দেশেই পাপিয়ার ৫ কোটি টাকার খোঁজ
jugantor
দেশেই পাপিয়ার ৫ কোটি টাকার খোঁজ
৬ জনের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং মামলার অনুমোদন * যে কোনো সময় মামলা : সিআইডির ডিআইজি ইমতিয়াজ আহমেদ

  সিরাজুল ইসলাম  

২০ মার্চ ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক শামীমা নূর পাপিয়ার ৫ কোটি ১০ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদের খোঁজ মিলেছে।

সংঘবদ্ধ প্রতারণা, চাঁদাবাজি ও ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে এই টাকা অর্জন করেছেন পাপিয়া। তার প্রতারণার খপ্পরে যারা পড়েছে, তাদের মধ্যে অনেকের নামই পাওয়া গেছে।

ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি) ওই ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথাও বলেছেন। তবে পাপিয়ার অপরাধ জগতের সহায়তাকারী হিসেবে এরই মধ্যে সিআইডি ৫ জনকে চিহ্নিত করেছে। দু-একদিনের মধ্যে পাপিয়ার সঙ্গে এই ৫ জনকে আসামি করে মামলা করা হবে।

বৃহস্পতিবার তাদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে মামলার অনুমোদনও দেয়া হয়েছে। গুলশান থানায় মামলা হতে পারে। পুলিশের অতিরিক্ত আইজি ও সিআইডি প্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন যুগান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সূত্র জানায়, পাপিয়ার সঙ্গে যাদের আসামি করা হচ্ছে তাদের মধ্যে পাপিয়ার স্বামী মফিজুর রহমান সুমন ছাড়াও রয়েছেন তাদের সহযোগী যোবায়ের আলম, সাব্বির খন্দকার, শেখ তাবিয়া নূর এবং মো. বশির। আরেকটি সূত্র বলছে, আসামির তালিকায় আরও কয়েকজন থাকতে পারে।

মামলার এজাহারও প্রায় প্রস্তুত বলে জানা গেছে। এজাহারে ৫ কোটি ৯ লাখ ৭৭ হাজার ৭৬১ টাকা লন্ডারিংয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, পাপিয়া রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে ৪ মাস ১০ দিন অবস্থান করেন। গত বছর ১২ অক্টোবর থেকে ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ওই অভিজাত হোটেলে তার নামে বরাদ্দ কক্ষের সংখ্যা ছিল ২৬টি। তিনি হোটেল বিলই দেন ৩ কোটি ২৩ লাখ ২৪ হাজার ৭৬১ টাকা।

এছাড়া ঢাকায় কার এক্সচেঞ্জ শোরুমে তার বিনিয়োগের পরিমাণ এক কোটি টাকা, কেএমসি এন্টারপ্রাইজ ও কেএমসি কার ওয়াশ অ্যান্ড সলিউশন নামের একটি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করেছেন ২০ লাখ টাকা। এছাড়া রাজধানীর ইন্দিরা রোডের একটি ফ্ল্যাটে বছরে ৬ লাখ টাকা ভাড়া পরিশোধ করেছেন এবং পাপিয়ার কাছে নগদ ৬০ লাখ টাকাও পাওয়া যায়।

এর বাইরে এজাহারে পাপিয়ার দুটি সঞ্চয়ী, দুটি চলতি হিসাব এবং তিনটি স্থায়ী আমানতের কথা উল্লেখ করা হচ্ছে। এতে অর্থের পরিমাণ কয়েক লাখ টাকা। এসবই এজাহারে উল্লেখ করা হচ্ছে। পাপিয়া দম্পতির বৈধ কোনো আয় না থাকলেও তারা বিপুল পরিমাণ অর্থ অর্জন করেছেন।

তবে তাদের অবৈধ আয়ের একটি বড় অংশ বিদেশে পাচার করেছেন। তবে ঠিক কি পরিমাণ অর্থ তারা দেশের বাইরে পাচার করেছেন তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে। এজাহারে তাদের যেসব স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের খোঁজ পাওয়া গেছে তাও উল্লেখ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিআইডির ডিআইজি ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, এ পর্যন্ত আমরা পাপিয়ার যে সম্পদের তথ্য পেয়েছি তা তার জীবনাচরণের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। বিদেশে পাচার করা টাকার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট একাধিক দেশে তথ্য চাওয়া হয়েছে। স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের বিষয়ে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত যেসব তথ্য পেয়েছি সেসব তথ্যের ভিত্তিতে শিগগিরই মামলা করা হবে। তদন্তে বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে আসবে।

