বরিশাল পটুয়াখালী ভোলায় না আসার অনুরোধ
jugantor
বরিশাল পটুয়াখালী ভোলায় না আসার অনুরোধ
বিদেশ ফেরত সাড়ে ৭ হাজার হোম কোয়ারেন্টিনের বাইরে * দক্ষিণের ৬ জেলায় প্রস্তুত ৯১৯টি করোনা বেড

  আকতার ফারুক শাহিন, বরিশাল ব্যুরো  

২১ মার্চ ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাভাইরাস নিয়ে শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ। বরিশাল বিভাগে শুক্রবার পর্যন্ত ৭৬৪ জন প্রবাসীকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। যদিও চলতি মাসে বিদেশ থেকে এসেছেন ৮ হাজারের বেশি মানুষ। খোঁজ না মেলা বাকি প্রবাসীদের নিয়েই এখন টেনশন। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, বিদেশ ফেরত এসব ব্যক্তির তথ্য পেতে উপজেলা ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের কাজে লাগানো হয়েছে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছেও চাওয়া হয়েছে সহযোগিতা।

এদিকে করোনা প্রতিরোধে সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে নেমেছে স্বাস্থ্য বিভাগসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মীরা। এরই মধ্যে পর্যটকদের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা ও বরগুনার শুভ সন্ধ্যা সমুদ্রসৈকত। বৃহস্পতিবার থেকে বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে সেখানকার সব হোটেল মোটেল রিসোর্ট। বরিশাল, ভোলা ও পটুয়াখালীতে বাইরের জেলা থেকে কাউকে না আসতে জেলা প্রশাসন থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। হোম কোয়ারেন্টিন প্রশ্নে বরিশাল নগরীসহ বিভিন্ন জেলা-উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে দফায় দফায় চলছে অভিযান। নির্দেশনা অমান্য করায় অন্তত ডজনখানেক প্রবাসীকে জরিমানাও করা হয়েছে। কোচিং সেন্টার চালু রাখায় কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে সেন্টারের এক পরিচালককে।

চীনে করোনার সংক্রমণ দেখা দেয়ার পর থেকেই বরিশালসহ বিভাগের ৬ জেলায় সচেতনতামূলক প্রচারসহ নানা কার্যক্রম শুরু করে স্বাস্থ্য বিভাগ। করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য ৯১৯টি শয্যা প্রস্তুতের খবরও জানায় তারা। এর মধ্যে বরিশালের একটি বেসরকারি হাসপাতালে রয়েছে ২৫০ শয্যা। এছাড়া বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে খোলা করোনা ইউনিটে ১৫০টি শয্যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকীর হোসেন। বরিশাল সদর হাসপাতালসহ জেলার ১০ উপজেলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে আরও ৩৬টি বেড।

বরিশাল বিভাগীয় প্রশাসন সূত্রে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৬ জেলায় হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন ৭৬৪ জন। এদের মধ্যে বরিশালে ১৪৫, বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ৬, বরগুনায় ১৪৫, পিরোজপুরে ১২০, ঝালকাঠিতে ৯১, পটুয়াখালীতে ৭৭ এবং ভোলা জেলায় ১৮০ জন।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক দফতরের সহকারী পরিচালক শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল বলেন, আমরা সিভিল অ্যাসোসিয়েশন থেকে বরিশাল বিভাগের বিদেশ ফেরতদের একটি তালিকা পেয়েছি। ওই তালিকায় গত কয়েক মাসে যারা বিদেশ থেকে ফিরেছে তাদের বর্ণনা রয়েছে। আমরা চলতি মাসে যারা ফিরেছে তাদের আলাদা করার কাজ করছি। এই কাজ শেষ হলেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

তবে বরিশালের ৬ জেলার সিভিল সার্জনরা বলছেন, জেলাগুলোতে পুলিশের বিশেষ শাখা থেকে সরবরাহ করা যে তথ্য রয়েছে তাতে চলতি মাসে ৮ হাজারের বেশি প্রবাসী দেশে ফিরেছেন। এদের প্রায় সবারই স্থায়ী ঠিকানা বরিশালসহ বিভাগের ৬ জেলা। হিসাব অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে বরিশাল জেলায় প্রায় ৩ হাজার, বরগুনায় ৮৫০, পিরোজপুরে ১ হাজার ৬শ’, ভোলায় ১ হাজার ৪শ’, পটুয়াখালীতে ১ হাজার ১শ’ এবং ঝালকাঠিতে ৪০৬ জন বিদেশ থেকে ফিরেছেন।

