বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসে অনলাইন সভা অনুষ্ঠিত

আমরা করোনার বিরুদ্ধে জয়ী হব : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৮ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক চিকিৎসকদের উদ্দেশে বলেছেন, আমাদের স্বাভাবিক স্বাস্থ্যসেবা যেন ব্যাহত না হয়, আইসোলেশন ওয়ার্ডগুলো যেন সঠিকভাবে পরিচালিত হয়, সেদিকে নজর দিতে হবে। আমরা অনেক কিছুর বিরুদ্ধে জয়লাভ করেছি। করোনার বিরুদ্ধেও জয়লাভ করব।

মঙ্গলবার বিকেলে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে এক অনলাইন সভায় তিনি এ কথা বলেন। মহাখালীর স্বাস্থ্য ভবনের কনফারেন্স রুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সলান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি ড. বধন জং রানা। অনলাইনভিত্তিক এই সভায় সারা দেশের স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন বিভাগের পরিচালকরা এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা সংযুক্ত ছিলেন।

জাহিদ মালেক বলেন, অধিদফতর থেকে সারা দেশে যে পিপিই পাঠানো হচ্ছে তার সঠিক ব্যবহার করতে হবে। সেগুলো যেন অপব্যবহার না হয় সেদিকে নজর রাখতে হবে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিক যেন খোলা থাকে, সেখানে যেন সেবা দেয়া হয় সেদিকে নজর দিতে হবে। করোনা রোগীদের সেবায় নিয়োজিত ডাক্তার-নার্সদের জন্য প্যাকেজ ঘোষণা করায় তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তিনি সবসময় করোনা বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন। এই যুদ্ধে তিনি চিকিৎসকদের সঙ্গে রয়েছেন। আমরা সবাই করোনা মোকাবেলায় কাজ করছি। আমরা ইতোমধ্যে ১৬টা ল্যাব-বসিয়েছি। এসব ল্যাবে যেন বেশি বেশি পরীক্ষা করা হয়, সেদিকে নজর রাখতে হবে। বেশি পরীক্ষা হলে বেশি রোগী চিহ্নিত হবে। তাহলে আমরা রোগটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারব। দেশবাসীর উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, মসজিদে নামাজের বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে। কারণ বিভিন্ন দেশে ওখান থেকেই সংক্রমণ ছড়িয়েছে। তবে আমাদের হতাশ হওয়ার কিছু নেই। অনেক দেশ করোনা মোকাবেলা করতে পেরেছে। আশা রাখছি, আমরাও পারব। আমরা শুনেছি চিকেন পক্সে একসময় এ দেশে মানুষের মৃত্যু হয়েছে। প্লেগে লাখ লাখ মানুষ মারা গেছে। এখন আমরা দেখছি করোনায় ইতোমধ্যে ৭০ হাজার মানুষ মারা গেছে। আমাদের দেশেও এ রোগটি এসেছে। তবে আমাদের দেশে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা অনেক কম। আমরা সবার রোগমুক্তি কামনা করি। বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের প্রতিপাদ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য সেবায় যেভাবে ডাক্তার গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি নার্সরাও। তবে নার্সরা বেশি ঝুঁকি নিয়ে থাকেন।

প্রধানমন্ত্রী নার্সদের যথেষ্ট ভালোবাসেন, তাদের দ্বিতীয় শ্রেণির মর্যাদা দিয়েছেন, সুযোগ সুবিধা বাড়িয়েছেন, উচ্চ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছেন, মিডওয়াইফদের উচ্চমানের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে, ডাক্তার যখন রোগীকে দেখে চলে যান, তখন নার্সরা তাদের সেবা দেয়। আমরা মনে করি করোনা আক্রান্তদের সেবা নার্সরা দিয়ে যাচ্ছেন। আমরা নার্সদের সঙ্গে আছি।

দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য : ‘নার্স ও মিডওয়াইফদের দায়িত্বে সহযোগিতা, মানসম্পন্ন সেবার নিশ্চয়তা’। সভায় অন্য বক্তারা বলেন, স্বাস্থ্যসেবায় জয়ী হতে হলে চিকিৎসকসহ স্টেক হোল্ডারদের প্রশিক্ষিত করতে হবে। এই পরিস্থিতি উত্তরণের পর অবশ্যই সেদিকে গুরুত্বারোপ করতে হবে। নার্স ও মিডওয়াইফদের সহযোগিতা করতে হবে, নার্স ও মিডওয়াইফদের দায়িত্ব যথযথভাবে পালনে সবাইকে তাদের সহযোগিতা করতে হবে। এখন করোনাভাইরাস চলছে, তার মানে এই নয় এখন কোনো মা প্রসূতি হবে না, অন্য কোনো রোগী অসুস্থ হবে না। এসব ক্ষেত্রে সবচেয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে নার্স ও মিডওয়াইফদের। তাই সংশ্লিষ্ট সবারই উচিত তাদের সহযোগিতা করা।

 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত