ডাকঘর সঞ্চয় স্কিম: সুদহার নিয়ে ইউটার্ন অর্থ মন্ত্রণালয়ের
jugantor
ডাকঘর সঞ্চয় স্কিম: সুদহার নিয়ে ইউটার্ন অর্থ মন্ত্রণালয়ের
১৭ মার্চ থেকে আগের ১১.২৮ শতাংশ কার্যকর

  যুগান্তর রিপোর্ট  

১২ মার্চ ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আ হ ম মুস্তফা কামাল।

ডাকঘর সঞ্চয় স্কিমের সুদহার নিয়ে ইউটার্ন নিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। ১৭ মার্চ থেকে এই সুদের হার আগের মতো ১১ দশমিক ২৮-এ আবারও ফিরে যাবে। একই দিন চালু হবে ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকে অনলাইন (অটোমেশন) পদ্ধতি। এতে কালো টাকা এবং অতিরিক্ত বিনিয়োগ বন্ধ হবে।

বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘জাতীয় সঞ্চয় স্কিম অনলাইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’-এর এ নতুন মডিউলটি উদ্বোধনকালে এ সুদহার ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম, অর্থ সচিব আবদুর রউফ তালুকদার, জাতীয় সঞ্চয় অধিদফতরের মহাপরিচালক সামছুন্নাহার বেগম, ডাক অধিদফতরের মহাপরিচালক সুধাংশ শেখর ভদ্র প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ডাকঘর সঞ্চয় স্কিমে সুদহার প্রায় অর্ধেক করে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি একটি পরিপত্র জারি করে। ওই পরিপত্র অনুযায়ী সুদের হার কমেছে ডাকঘরের সঞ্চয় স্কিমের মেয়াদি হিসাব ও সাধারণ হিসাবে। সাধারণ হিসাবের ক্ষেত্রে সুদের হার সাড়ে সাত শতাংশ থেকে কমিয়ে পাঁচ শতাংশ করা হয়েছে।

আর তিন বছর মেয়াদি ডাকঘর সঞ্চয় স্কিমের সুদের হার হবে ছয় শতাংশ, যা এতদিন ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ ছিল। মেয়াদপূর্তির আগে ভাঙানোর ক্ষেত্রে এক বছরের জন্য সুদ মিলবে পাঁচ শতাংশ, আগে যা ছিল ১০ দশমিক ২০ শতাংশ। দুই বছরের ক্ষেত্রে তা সাড়ে পাঁচ শতাংশ, আগে যা ছিল ১০ দশমিক ৭০ শতাংশ।

ডাকঘরের সঞ্চয় স্কিমে সুদহার অর্ধেক করায় সংসদের ভেতর ও বাইরে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। সমালোচনার মুখে ডাকঘর সঞ্চয় স্কিমের সুদের হারের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী। সেই আশ্বাসের ভিত্তিতে অর্থমন্ত্রী বলেন, ১৭ মার্চের মধ্যে ডাকঘর সঞ্চয় স্কিমের সুদের হার আগের মতো ১১ দশমিক ২৮ শতাংশে আবারও ফিরে যাবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘যাদের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য আমরা এ স্কিমটি চালু করেছি, তাদের জন্যই এটা সীমাবদ্ধ রাখতে চাই। কিন্তু আমরা কোনোভাবেই কারও স্বার্থে হাত দেইনি। ব্যবসায়ীরা এসে ডাকঘর সঞ্চয়পত্র কিনুক, এটা আমরা চাই না। আমি আশা করি, ১৭ মার্চ ডকঘর জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীতে সঞ্চয় স্কিমে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে। সেদিন আমরা অনলাইনে এ কার্যক্রম পূর্ণমাত্রায় শুরু করতে পারব।’

আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘ডিমান্ড ডিপোজিট সাত দশমিক পাঁচ এবং ফিক্সড টাইমে হবে ১১ পয়েন্ট ২৮, যা আগের রেট তা-ই থাকছে। যে আয়টা করবে এখান থেকে, তা ট্যাক্স ফ্রি না। আয়কর দিতে হবে। এজন্য টিন নম্বর ও ন্যাশনাল আইডি নিচ্ছি।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে এলেই তার পরিচয় থেকেই সব তথ্য নিয়ে মুহূর্তেই হিসাব খোলা যাবে। পরিচয়পত্রধারী ডাকঘর সঞ্চয় স্কিমে বিনিয়োগ করতে পারবে। একজন এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করতে পারবেন। এক্ষেত্রে ই-টিআইএন সনদও জমা দিতে হবে।

তবে ই-টিআইএন সনদ ছাড়াই ১ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৯ টাকা পর্যন্ত নগদ টাকা সঞ্চয় ব্যাংকে রাখা যাবে। দুই লাখ টাকার বেশি হলে অবশ্যই ব্যাংকের চেকের মাধ্যমে পরিশোধ করার পাশাপাশি ই-টিআইএন সনদ জমা দিতে হবে। পাশাপাশি দিতে হবে সঞ্চয়কারীর ব্যাংক হিসাব নম্বর, মোবাইল নম্বর।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, অটোমেশনের ফলে গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী মুনাফার অর্থ ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের (ইএফটি) মাধ্যমে ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে। গ্রাহক মোবাইল ও ই-মেইলের মাধ্যমে তার হিসাবে জমা, উত্তোলন ও স্থিতির তথ্য জানতে পারবেন।

ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘দুটি কারণে এটি স্মরণীয় মুহূর্ত। বলা হচ্ছিল, ডাক বিভাগ এখন কাফনের কাপড় পরে কবরে যাওয়ার জন্য তৈরি হয়েছে এবং উত্থানের আর সুযোগ নেই। কিন্তু আজ এ ঘটনায় ভিন্ন চিন্তা তৈরি করেছে। ডাক বিভাগ নিয়ে এটি অগ্রণী ভূমিকা পালন করে ডিজিটাল ডাকঘরে রূপান্তরিত হচ্ছে।’

ডাকঘর সঞ্চয় স্কিম: সুদহার নিয়ে ইউটার্ন অর্থ মন্ত্রণালয়ের

১৭ মার্চ থেকে আগের ১১.২৮ শতাংশ কার্যকর
 যুগান্তর রিপোর্ট 
১২ মার্চ ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
আ হ ম মুস্তফা কামাল।
আ হ ম মুস্তফা কামাল। ফাইল ছবি

ডাকঘর সঞ্চয় স্কিমের সুদহার নিয়ে ইউটার্ন নিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। ১৭ মার্চ থেকে এই সুদের হার আগের মতো ১১ দশমিক ২৮-এ আবারও ফিরে যাবে। একই দিন চালু হবে ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকে অনলাইন (অটোমেশন) পদ্ধতি। এতে কালো টাকা এবং অতিরিক্ত বিনিয়োগ বন্ধ হবে। 

বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘জাতীয় সঞ্চয় স্কিম অনলাইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’-এর এ নতুন মডিউলটি উদ্বোধনকালে এ সুদহার ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম, অর্থ সচিব আবদুর রউফ তালুকদার, জাতীয় সঞ্চয় অধিদফতরের মহাপরিচালক সামছুন্নাহার বেগম, ডাক অধিদফতরের মহাপরিচালক সুধাংশ শেখর ভদ্র প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ডাকঘর সঞ্চয় স্কিমে সুদহার প্রায় অর্ধেক করে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি একটি পরিপত্র জারি করে। ওই পরিপত্র অনুযায়ী সুদের হার কমেছে ডাকঘরের সঞ্চয় স্কিমের মেয়াদি হিসাব ও সাধারণ হিসাবে। সাধারণ হিসাবের ক্ষেত্রে সুদের হার সাড়ে সাত শতাংশ থেকে কমিয়ে পাঁচ শতাংশ করা হয়েছে।