তারা বলেন, কোয়ারেন্টিনের বাইরে থাকা প্রবাসীদের খুঁজে বের করার কাজ শুরু হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীরা কাজ করছে। উপজেলা, ইউনিয়ন এমনকি ওয়ার্ড পর্যায়ে পর্যন্ত কাজ করছে তারা। এছাড়া সংশ্লিষ্ট জেলা-উপজেলার করোনা প্রতিরোধ কমিটি এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বারদের কাছেও সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। এরা এলাকায় থাকলে তাৎক্ষণিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা কিংবা হোম কোয়ারেন্টিনে নেয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এলাকায় না থাকলে যেখানে আছে সেখানকার স্বাস্থ্য বিভাগকে তাদের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানানো হবে।

পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, জেলায় ১১শ’ মানুষ বিদেশ থেকে এলেও কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন মাত্র ৭৭ জন। আমরা বাকিদের খুঁজে বের করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়ার উদ্যোগ নিয়েছি। ভোলার দৌলতখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তারা বলেন, এই উপজেলায় বিদেশ ফেরতদের সংখ্যা ৯৬। কোয়ারেন্টিনে আছেন ৬ জন। আমাদের কাছে বাকি ৯০ জনেরই কোনো খবর নেই।

বরিশাল জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান জানান, বাইরের জেলার লোকজনকে না আসতে অনুরোধ করা হয়েছে। বরিশাল নাগরিক পরিষদের সদস্য সচিব ডা. মিজানুর রহমান বলেন, দেশে ফেরা প্রবাসীদের যে তালিকাটি এখন তৈরি করা কিংবা জেলায় জেলায় পাঠানো হচ্ছে সেটি আরও আগে করা হলে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। তাছাড়া বিভিন্ন বিভাগ না ঘুরিয়ে সরাসরি এয়ার পোর্ট থেকে জেলাওয়ারি প্রশাসনের কাছে এই তালিকা দৈনিক ভিত্তিতে পাঠানো হলে কাজটি আরও সহজ হতো। শুরু থেকেই বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে দেখা হলে আজকের এই আশঙ্কা সৃষ্টি হতো না।

বরিশাল পটুয়াখালী ভোলায় না আসার অনুরোধ

বিদেশ ফেরত সাড়ে ৭ হাজার হোম কোয়ারেন্টিনের বাইরে * দক্ষিণের ৬ জেলায় প্রস্তুত ৯১৯টি করোনা বেড
 আকতার ফারুক শাহিন, বরিশাল ব্যুরো 
২১ মার্চ ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাভাইরাস নিয়ে শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ। বরিশাল বিভাগে শুক্রবার পর্যন্ত ৭৬৪ জন প্রবাসীকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। যদিও চলতি মাসে বিদেশ থেকে এসেছেন ৮ হাজারের বেশি মানুষ। খোঁজ না মেলা বাকি প্রবাসীদের নিয়েই এখন টেনশন। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, বিদেশ ফেরত এসব ব্যক্তির তথ্য পেতে উপজেলা ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের কাজে লাগানো হয়েছে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছেও চাওয়া হয়েছে সহযোগিতা।

এদিকে করোনা প্রতিরোধে সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে নেমেছে স্বাস্থ্য বিভাগসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মীরা। এরই মধ্যে পর্যটকদের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা ও বরগুনার শুভ সন্ধ্যা সমুদ্রসৈকত। বৃহস্পতিবার থেকে বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে সেখানকার সব হোটেল মোটেল রিসোর্ট। বরিশাল, ভোলা ও পটুয়াখালীতে বাইরের জেলা থেকে কাউকে না আসতে জেলা প্রশাসন থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। হোম কোয়ারেন্টিন প্রশ্নে বরিশাল নগরীসহ বিভিন্ন জেলা-উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে দফায় দফায় চলছে অভিযান। নির্দেশনা অমান্য করায় অন্তত ডজনখানেক প্রবাসীকে জরিমানাও করা হয়েছে। কোচিং সেন্টার চালু রাখায় কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে সেন্টারের এক পরিচালককে।

