ব্যবসায়ীদের কারসাজিতেই বাড়ে পেঁয়াজের দাম
jugantor
ভারতের রফতানি আদেশের প্রভাব বাজারে
ব্যবসায়ীদের কারসাজিতেই বাড়ে পেঁয়াজের দাম

  যুগান্তর রিপোর্ট  

১৩ মার্চ ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ব্যবসায়ীদের কারসাজিতেই বাড়ে পেঁয়াজের দাম

নতুন করে পেঁয়াজ আমদানি না হলেও ভারতের রফতানি আদেশের পর থেকে কমতে শুরু করেছে দাম। বৃহস্পতিবার রাজধানীর পাইকারি পর্যায়ে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ২৫ টাকা। যা এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছে ৪০ টাকা।

ভোক্তারা বলছেন, ভারত পেঁয়াজ রফতানি আদেশের পর থেকেই দেশের বাজারে দাম কমাতে শুরু করেছে। এর থেকেই প্রমাণিত হয় দেশের সংকটকালে অসাধু ব্যবসায়ীরা কারসাজি করে আকাশচুম্বী দরে পেঁয়াজ বিক্রি করেছেন। এ অসাধুদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, ভারতের পেঁয়াজ দেশে আশার সংবাদে মোকামে যে যে দামে পারছে সে দামে পেঁয়াজ বিক্রি করে গুদাম খালি করছে।

রাজধানীর পাইকারি আড়ত শ্যামবাজার ঘুরে ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায, প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকা। যা এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছে ৪০ টাকা। আর একই পেঁয়াজ দুই সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছে ৬০-৬৫ টাকা।

পাইকারি ব্যবসায়ী শাহিন বলেন, মোকামে পেঁয়াজের দর কমিয়ে দিয়েছে। মোকাম মালিকরা যে যে দামে পারছেন পেঁয়াজ বিক্রি করে গুদাম খালি করছেন। কারণ ১৫ তারিখ থেকে ভারতের পেঁয়াজ দেশে আসতে শুরু করবে। এছাড়া দেশি পেঁয়াজ ভরপুর ভাবে বাজারে আসছে। তাই যাদের কাছে এখনও পেঁয়াজ আছে তা বিক্রি করে দিচ্ছে। এজন্য পেঁয়াজের দাম কমে আসছে।

এদিকে শ্যামবাজারের পেঁয়াজ আমদানিকারক শংকর চন্দ্র ঘোষ বলেন, এখন পর্যন্ত সব কিছু ঠিকঠাক আছে। ১৫ তারিখ থেকে ভারতের পেঁয়াজ দেশের বাজারে প্রবেশ করবে। এছাড়া সীমান্তে পেঁয়াজ ভর্তি ট্রাক অপেক্ষা করছে। আদেশ জারি হলেই দেশের বাজারে ঢুকবে। এতে পেঁয়াজের দাম আবার ক্রেতার নাগালে চলে আসবে।

রাজধানীর কারওয়ান বাজার, শান্তিনগর কাঁচাবাজার, নয়াবাজার ঘুরে খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকা। যা ১ সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছে ৬০-৭০ টাকা। এছাড়া আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৫০-৬০ টাকা। যা এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয় ৬৫-৭০ টাকা।

এদিকে পাইকারি থেকে খুচরা দামের ব্যবধানের কথা জানতে চাইলে, নয়াবাজারে পেঁয়াজ বিক্রেতা মো. সুমন বলেন, সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কমছে। তবে যে সপ্তাহে বেশি দরে কেনা হয়েছে তাও রয়ে গেছে। এছাড়া যাতায়াত ভাড়া ও অন্যান্য খরচ তুলতে গিয়ে খুচরায় পেঁয়াজের দর একটু বেশি পরে যাচ্ছে। তবে, ভারতের পেঁয়াজ বাজারে আসলেই খুচরাতে দাম ২৫ টাকা কেজি দরে চলে আসবে।

একই বাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসা জাকির হোসেন বলেন, পেঁয়াজ নিয়ে ব্যবসায়ীদের কারসাজি দৃশ্যমান। ভারত রফতানি বন্ধের ঘোষণা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দেয়। রাজধানীতে এক কেজি পেঁয়াজ ২৬০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। আবার ভারত যখন পেঁয়াজ রফতানির নির্দেশ দিল, পেঁয়াজ না এলেও দেশের বাজারে সব ধরনের পেঁয়াজের দাম কমতে থাকল।

কিন্তু দেখা যাচ্ছে দেশের বাজারে গত এক মাস আগে যে পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে, ঠিক একই পরিমাণে এখনও আমদানি হচ্ছে। কিন্তু দাম উঠানামা করিয়েছেন বিক্রেতারা। তাই পেঁয়াজের দাম বাড়ানোর পেছনে যারা জড়িত আছে, তাদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হোক।

ভারতের রফতানি আদেশের প্রভাব বাজারে

ব্যবসায়ীদের কারসাজিতেই বাড়ে পেঁয়াজের দাম

 যুগান্তর রিপোর্ট 
১৩ মার্চ ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
ব্যবসায়ীদের কারসাজিতেই বাড়ে পেঁয়াজের দাম
ফাইল ছবি

নতুন করে পেঁয়াজ আমদানি না হলেও ভারতের রফতানি আদেশের পর থেকে কমতে শুরু করেছে দাম। বৃহস্পতিবার রাজধানীর পাইকারি পর্যায়ে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ২৫ টাকা। যা এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছে ৪০ টাকা।

ভোক্তারা বলছেন, ভারত পেঁয়াজ রফতানি আদেশের পর থেকেই দেশের বাজারে দাম কমাতে শুরু করেছে। এর থেকেই প্রমাণিত হয় দেশের সংকটকালে অসাধু ব্যবসায়ীরা কারসাজি করে আকাশচুম্বী দরে পেঁয়াজ বিক্রি করেছেন। এ অসাধুদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, ভারতের পেঁয়াজ দেশে আশার সংবাদে মোকামে যে যে দামে পারছে সে দামে পেঁয়াজ বিক্রি করে গুদাম খালি করছে।

রাজধানীর পাইকারি আড়ত শ্যামবাজার ঘুরে ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায, প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকা। যা এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছে ৪০ টাকা। আর একই পেঁয়াজ দুই সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছে ৬০-৬৫ টাকা।

পাইকারি ব্যবসায়ী শাহিন বলেন, মোকামে পেঁয়াজের দর কমিয়ে দিয়েছে। মোকাম মালিকরা যে যে দামে পারছেন পেঁয়াজ বিক্রি করে গুদাম খালি করছেন। কারণ ১৫ তারিখ থেকে ভারতের পেঁয়াজ দেশে আসতে শুরু করবে। এছাড়া দেশি পেঁয়াজ ভরপুর ভাবে বাজারে আসছে। তাই যাদের কাছে এখনও পেঁয়াজ আছে তা বিক্রি করে দিচ্ছে। এজন্য পেঁয়াজের দাম কমে আসছে।

এদিকে শ্যামবাজারের পেঁয়াজ আমদানিকারক শংকর চন্দ্র ঘোষ বলেন, এখন পর্যন্ত সব কিছু ঠিকঠাক আছে। ১৫ তারিখ থেকে ভারতের পেঁয়াজ দেশের বাজারে প্রবেশ করবে। এছাড়া সীমান্তে পেঁয়াজ ভর্তি ট্রাক অপেক্ষা করছে। আদেশ জারি হলেই দেশের বাজারে ঢুকবে। এতে পেঁয়াজের দাম আবার ক্রেতার নাগালে চলে আসবে।

রাজধানীর কারওয়ান বাজার, শান্তিনগর কাঁচাবাজার, নয়াবাজার ঘুরে খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকা। যা ১ সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছে ৬০-৭০ টাকা। এছাড়া আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৫০-৬০ টাকা। যা এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয় ৬৫-৭০ টাকা।

এদিকে পাইকারি থেকে খুচরা দামের ব্যবধানের কথা জানতে চাইলে, নয়াবাজারে পেঁয়াজ বিক্রেতা মো. সুমন বলেন, সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কমছে। তবে যে সপ্তাহে বেশি দরে কেনা হয়েছে তাও রয়ে গেছে। এছাড়া যাতায়াত ভাড়া ও অন্যান্য খরচ তুলতে গিয়ে খুচরায় পেঁয়াজের দর একটু বেশি পরে যাচ্ছে। তবে, ভারতের পেঁয়াজ বাজারে আসলেই খুচরাতে দাম ২৫ টাকা কেজি দরে চলে আসবে।

একই বাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসা জাকির হোসেন বলেন, পেঁয়াজ নিয়ে ব্যবসায়ীদের কারসাজি দৃশ্যমান। ভারত রফতানি বন্ধের ঘোষণা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দেয়। রাজধানীতে এক কেজি পেঁয়াজ ২৬০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। আবার ভারত যখন পেঁয়াজ রফতানির নির্দেশ দিল, পেঁয়াজ না এলেও দেশের বাজারে সব ধরনের পেঁয়াজের দাম কমতে থাকল।

কিন্তু দেখা যাচ্ছে দেশের বাজারে গত এক মাস আগে যে পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে, ঠিক একই পরিমাণে এখনও আমদানি হচ্ছে। কিন্তু দাম উঠানামা করিয়েছেন বিক্রেতারা। তাই পেঁয়াজের দাম বাড়ানোর পেছনে যারা জড়িত আছে, তাদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হোক।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন