করোনা উপসর্গ নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা ও আ’লীগ নেতাসহ ১২ জনের মৃত্যু

  যুগান্তর ডেস্ক ০৭ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের নয় জেলায় করোনা উপসর্গ নিয়ে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে চট্টগ্রামে মুক্তিযোদ্ধাসহ দু’জন, টাঙ্গাইলে আওয়ামী লীগ নেতা, ফরিদপুরে দুই ব্যক্তি, বরিশালে এক ব্যক্তি, নারায়ণগঞ্জের বন্দরে যুবক, হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে বৃদ্ধ, নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় রিকশাচালক, কুমিল্লায় শ্রমিক, গাজীপুরের কাপাসিয়ায় নারী ও রাজবাড়ীর পাংশায় এক ব্যক্তি মারা যান। ওই ব্যক্তিদের বাড়ি ও আশপাশের এলাকা লকডাউন করে বাসিন্দাদের কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। যুগান্তর ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

চট্টগ্রাম : সোমবার বিকাল ৩টার দিকে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশনে থাকা মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু হয়। আর রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যু হয় এক যুবকের। সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানায়, জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ব্যক্তি শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। আর মেডিকেলে যিনি মারা গেছেন তার কাশি ও শ্বাসকষ্টসহ নিউমোনিয়ার উপসর্গ ছিল। তাদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য বিআইটিআইডিতে পাঠানো হয়। স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) করোনা প্রতিরোধ সেলের চট্টগ্রাম বিভাগের প্রধান সমন্বয়ক আ ম ম মিনহাজুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, ওই যুবকের করোনাভাইরাস নেগেটিভ। তবে জেনারেল হাসপাতালে মারা যাওয়া মুক্তিযোদ্ধার নমুনার ফল আসেনি।

টাঙ্গাইল : গোপালপুর আওয়ামী লীগের এক নেতা করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে সোমবার মারা যান। তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরে বিশেষ ব্যবস্থায় লাশ দাফন করা হয়েছে। তার বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আলীম আল রাজী জানান, ওই ব্যক্তি হৃদরোগ ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন।

ফরিদপুর ও ভাঙ্গা : ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি হওয়া এক ব্যক্তি আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকালে মারা গেছেন। হাসপাতালের পরিচালক ডা. সাইফুর রহমান জানান, ১ এপ্রিল ওই ব্যক্তি শ্বাসকষ্ট ও কিডনিজনিত সমস্যা নিয়ে এ হাসপাতালে ভর্তি হন। তার নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ভাঙ্গা উপজেলার চুমুরদী ইউনিয়নে সোমবার ভোররাতে করোনা উপসর্গ নিয়ে এক বৃদ্ধ মারা গেছেন। ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. মহসিন উদ্দিন জানান, ওই ব্যক্তি জ্বর, শাসকষ্ট, গলা ব্যথা ও লিভারে সমস্যা নিয়ে কয়েকদিন ধরে খুবই অসুস্থ ছিল। তার নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

বরিশাল : শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তির ২০ মিনিটের মধ্যে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। সোমবার বিকালে জ্বর, গলা ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি হন ওই রোগী এবং সাড়ে ৫টায় করোনা ইউনিটেই তার মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন। মৃত্যুর সংবাদের পর ওই বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। ওই ব্যক্তির নমুনা ঢাকায় পাঠানো হবে বলে জানান তিনি।

বন্দর (নারায়ণগঞ্জ) : সোমবার বন্দরের মদনপুরে ঠাণ্ডাজ্বর ও ডায়রিয়ায় এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তার বাড়ি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শুক্লা সরকার জানান, খবর পেয়ে আমি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ডাক্তার পাঠিয়েছি। ডাক্তার জানিয়েছেন, ডায়রিয়াজনিত পানিশূন্যতায় ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।

হবিগঞ্জ ও চুনারুঘাট : চুনারুঘাট উপজেলার পানছড়ি এলাকায় সোমবার সকালে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় ওই এলাকার জনগণের চলাচল সীমিত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সত্যজিৎ রায় দাশ বলেন, ওই বৃদ্ধের পরিবারের কাছ থেকে জানতে পেরেছি, তিনি শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভুগছিলেন।

কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) : কেন্দুয়া পৌর এলাকায় সোমবার সাকালে এক রিকশাচালক মারা গেছেন। এ ঘটনায় করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ ওই রিকশাচালকের নমুনা সংগ্রহ করেছে। নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার আগ পর্যন্ত বাড়ির লোকজনকে বাইরে বের না হওয়ারও পরামর্শ দেয়া হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাসিব আহসান সাংবাদিকদের জানান, করোনায় আক্রান্তের কারণে ওই যুবকের মৃত্যু হয়নি বলেই প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এরপরও নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য নেত্রকোনায় পাঠানো হয়েছে।

কুমিল্লা : কুমিল্লায় করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। টানা ৮ দিন জ্বর-কাশি-শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত থাকার পর সোমবার জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুরে তার মৃত্যু হয়। তিনি ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার বাসিন্দা। ওই এলাকায় থাকা সব শ্রমিককে লকডাউন করে তাদের নমুনা সংগ্রহ করে আইডিসিআরে পাঠানো হয়েছে।

কাপাসিয়া (গাজীপুর) : কাপাসিয়ায় সোমবার সকালে শ্বাসকষ্টে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আবদুস সালাম সরকার জানান, ওই নারী পরিবারের সদস্যদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হবে। ওই বাড়ি পুলিশ পাহারায় রাখা হয়েছে যেন কেউ ঢুকতে বা বের হতে না পারে।

রাজবাড়ী : পাংশা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নে করোনাভাইরাস উপসর্গ নিয়ে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় পাংশার পুরো সেনগ্রাম লকডাউন ঘোষণা করেছে উপজেলা প্রশাসন। সোমবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আন্জুয়ারা বেগম সুমী বলেন, ওই ব্যক্তি ঢাকার নবীনগরে বাসের ড্রাইভার ছিলেন। ১০ দিন আগে তিনি তার গ্রামের বাড়ি আসেন। এরপর থেকেই তিনি জ্বর, সর্দি, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। তিনি বিষয়টি না জানিয়ে বাড়িতেই পালিয়ে ছিলেন। সোমবার সকালে কুষ্টিয়া হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। তার নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত