মুক্তিযুদ্ধের ছয় প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি, ২০০ কোটি টাকা কাটছাঁট

করোনা পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরেই হয়তো অর্থ ফেরত দিয়েছে-নূরুল আমিন * বঙ্গবন্ধুর ব্রোঞ্জের ম্যুরালে আন্তর্জাতিক দরপত্রের কারণে মেয়াদ বাড়াতে হবে -পিডি

  হামিদ-উজ-জামান ২৬ মার্চ ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মুক্তিযুদ্ধের ছয় প্রকল্প চলছে ধীরগতিতে। ফলে বরাদ্দ দেয়া অর্থ ব্যয় করতে পারছে না সংশ্লিষ্টরা। এ অবস্থায় প্রায় ২০০ কোটি টাকা কাটছাঁট করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে এসব প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দ ছিল ২৭৬ কোটি ৩১ লাখ টাকা।

অর্থবছরের ৮ মাসের মাথায় সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (আরএডিপি) এসব প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দ কমিয়ে রাখা হয়েছে ৮০ কোটি ২৩ লাখ টাকা। করোনাভাইরাসের পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরেই তারা অর্থ ফেরত দিয়েছে বলে মনে করছে পরিকল্পনা কমিশন।

প্রকল্পগুলো হচ্ছে- ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্প; শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সমাধিস্থল সংরক্ষণ ও উন্নয়ন; মুক্তিযুদ্ধকালে শহীদ মিত্রবাহিনীর সদস্যদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ; সব জেলায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ (প্রথম পর্যায়); মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি স্থাপনাগুলো সংরক্ষণ ও পুনর্নির্মাণ এবং ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কর্তৃক গণহত্যার জন্য ব্যবহৃত বধ্যভূমিগুলো সংরক্ষণ ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ প্রকল্প।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সংশোধিত এডিপি তৈরির দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিকল্পনা বিভাগের সচিব নূরুল আমিন মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেন, করোনা পরিস্থিতি তো অনেক দিন ধরেই চলছে। তারা ঠিকই বুঝতে পেরেছে যে, দেশের অবস্থা খারাপের দিকে যাবে। তাই হয়তো আগেভাগেই টাকা ফেরত দিয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে ধীরগতি তো অবশ্যই আছে। তবে কেন ধীরগতি বিরাজ করছে, আমরা সে বিষয়ে জিজ্ঞাসা করিনি। তারা যে বরাদ্দ চেয়েছে আমরা তা-ই দিয়েছি।

সূত্র জানায়, ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হচ্ছে ২৬৫ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। এটির উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে- ঐতিহাসিক ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ, দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর পরাজয়, আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষরের স্মৃতি সংরক্ষণ, ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর ভাষণের স্মৃতি সংরক্ষণসহ বিভিন্ন সময়ের নানা আন্দোলনের ঘটনা এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

তাছাড়া কোমলমতি শিশুদের জন্য বৃহত্তর আকারে শিশুপার্ক গড়ে তোলা হবে। ২০১৭ সালের জুলাই থেকে ২০২০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে। চলতি অর্থবছর প্রকল্পটির অনুকূলে বরাদ্দ ছিল ৭২ কোটি টাকা।

কিন্তু বর্তমানে ২৫ কোটি টাকা কমিয়ে আরএডিপিতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৪৭ কোটি টাকা। প্রকল্প পরিচালক সানোয়ার আলম যুগান্তরকে বলেন, শুরু থেকে এখন পর্যন্ত এ প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৪০ শতাংশ।

ইতিমধ্যেই শিশুপার্কের ভূ-গর্ভস্থ কার পার্কিংসহ আনুষঙ্গিক কাজের জন্য ঢালাই ও পিলার স্থাপন করা হয়েছে। বর্তমানে জটিলতা কেটে গেছে। তবে ৭ মার্চের স্থানে বঙ্গবন্ধুর ব্রোঞ্জের ম্যুরাল এবং পাকিস্তানি বাহিনীর সারেন্ডার মঞ্চ তৈরির জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া চলছে। ফলে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়াতে হবে।

এছাড়া ‘শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধাদের সমাধিস্থল সংরক্ষণ ও উন্নয়ন’ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৬০ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ দেয়া হয় ৮৫ কোটি টাকা। কিন্তু পরবর্তীতে ৭৫ কোটি টাকা কমিয়ে সংশোধিত বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১০ কোটি টাকা।

এদিকে ‘মুক্তিযুদ্ধকালে শহীদ মিত্রবাহিনীর সদস্যদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ’ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা। চলতি অর্থবছর প্রকল্পটির অনুকূলে বরাদ্দ ছিল ১৫ কোটি ৭২ লাখ টাকা। কিন্তু ১৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা কমিয়ে বর্তমানে বরাদ্দ ধরা হয়েছে মাত্র পাঁচ লাখ টাকা।

‘সকল জেলায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫২ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। চলতি অর্থবছরের এডিপিতে বরাদ্দ দেয়া হয় ১২ কোটি টাকা। কিন্তু এই টাকা খরচ করতে না পারায় সাড়ে নয় কোটি টাকা কমিয়ে সংশোধিত বরাদ্দ ধরা হয়েছে আড়াই কোটি টাকা।

এছাড়া ‘মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি স্থাপনাসমূহ সংরক্ষণ ও পুনর্নির্মাণ’ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪১ কোটি ২৭ লাখ টাকা। প্রকল্পটির অনুকূলে চলতি অর্থবছরের এডিপিতে বরাদ্দ দেয়া হয় ১১ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। কিন্তু বর্তমানে প্রায় ৭ কোটি টাকা কমিয়ে সংশোধিত বরাদ্দ দেয়া হয়েছে সাড়ে চার কোটি টাকা।

‘১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কর্তৃক গণহত্যার জন্য ব্যবহৃত বধ্যভূমিসমূহ সংরক্ষণ ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ’ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৪২ কোটি ৪০ লাখ টাকা। চলতি অর্থবছর এটির অনুকূলে বরাদ্দ দেয়া হয় ৮০ কোটি টাকা।

কিন্তু অর্থ ব্যয়ে ব্যর্থ হওয়ায় ৭৯ কোটি টাকা কমিয়ে সংশোধিত এডিপিতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে মাত্র এক কোটি টাকা। সংশোধিত এডিপি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, অধিকাংশ প্রকল্পই নির্ধারিত মেয়াদে বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত