা ও সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয়দের জন্য। স্বাস্থ্য সহায়তা, খাদ্য সংকট দূর এবং শিক্ষার উন্নয়নে এসব অর্থ ব্যয় হবে। ৩.৫ মিলিয়ন ইউরো ব্যয় হবে স্থানীয়দের পুনর্বাসন এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য।

৬.৫ মিলিয়ন ইউরো ব্যবহার হবে মিয়ানমারের রাখাইন, কাচিন ও শান প্রদেশের রোহিঙ্গাদের জন্য। তাদের স্বাস্থ্য, পুষ্টি, শিক্ষা ও আশ্রয়ের কাজে এ অর্থ ব্যয় হবে। বাকি ২.৫ মিলিয়ন ইউরো স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় ব্যয় হবে। ২০১৯ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২৭ মিলিয়ন অর্থ সহায়তা দিয়েছিল।

ঘটনাপ্রবাহ : রোহিঙ্গা বর্বরতা

আরও

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত