প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ করোনা মোকাবেলার রূপরেখা: ওবায়দুল কাদের

অবাস্তব ও কল্পনাপ্রসূত প্রতিশ্রুতি দেননি * দিকনির্দেশনাগুলো নির্মোহ, নির্মেদ ও আশাজাগানিয়া * সংকটেও কেউ কেউ বিভেদের রাজনীতি করতে চান

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৭ মার্চ ২০২০, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে মিথ্যার ফানুস ওড়াননি। তিনি অবাস্তব ও কল্পনাপ্রসূত প্রতিশ্রুতি দেননি। অনাকাক্সিক্ষত করোনাভাইরাসে সৃষ্ট সংকট মোকাবেলার বাস্তবতার নিরিখে রূপরেখা ও কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেছেন।

বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। করোনাভাইরাস সংকটের কারণে সংবাদ সম্মেলনটি শুধু বাংলাদেশ টেলিভিশনের ক্যামেরায় ধারণ করা হয়। পরে লিখিত বক্তব্য সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণমাধ্যমে পাঠানো হয়। লিখিত বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের দেশের জনগণ এবং আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মহান স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা জানান।

সেতুমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাসে সারা বিশ্ব গভীর সংকট ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে এ সংকট থেকে উত্তরণের জন্য দিকনির্দেশনা দিয়ে জাতির উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে প্রদত্ত দিকনির্দেশনাগুলো ছিল নির্মোহ, নির্মেদ ও আশাজাগানিয়া। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী বাঙালি জাতির নেতা হিসেবে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে পূর্বপ্রস্তুতি ও বর্তমান প্রস্তুতিসহ ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। সংকট মোকাবেলায় বিদেশ ফেরত যাত্রীদের স্ক্রিনিং করা থেকে শুরু করে কোয়ারেন্টিন ব্যবস্থা, হাসপাতাল প্রস্তুত ও চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহে সরকারের সব কার্যক্রমের কথা তুলে ধরেছেন। অনাকাক্সিক্ষত সংকটের মুখে নিশ্চিত সমাধানে যেখানে সারা বিশ্ব হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকার সীমাবদ্ধতাকে জয় করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনাভাইরাস মোকাবেলাকে একটি যুদ্ধ ঘোষণা করে সবাইকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে বলেছে। প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে এ সংকট মোকাবেলায় তার সরকারের গৃহীত পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, কতিপয় মহল বা কিছু ব্যক্তি সংকট ও সম্ভবনার কথা বিশ্লেষণ না করে বরাবরের মতো ছিদ্রান্বেষী হয়ে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের সমালোচনা করেছেন। অনাকাক্সিক্ষত সংকট নিরসনে সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে যেখানে জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন, সেখানেও তারা বিভেদের রাজনীতি করতে চান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সাধারণ জনগণের একজন হয়েই গণদায়িত্ববোধ সৃষ্টির মাধ্যমে এ সংকট মোকাবেলা করতে চেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে কর্মহীন খেটে খাওয়া মানুষের জন্য সহায়তার কথা সুনির্দিষ্টভাবে বলেছেন।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী গৃহহীন ও ভূমিহীনদের জন্য বিনামূল্যে ঘর, ৬ মাসের খাদ্য, নগদ অর্থ প্রদান এবং বিনামূল্যে ভিজিডি, ভিজিএফ ও ১০ টাকা কেজি দরে চাল সরবরাহের কর্মসূচি অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার একটি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। যার দ্বারা শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ করা হবে। এ পদক্ষেপগুলো আপৎকালীন এ সংকট মোকাবেলায় স্বল্প মেয়াদি পরিকল্পনা। দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় বাজারে জোগান ও চাহিদার সামঞ্জস্য রেখে অর্থনীতির সচলতা কিভাবে ধরে রাখতে হয় সেটা শেখ হাসিনা বিগত ১০ বছরে তার সরকারের সময়ে করে দেখিয়েছেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে বরাবরের মতো দেশের মানুষের প্রতি সহানুভূতিপ্রবণ ও সংবেদনশীল হয়ে প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণ প্রদান করেছেন। দেশের জনগণের একজন হয়েই জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন। আশা করি, দেশের জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা এ সংকট মোকাবেলা করতে সক্ষম হব, ইনশাআল্লাহ।

আরও পড়ুন

'কোভিড-১৯' সর্বশেষ আপডেট

# আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ ৫১ ২৫
বিশ্ব ৮,৫৬,৯১৭১,৭৭,১৪১৪২,১০৭
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

 
×