আর তিন বছর মেয়াদি ডাকঘর সঞ্চয় স্কিমের সুদের হার হবে ছয় শতাংশ, যা এতদিন ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ ছিল। মেয়াদপূর্তির আগে ভাঙানোর ক্ষেত্রে এক বছরের জন্য সুদ মিলবে পাঁচ শতাংশ, আগে যা ছিল ১০ দশমিক ২০ শতাংশ। দুই বছরের ক্ষেত্রে তা সাড়ে পাঁচ শতাংশ, আগে যা ছিল ১০ দশমিক ৭০ শতাংশ।

ডাকঘরের সঞ্চয় স্কিমে সুদহার অর্ধেক করায় সংসদের ভেতর ও বাইরে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। সমালোচনার মুখে ডাকঘর সঞ্চয় স্কিমের সুদের হারের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী। সেই আশ্বাসের ভিত্তিতে অর্থমন্ত্রী বলেন, ১৭ মার্চের মধ্যে ডাকঘর সঞ্চয় স্কিমের সুদের হার আগের মতো ১১ দশমিক ২৮ শতাংশে আবারও ফিরে যাবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘যাদের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য আমরা এ স্কিমটি চালু করেছি, তাদের জন্যই এটা সীমাবদ্ধ রাখতে চাই। কিন্তু আমরা কোনোভাবেই কারও স্বার্থে হাত দেইনি। ব্যবসায়ীরা এসে ডাকঘর সঞ্চয়পত্র কিনুক, এটা আমরা চাই না। আমি আশা করি, ১৭ মার্চ ডকঘর জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীতে সঞ্চয় স্কিমে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে। সেদিন আমরা অনলাইনে এ কার্যক্রম পূর্ণমাত্রায় শুরু করতে পারব।’

আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘ডিমান্ড ডিপোজিট সাত দশমিক পাঁচ এবং ফিক্সড টাইমে হবে ১১ পয়েন্ট ২৮, যা আগের রেট তা-ই থাকছে। যে আয়টা করবে এখান থেকে, তা ট্যাক্স ফ্রি না। আয়কর দিতে হবে। এজন্য টিন নম্বর ও ন্যাশনাল আইডি নিচ্ছি। 

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে এলেই তার পরিচয় থেকেই সব তথ্য নিয়ে মুহূর্তেই হিসাব খোলা যাবে। পরিচয়পত্রধারী ডাকঘর সঞ্চয় স্কিমে বিনিয়োগ করতে পারবে। একজন এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করতে পারবেন। এক্ষেত্রে ই-টিআইএন সনদও জমা দিতে হবে।

তবে ই-টিআইএন সনদ ছাড়াই ১ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৯ টাকা পর্যন্ত নগদ টাকা সঞ্চয় ব্যাংকে রাখা যাবে। দুই লাখ টাকার বেশি হলে অবশ্যই ব্যাংকের চেকের মাধ্যমে পরিশোধ করার পাশাপাশি ই-টিআইএন সনদ জমা দিতে হবে। পাশাপাশি দিতে হবে সঞ্চয়কারীর ব্যাংক হিসাব নম্বর, মোবাইল নম্বর।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, অটোমেশনের ফলে গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী মুনাফার অর্থ ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের (ইএফটি) মাধ্যমে ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে। গ্রাহক মোবাইল ও ই-মেইলের মাধ্যমে তার হিসাবে জমা, উত্তোলন ও স্থিতির তথ্য জানতে পারবেন। 

ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘দুটি কারণে এটি স্মরণীয় মুহূর্ত। বলা হচ্ছিল, ডাক বিভাগ এখন কাফনের কাপড় পরে কবরে যাওয়ার জন্য তৈরি হয়েছে এবং উত্থানের আর সুযোগ নেই। কিন্তু আজ এ ঘটনায় ভিন্ন চিন্তা তৈরি করেছে। ডাক বিভাগ নিয়ে এটি অগ্রণী ভূমিকা পালন করে ডিজিটাল ডাকঘরে রূপান্তরিত হচ্ছে।’