এখনও সম্পৃক্ত হয়নি করোনা শনাক্তে সক্ষম ল্যাবগুলো

ঢাকার জনস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট এবং শিশু হাসপাতালে পরীক্ষা শুরু * কমপক্ষে ১০টি প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার সক্ষমতা রয়েছে -ডা. জাহিদ * স্বাস্থ্য খাতের বাইরে ল্যাবগুলো দ্রুত প্রস্তুত করতে হবে-অধ্যাপক ইকবাল আর্সলান * বায়োসেফটি লেভেল-২ বা সমমানের ল্যাবে পরীক্ষা সম্ভব-বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

  রাশেদ রাব্বি ২৭ মার্চ ২০২০, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

এখনও সম্পৃক্ত হয়নি করোনা শনাক্তে সক্ষম ল্যাবগুলো
ফাইল ছবি

দেশে আরও দুটি ল্যাবে করোনাভাইরাস শনাক্তের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। ফলে ২৬ মার্চ থেকে আইইডিসিআরের পাশাপাশি ঢাকার জনস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট এবং শিশু হাসপাতালের ল্যাবে পরীক্ষা চলছে। তবে সক্ষম আরও ১০ ল্যাবরেটরিকে এখন পর্যন্ত এ কাজে সম্পৃক্ত করা হয়নি।

অথচ ল্যাব স্বল্পতায় সারা দেশে এখনও ভাইরাসটির পরীক্ষা করা যাচ্ছে না। নভেল করোনাভাইরাসের মহামারী প্রতিরোধে অন্য দেশগুলো পর্যাপ্তসংখ্যক টেস্ট সেন্টার খুলে প্রতিদিন হাজার হাজার সন্দেহভাজন ব্যক্তির পরীক্ষা করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুসারে পরিস্থিতি মোকাবেলায় সন্দেহভাজন সবাইকে পরীক্ষার আওতায় আনতে হবে। সে জন্য অধিক ল্যাবে পরীক্ষা করা দরকার। তাই দেরি না করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সক্ষম ল্যাবরেটরিগুলোকে করোনাভাইরাস পরীক্ষায় সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা অনুযায়ী, কোভিড-১৯ রোগের ভাইরাস শনাক্ত করার জন্য বায়োসেফটি লেভেল-২ কিংবা তার সমমানের ল্যাবরেটরি প্রয়োজন হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা স্পষ্ট করে বলেছে, শুধু লকডাউনের মাধ্যমে সোশ্যাল ডিসটেন্সিং নিশ্চিত করে কোভিড-১৯-এর মহামারী নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব নয়। প্রতিটি সাসপেক্টেড কেসকে টেস্ট করতে হবে। পজিটিভ কেসগুলো করতে হবে আইসোলেট। কন্টাক্ট ট্রেসিং করে বাকিদের কোয়ারেন্টিনে করতে হবে। ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) সেবা নিশ্চিত করতে হবে মুমূর্ষু রোগীদের। তাহলেই প্যানডেমিক নিয়ন্ত্রণে আসবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে এই মুহূর্তে বেশকিছু ল্যাবরেটরি রয়েছে যেগুলোর এ ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সক্ষমতা রয়েছে। অর্থাৎ এই ল্যাবরেটরিগুলো বায়োসেফটি লেভেল-২ মানের। এগুলো হল : ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ডায়েরিয়াল ডিজিজ রিসার্চ, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি), বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকসাস ডিজিজ (বিআইটিআইডি), চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিমল সায়েন্স ইউনির্ভাসিটি (সিভিএএসইউ), বাংলাদেশ কাউন্সিল অব সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ (বিসিএসআইআর), বাংলাদেশ লাইভস্টক রিসার্চ ইন্সটিটিউট (বিএলআরসি) এবং সেন্টার ফর অ্যাডভান্স রিসার্চ ইন সায়েন্স (সিএআরএস)। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলজি বিভাগের ল্যাব, ঢাকা মেডিকেল কলেজের মলিকুলার ল্যাব, ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের মলিকুলার ল্যাব, ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব প্রিভেন্টিভ অ্যান্ড সোশ্যাল মেডিসিন (নিপসম)-এর ল্যাবে এ ধরনের পরীক্ষা করা সম্ভব। পাশাপাশি বেশকিছু বেসরকারি হাসপাতাল এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারে মলিকুলার ল্যাবরেটরি আছে, যেগুলো স্বল্পসময়ে মডিফিকেশন করে বায়োসেফটি লেভেল-২ মানের ল্যাবরেটরিতে রূপান্তরিত করা সম্ভব। এগুলো করোনাভাইরাস শনাক্তকরণ সম্পৃক্ত হলে অধিকাংশ সন্দেহভাজনকে পরীক্ষার আওতায় আনা সম্ভব হবে। সম্প্রতি স্বাস্থ্য অধিদফতরের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, ৮ প্রতিষ্ঠানে করোনাভাইরাস পরীক্ষার যন্ত্র পিসিআর মেশিন বসানো হচ্ছে, পর্যাপ্ত পরিমাণ কিটও চলে আসছে।

অথচ গত ২১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত করোনাভাইরাস সংক্রান্ত সেবা পেতে অধিদফতর ও আইইডিসিআরের ফোনগুলোয় এ পর্যন্ত কল এসেছে ৪ লাখ ৮৮ হাজার ৬৮৩টি। এই তথ্য স্বাস্থ্য অধিদফতরের সমন্বিত কন্ট্রোল রুমের। সেখান থেকে আরও জানা গেছে, গত ২১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত আকাশ, সড়ক ও সমুদ্রপথে ৬ লাখ ৬৪ হাজার ১৫৭ জন দেশে প্রবেশ করেছেন। সব যোগাযোগ ব্যবস্থা এক প্রকার বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরেও গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে প্রবেশ করেছে ১ হাজার ১৩২ জন। যারা প্রত্যেকেই করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে এমন দেশ থেকে এসেছেন। যারা থেকে গেছেন পরীক্ষার বাইরে।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের ভাইরোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. জাহিদুর রহমান বলেন, ঢাকা ও চট্টগ্রামে মিলিয়ে ১০টি প্রতিষ্ঠানে করোনাভাইরাস পরীক্ষার সক্ষমতা রয়েছে। অথচ আইইডিসিআর বলছে, করোনাভাইরাস শনাক্ত করতে যে মানের ল্যাবরেটরি (পরীক্ষাগার) প্রয়োজন বায়োসেফটি লেভেল-৩ মানের ল্যাব বাংলাদেশে শুধু তাদেরই আছে। সুতরাং সব পরীক্ষা সেখানেই করতে হবে। যদিও ২৬ মার্চ প্রথমবারের মতো প্রতিষ্ঠানের পরিচালক বলেছে, ঢাকার আইপিএই ও শিশু হাসপাতালে পরীক্ষা শুরু হয়েছে। অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা না থাকলে এখন এসব প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা হবে কীভাবে। ডা. জাহিদ বলেন, আইইডিসিআরের ওপর নির্ভর না করে এই ল্যাবগুলোকে আরও দু’মাস আগে থেকে প্রস্তুত করা হলে এই দুরবস্থা হতো না। সাসপেক্টেড কেসগুলো পরীক্ষার আওতায় আনা হতো। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে থাকত।

স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সভাপতি ও বিশিষ্ট প্রাণরসায়নবিদ অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সলান বলেন, একটা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে দেশের সব রোগীর পরীক্ষা করে রোগ শনাক্ত করা সম্ভব নয়। পরীক্ষাগার বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে রোগীশূন্য অবস্থা থেকেই এই প্রক্রিয়া শুরু করা দরকার ছিল। তাহলে রোগীর প্রকৃত সংখ্যা জানা সম্ভব হতো; সেই অনুযায়ী চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হতো। অধ্যাপক ইকবাল বলেন, এখন স্বাস্থ্য খাতের বাইরে যেসব ল্যাব রয়েছে সেগুলো দ্রুত প্রস্তুত করে রাখতে হবে। যেন প্রয়োজনে সেগুলো ব্যবহার করা যায়। স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ইতোমধ্যে রাজধানীর জনস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট এবং শিশু হাসপাতালের ল্যাবে করোনাভাইরাস পরীক্ষা শুরু হয়েছে। রংপুর ও রাজশাহীতে পরীক্ষা ল্যাব চালু করতে ইঞ্জিনিয়ারসহ মেশিন চলে গেছে। এগুলো বায়োসেফটিহুড সংবলিত। আরও ৫টি মেশিন সেন্ট্রাল মেডিকেল স্টোরেজ ডিপার্টমেন্ট রয়েছে। সেগুলো মেশিনের বায়োসেফটিহুড নেই। আগামী রোববারের মধ্যে সেগুলো চলে আসবে। তখন অন্য বিভাগীয় শহরগুলোয় পিসিআর স্থাপন করা সম্ভব হবে। তখন পরীক্ষার জন্য নমুনা আর ঢাকা পাঠাতে হবে না।

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

আরও
আরও পড়ুন

'কোভিড-১৯' সর্বশেষ আপডেট

# আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ ৫১ ২৫
বিশ্ব ৮,৫৬,৯১৭১,৭৭,১৪১৪২,১০৭
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

 
×