২২ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে দেশত্যাগের সময় পাপিয়াসহ চারজনকে আটক করে র‌্যাব। গ্রেফতার অন্যরা হলেন পাপিয়ার স্বামী মফিজুর রহমান, সাব্বির খন্দকার ও শেখ তায়িবা নূর।

এরপর তাদের নিয়ে ফার্মগেট ও নরসিংদীর বাসায় অভিযান চালানো হয়। র‌্যাবের এ অভিযানে ১টি বিদেশি পিস্তল, ২টি পিস্তলের ম্যাগাজিন, ২০টি পিস্তলের গুলি, ৫ বোতল দামি বিদেশি মদ, ৫৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা, ৫টি পাসপোর্ট, ৩টি চেকবই, বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা, বিভিন্ন ব্যাংকের ১০টি ভিসা ও এটিএম কার্ড উদ্ধার করে।

পরে তাদের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা করা হয়। প্রথমে থানা পুলিশ তদন্ত করলেও ২৬ ফেব্রুয়ারি তিনটি মামলার তদন্তভার ন্যস্ত করা হয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওপর। পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক নির্দেশে ১০ মার্চ মামলা তিনটির তদন্ত র‌্যাবের হাতে ন্যস্ত করা হয়।

১১ মার্চ পাপিয়া দম্পতিকে আদালতে হাজির করে তিন মামলায় ফের ১০ দিন করে ৩০ দিনের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন জানায় র‌্যাব। পরে আদালত তাদের ৫ দিন করে ১৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

অপরদিকে পাপিয়ার দুই সহযোগী সাব্বির খন্দকার ও শেখ তাবিয়া নূরকে ১৫ ফেব্রুয়ারি তিন দিনের রিমান্ডে নেয় র‌্যাব। রিমান্ড শেষে এরই মধ্যে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন র‌্যাব পরিচালক লে. কর্নেল সারওয়ার-বিন-কাশেম।

দেশেই পাপিয়ার ৫ কোটি টাকার খোঁজ

৬ জনের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং মামলার অনুমোদন * যে কোনো সময় মামলা : সিআইডির ডিআইজি ইমতিয়াজ আহমেদ
 সিরাজুল ইসলাম 
২০ মার্চ ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক শামীমা নূর পাপিয়ার ৫ কোটি ১০ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদের খোঁজ মিলেছে।

সংঘবদ্ধ প্রতারণা, চাঁদাবাজি ও ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে এই টাকা অর্জন করেছেন পাপিয়া। তার প্রতারণার খপ্পরে যারা পড়েছে, তাদের মধ্যে অনেকের নামই পাওয়া গেছে।

ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি) ওই ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথাও বলেছেন। তবে পাপিয়ার অপরাধ জগতের সহায়তাকারী হিসেবে এরই মধ্যে সিআইডি ৫ জনকে চিহ্নিত করেছে। দু-একদিনের মধ্যে পাপিয়ার সঙ্গে এই ৫ জনকে আসামি করে মামলা করা হবে।

বৃহস্পতিবার তাদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে মামলার অনুমোদনও দেয়া হয়েছে। গুলশান থানায় মামলা হতে পারে। পুলিশের অতিরিক্ত আইজি ও সিআইডি প্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন যুগান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সূত্র জানায়, পাপিয়ার সঙ্গে যাদের আসামি করা হচ্ছে তাদের মধ্যে পাপিয়ার স্বামী মফিজুর রহমান সুমন ছাড়াও রয়েছেন তাদের সহযোগী যোবায়ের আলম, সাব্বির খন্দকার, শেখ তাবিয়া নূর এবং মো. বশির। আরেকটি সূত্র বলছে, আসামির তালিকায় আরও কয়েকজন থাকতে পারে।

মামলার এজাহারও প্রায় প্রস্তুত বলে জানা গেছে। এজাহারে ৫ কোটি ৯ লাখ ৭৭ হাজার ৭৬১ টাকা লন্ডারিংয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, পাপিয়া রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে ৪ মাস ১০ দিন অবস্থান করেন। গত বছর ১২ অক্টোবর থেকে ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ওই অভিজাত হোটেলে তার নামে বরাদ্দ কক্ষের সংখ্যা ছিল ২৬টি। তিনি হোটেল বিলই দেন ৩ কোটি ২৩ লাখ ২৪ হাজার ৭৬১ টাকা।

এছাড়া ঢাকায় কার এক্সচেঞ্জ শোরুমে তার বিনিয়োগের পরিমাণ এক কোটি টাকা, কেএমসি এন্টারপ্রাইজ ও কেএমসি কার ওয়াশ অ্যান্ড সলিউশন নামের একটি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করেছেন ২০ লাখ টাকা। এছাড়া রাজধানীর ইন্দিরা রোডের একটি ফ্ল্যাটে বছরে ৬ লাখ টাকা ভাড়া পরিশোধ করেছেন এবং পাপিয়ার কাছে নগদ ৬০ লাখ টাকাও পাওয়া যায়।

এর বাইরে এজাহারে পাপিয়ার দুটি সঞ্চয়ী, দুটি চলতি হিসাব এবং তিনটি স্থায়ী আমানতের কথা উল্লেখ করা হচ্ছে। এতে অর্থের পরিমাণ কয়েক লাখ টাকা। এসবই এজাহারে উল্লেখ করা হচ্ছে। পাপিয়া দম্পতির বৈধ কোনো আয় না থাকলেও তারা বিপুল পরিমাণ অর্থ অর্জন করেছেন।

তবে তাদের অবৈধ আয়ের একটি বড় অংশ বিদেশে পাচার করেছেন। তবে ঠিক কি পরিমাণ অর্থ তারা দেশের বাইরে পাচার করেছেন তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে। এজাহারে তাদের যেসব স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের খোঁজ পাওয়া গেছে তাও উল্লেখ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিআইডির ডিআইজি ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, এ পর্যন্ত আমরা পাপিয়ার যে সম্পদের তথ্য পেয়েছি তা তার জীবনাচরণের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। বিদেশে পাচার করা টাকার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট একাধিক দেশে তথ্য চাওয়া হয়েছে। স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের বিষয়ে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত যেসব তথ্য পেয়েছি সেসব তথ্যের ভিত্তিতে শিগগিরই মামলা করা হবে। তদন্তে বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে আসবে।

২২ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে দেশত্যাগের সময় পাপিয়াসহ চারজনকে আটক করে র‌্যাব। গ্রেফতার অন্যরা হলেন পাপিয়ার স্বামী মফিজুর রহমান, সাব্বির খন্দকার ও শেখ তায়িবা নূর।

এরপর তাদের নিয়ে ফার্মগেট ও নরসিংদীর বাসায় অভিযান চালানো হয়। র‌্যাবের এ অভিযানে ১টি বিদেশি পিস্তল, ২টি পিস্তলের ম্যাগাজিন, ২০টি পিস্তলের গুলি, ৫ বোতল দামি বিদেশি মদ, ৫৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা, ৫টি পাসপোর্ট, ৩টি চেকবই, বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা, বিভিন্ন ব্যাংকের ১০টি ভিসা ও এটিএম কার্ড উদ্ধার করে।

পরে তাদের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা করা হয়। প্রথমে থানা পুলিশ তদন্ত করলেও ২৬ ফেব্রুয়ারি তিনটি মামলার তদন্তভার ন্যস্ত করা হয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওপর। পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক নির্দেশে ১০ মার্চ মামলা তিনটির তদন্ত র‌্যাবের হাতে ন্যস্ত করা হয়।

১১ মার্চ পাপিয়া দম্পতিকে আদালতে হাজির করে তিন মামলায় ফের ১০ দিন করে ৩০ দিনের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন জানায় র‌্যাব। পরে আদালত তাদের ৫ দিন করে ১৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

অপরদিকে পাপিয়ার দুই সহযোগী সাব্বির খন্দকার ও শেখ তাবিয়া নূরকে ১৫ ফেব্রুয়ারি তিন দিনের রিমান্ডে নেয় র‌্যাব। রিমান্ড শেষে এরই মধ্যে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন র‌্যাব পরিচালক লে. কর্নেল সারওয়ার-বিন-কাশেম।

 

 

ঘটনাপ্রবাহ : পাপের রাজ্যে পাপিয়া