চীনে করোনার সংক্রমণ দেখা দেয়ার পর থেকেই বরিশালসহ বিভাগের ৬ জেলায় সচেতনতামূলক প্রচারসহ নানা কার্যক্রম শুরু করে স্বাস্থ্য বিভাগ। করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য ৯১৯টি শয্যা প্রস্তুতের খবরও জানায় তারা। এর মধ্যে বরিশালের একটি বেসরকারি হাসপাতালে রয়েছে ২৫০ শয্যা। এছাড়া বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে খোলা করোনা ইউনিটে ১৫০টি শয্যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকীর হোসেন। বরিশাল সদর হাসপাতালসহ জেলার ১০ উপজেলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে আরও ৩৬টি বেড।

বরিশাল বিভাগীয় প্রশাসন সূত্রে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৬ জেলায় হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন ৭৬৪ জন। এদের মধ্যে বরিশালে ১৪৫, বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ৬, বরগুনায় ১৪৫, পিরোজপুরে ১২০, ঝালকাঠিতে ৯১, পটুয়াখালীতে ৭৭ এবং ভোলা জেলায় ১৮০ জন।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক দফতরের সহকারী পরিচালক শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল বলেন, আমরা সিভিল অ্যাসোসিয়েশন থেকে বরিশাল বিভাগের বিদেশ ফেরতদের একটি তালিকা পেয়েছি। ওই তালিকায় গত কয়েক মাসে যারা বিদেশ থেকে ফিরেছে তাদের বর্ণনা রয়েছে। আমরা চলতি মাসে যারা ফিরেছে তাদের আলাদা করার কাজ করছি। এই কাজ শেষ হলেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

তবে বরিশালের ৬ জেলার সিভিল সার্জনরা বলছেন, জেলাগুলোতে পুলিশের বিশেষ শাখা থেকে সরবরাহ করা যে তথ্য রয়েছে তাতে চলতি মাসে ৮ হাজারের বেশি প্রবাসী দেশে ফিরেছেন। এদের প্রায় সবারই স্থায়ী ঠিকানা বরিশালসহ বিভাগের ৬ জেলা। হিসাব অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে বরিশাল জেলায় প্রায় ৩ হাজার, বরগুনায় ৮৫০, পিরোজপুরে ১ হাজার ৬শ’, ভোলায় ১ হাজার ৪শ’, পটুয়াখালীতে ১ হাজার ১শ’ এবং ঝালকাঠিতে ৪০৬ জন বিদেশ থেকে ফিরেছেন।

তারা বলেন, কোয়ারেন্টিনের বাইরে থাকা প্রবাসীদের খুঁজে বের করার কাজ শুরু হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীরা কাজ করছে। উপজেলা, ইউনিয়ন এমনকি ওয়ার্ড পর্যায়ে পর্যন্ত কাজ করছে তারা। এছাড়া সংশ্লিষ্ট জেলা-উপজেলার করোনা প্রতিরোধ কমিটি এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বারদের কাছেও সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। এরা এলাকায় থাকলে তাৎক্ষণিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা কিংবা হোম কোয়ারেন্টিনে নেয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এলাকায় না থাকলে যেখানে আছে সেখানকার স্বাস্থ্য বিভাগকে তাদের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানানো হবে।

পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, জেলায় ১১শ’ মানুষ বিদেশ থেকে এলেও কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন মাত্র ৭৭ জন। আমরা বাকিদের খুঁজে বের করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়ার উদ্যোগ নিয়েছি। ভোলার দৌলতখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তারা বলেন, এই উপজেলায় বিদেশ ফেরতদের সংখ্যা ৯৬। কোয়ারেন্টিনে আছেন ৬ জন। আমাদের কাছে বাকি ৯০ জনেরই কোনো খবর নেই।

বরিশাল জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান জানান, বাইরের জেলার লোকজনকে না আসতে অনুরোধ করা হয়েছে। বরিশাল নাগরিক পরিষদের সদস্য সচিব ডা. মিজানুর রহমান বলেন, দেশে ফেরা প্রবাসীদের যে তালিকাটি এখন তৈরি করা কিংবা জেলায় জেলায় পাঠানো হচ্ছে সেটি আরও আগে করা হলে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। তাছাড়া বিভিন্ন বিভাগ না ঘুরিয়ে সরাসরি এয়ার পোর্ট থেকে জেলাওয়ারি প্রশাসনের কাছে এই তালিকা দৈনিক ভিত্তিতে পাঠানো হলে কাজটি আরও সহজ হতো। শুরু থেকেই বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে দেখা হলে আজকের এই আশঙ্কা সৃষ্টি হতো না।

 

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস