করোনাভাইরাস সংক্রমণরোধে পুলিশকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ

আইজিপির ভিডিও কনফারেন্স: সব পুলিশ হাসপাতালে পর্যাপ্ত বেড প্রস্তুত থাকবে * পণ্য মজুদকারীদের ওপর কড়া নজরদারি

  সিরাজুল ইসলাম ২৬ মার্চ ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সারা দেশের পুলিশ সদস্যদের সব বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছেন আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাভেদ পাটোয়ারী।

বুধবার দুপুরে এক ভিডিও কনফারেন্সে তিনি এ নির্দেশ দেন।

সারা দেশের রেঞ্জ ডিআইজি, সব মেট্রোপলিটন কমিশনার এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, রংপুর এবং ময়মনসিংহ জেলার এসপির সঙ্গে এ কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়।

এতে র‌্যাব ডিজি বেনজীর আহমেদ, ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম, সিআইডি প্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, এসবি প্রধান মীর শহিদুল ইসলামসহ পুলিশের ৩০টির বেশি ইউনিট প্রধান সংযুক্ত ছিলেন।

প্রত্যেকেই করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিজ নিজ এলাকার অবস্থান ব্যাখা করেন। পুলিশ প্রধান ড. জাভেদ পাটোয়ারী সব ইউনিট প্রধানের বক্তব্য শোনার পর প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

সূত্র জানায়, ভিডিও কনফারেন্সে আইজিপি বলেন, মানুষের প্রয়োজনগুলো দেখতে হবে। সুবিধা-অসুবিধা দেখতে হবে। কিন্তু ভাইরাস প্রতিরোধে ছাড় দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। যারা বিদেশ থেকে আসছে তাদের অবশ্যই ‘কোয়ারেন্টিনে (সঙ্গত্যাগ)’ রাখা বাধ্যতামূলক করতে হবে।

তিনি বলেন, পুলিশ সদস্যরা আক্রান্ত হতে পারেন। এ জন্য সারা দেশের পুলিশ হাসপাতালগুলোয় পর্যাপ্ত বেড প্রস্তুত রাখতে হবে। আক্রান্তদের মাধ্যমে অন্য পুলিশ সদস্যদের মধ্যে তা ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই পুলিশের কোনো সদস্য যেন আক্রান্ত না হন, সে জন্য নিজেদের সতর্ক থাকতে হবে। কোনো পুলিশ সদস্য ছুটি থেকে এসেই কর্মস্থলে যোগ দিতে পারবেন না। তাদের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে হবে। ডাক্তারের কাছে নিতে হবে। সন্দেহ হলেই তাদের কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। কোয়ারেন্টিনকাল (১৪ দিন) পার হলে সুস্থতাসাপেক্ষে তারা কাজে যোগ দিতে পারবেন।

আইজিপির বরাত দিয়ে ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেয়া পুলিশের একজন কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, যতটুকু সম্ভব জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে। কোথাও যাতে জনসঙ্গম না হয়, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে। কাউকে গ্রেফতারের সময় খেয়াল রাখতে হবে ওই ব্যক্তির মধ্যে করোনাভাইরাস আছে কি না। তাকে চেকআপ করে নিতে হবে। তাপমাত্রা পরীক্ষার পাশাপাশি তার সর্দি-কাশি দেখতে হবে। এসব থাকলে আসামিকে সঙ্গে সঙ্গেই হাসপাতালে নিতে হবে। তবে আসামি গ্রেফতারের ক্ষেত্রে শিথিলতা দেখানো যাবে না। কারণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে হবে। করোনাভাইরাস আতঙ্কে আইন প্রয়োগে শিথিলতা চলে এলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হয়ে উঠতে পারে। নিজেদের নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে কোনোভাবেই আইনশৃঙ্খলার অবনতি হতে দেয়া যাবে না।

ভিডিও কনফারেন্সে আইজিপি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য বাজারে যাতে পর্যাপ্ত থাকে, সে বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে। কেউ যেন পণ্য মজুদ করতে না পারে, সে জন্য কড়া নজরদারি রাখতে হবে। বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশের যে ভূমিকা, তা অবশ্যই যথাযথভাবে পালন করতে হবে।

জানতে চাইলে রংপুরের এসপি বিপ্লব কুমার সরকার যুগান্তরকে বলেন, ভিডিও কনফারেন্সে আইজিপি মহোদয় সবার আগে নিজেদের নিরাপত্তা জোরদারের কথা বলেছেন। পাশাপাশি যে কোনো মূল্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বলেছেন। কেউ যাতে অতিরিক্ত খাদ্যদ্রব্য মজুদ করতে না পারে, সে বিষয়টি খেয়াল রাখার পাশাপাশি সাপ্লাই লাইন ঠিক রাখতে পুলিশকে কঠোর ভূমিকা রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তার জন্য পারসোনাল প্রটেকশন ইকুইপমেন্টসহ (পিপিই) যেসব সরঞ্জামাদি দরকার সেগুলো নিশ্চিত করতে আইজিপি নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশ সদর দফতর থেকে যতটুকু সম্ভব পিপিই সরবরাহ করা হবে। ইতোমধ্যে কিছু পিপিই সরবরাহ শুরু হয়ে গেছে। পুলিশ সদর দফতর ছাড়াও ইউনিট ও জেলা পুলিশের বাজেট থেকেও পিপিই কেনার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রয়োজন বোধে সমাজের বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকেও পিপিই সরবরাহ করা যেতে পারে বলেও এসপি বিপ্লব কুমার সরকার জানান।

রংপুরের এসপি মো. শহীদুল্লাহ যুগান্তরকে বলেন, করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বাগ্রে বিবেচনার নির্দেশ দিয়েছেন আইজিপি। বাইরে ডিউটি করার সময় প্রত্যেক সদস্য যেন মাস্ক এবং গ্লাভস পরিধান করেন সেটি নিশ্চিত করতে বলেছেন।

তিনি বলেন, এরই মধ্যে রাজশাহীতে পুলিশের নিজেদের নিরাপত্তা জোরদার করেছি। করোনা প্রতিরোধ এবং পুলিশ সদস্যদের নিরাপদ রাখতে প্রত্যেক ব্যারাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ব্যবস্থা নিয়েছি। বাইরে থেকে কেউ ডিউটি করে এলে কাপড়-চোপড়গুলো এক জায়গায় রাখা হচ্ছে। পরে সেগুলো অটোমেশিনে ধোয়া হচ্ছে। সদস্যদের জন্য লবণযুক্ত গমর পানির ব্যবস্থা রয়েছে। পর্যাপ্ত সাবান পানি ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এসবের মাধ্যমে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হওয়ার পরই কেবল পুলিশ সদস্যদের ডেস্কে বসার অনুমতি দেয়া হচ্ছে। বাইরে থেকে পুলিশ কম্পাউন্ডের ভেতরে আসার পরই গরম পানি দিয়ে পা ধোয়া নিশ্চিত করা হচ্ছে। কারণ, পায়ের মাধ্যমে যাতে জীবাণু ছড়াতে না পারে। প্রত্যেক পুলিশ সদস্যের জন্য মাস্ক এবং সানগ্লাস নিশ্চিত করা হয়েছে। সদস্যদের জন্য নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পিপিই সরবরাহ করা হয়েছে।

এসপি মো. শহীদুল্লাহ আরও বলেন, আইজিপির নির্দেশনা অনুযায়ী বিদেশ ফেরত প্রত্যেকের হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। রাজশাহীতে ১ মার্চ থেকে এক হাজার ৩০৮ জন বিদেশ ফেরত নাগরিক এসেছেন। বুধবার পর্যন্ত এ জেলায় ৬২৫ জন হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন।

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

আরও
 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত