খেলাপিরা প্রণোদনা তহবিল থেকে ঋণ পাবেন না
jugantor
শিল্প ও সেবা খাতে মূলধন নীতিমালা
খেলাপিরা প্রণোদনা তহবিল থেকে ঋণ পাবেন না

  যুগান্তর রিপোর্ট  

১৩ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাভাইরাসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য চলতি মূলধন হিসাবে ৩০ হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণের নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নীতিমালা অনুযায়ী কোনো ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠান এ সুবিধা পাবে না।

করোনাভাইরাসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য চলতি মূলধন হিসাবে ৩০ হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণের নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নীতিমালা অনুযায়ী কোনো ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠান এ সুবিধা পাবে না।

একই সঙ্গে কোনো প্রতিষ্ঠানের ঋণ মন্দ হিসাবে শ্রেণীবিন্যাসিত হওয়ার পর ইতোমধ্যে যদি তিনবারের বেশি নবায়ন করা হয়ে থাকে, তবে ওই প্রতিষ্ঠানও এ প্যাকেজের আওতায় ঋণ সুবিধা পাবে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জারি করা নীতিমালা থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

রোববার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে একটি সার্কুলারের মাধ্যমে নীতিমালাটি জারি করে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

এটি জারির সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হবে। ফলে নীতিমালা জারির পর থেকেই ৩০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজটি কার্যকর হয়েছে। এখন এর আওতায় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ঋণ বিতরণ করতে পারবে।

নীতিমালায় বলা হয়, ৯ শতাংশ সুদে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো নিজস্ব তহবিল থেকে এসব ঋণ দেবে। ঋণের বিপরীতে সুদ ভর্তুকি বাবদ সরকার দেবে সাড়ে ৪ শতাংশ এবং বাকি সাড়ে ৪ শতাংশ সুদ গ্রাহকের কাছ থেকে আদায় করতে হবে।

যেসব শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠান করোনাভাইরাসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শুধু ওইসব প্রতিষ্ঠান এ তহবিল থেকে চলতি মূলধন ঋণ সুবিধা পাবে। এ ঋণ নিয়ে আগের কোনো ঋণ পরিশোধ করা যাবে না।

প্যাকেজের আওতায় ঋণ দেয়া হবে তিন বছর মেয়াদে। এর মধ্যে এক বছর পর্যন্ত সরকার সুদ ভর্তুকি দেবে। বাকি দুই বছর নির্ধারিত হারে আরোপিত সুদের পুরোটাই গ্রাহককে পরিশোধ করতে হবে।

কোনো নতুন ব্যবসা শুরু করা বা কোনো প্রতিষ্ঠান সংস্কার বা কোনো ইউনিট বাড়ানোর জন্য এসব ঋণ ব্যবহার করা যাবে না। শুধু চলমান শিল্পের চলতি মূলধন হিসেবে এসব অর্থ ব্যবহার করতে হবে।

প্রতিষ্ঠানগুলো চলতি মূলধন হিসেবে এখন পর্যন্ত যে পরিমাণ ঋণ সুবিধা ভোগ করছে, তার ৩০ শতাংশ এ তহবিল থেকে নেয়া যাবে। কোনো প্রতিষ্ঠান এ ঋণ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়ে খেলাপি হলে সরকার থেকে ভর্তুকি বাবদ সুদ পাওয়া যাবে না।

সেক্ষেত্রে সুদ আদায় করতে হবে গ্রাহকের কাছ থেকে। খেলাপি হলে তা নবায়ন করা যাবে না। তবে গ্রাহকের লেনদেন সন্তোষজনক হলে ব্যাংক গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে নবায়ন করা যাবে।

সেক্ষেত্রে ভর্তুকি বাবদ সরকারের দেয়া সুদ পাওয়া যাবে না। গ্রাহক কোনো কারণে সুদ বাবদ সাড়ে ৪ শতাংশ পরিশোধ না করলে তা গ্রাহকের দায় হিসেবে বিবেচিত হবে।

এতে আরও বলা হয়, প্রতিটি ব্যাংকের ঋণ বিতরণের একটি সীমা থাকবে। এর বেশি ঋণ বিতরণ করলে সুদ ভর্তুকি পাওয়া যাবে না। কোনো গ্রাহককে বড় অংকের ঋণসীমার বেশি ঋণ দেয়া যাবে না।

২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঋণের স্থিতির মধ্যে স্ব স্ব ব্যাংকের অবদান এবং সম্ভাব্য ঋণ চাহিদার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রতিটি ব্যাংক এ প্যাকেজের আওতায় ঋণের চাহিদা নির্ধারণ করবে; যা এ প্যাকেজের আওতায় সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ঋণের প্রাথমিক সীমা হিসেবে বিবেচিত হবে।

ওই সীমার ওপর ভিত্তি করে ব্যাংক তাদের ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

যেহেতু আলোচ্য প্যাকেজের আওতায় মোট তহবিলের পরিমাণ নির্ধারিত রয়েছে, সেহেতু ব্যাংক কর্তৃক ওই সীমা নির্ধারণের পর স্বল্পতম সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনে ওই সীমা বাড়াতে বা কমাতে পারবে।

নীতিমালায় আরও বলা হয়, এ প্যাকেজের আওতায় তফসিলি ব্যাংকের নিজস্ব ঋণ নীতিমালা অনুযায়ী ঋণ মঞ্জুরি অনুমোদিত হতে হবে। তবে প্রতিটি ঋণ বিতরণের আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হবে।

এ ঋণ তদারকিতে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি ‘বিশেষ মনিটরিং ইউনিট’ গঠন করবে। এর আওতায় ঋণ বিশেষভাবে তদারকি করা হবে।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী ৫ এপ্রিল ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার একটি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেন। এর মধ্যে একটি ছিল- শিল্প ও সেবা খাতের শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে চলতি মূলধনের জোগান দিতে ৩০ হাজার কোটি টাকার ঋণ তহবিল।

শিল্প ও সেবা খাতে মূলধন নীতিমালা

খেলাপিরা প্রণোদনা তহবিল থেকে ঋণ পাবেন না

 যুগান্তর রিপোর্ট 
১৩ এপ্রিল ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
করোনাভাইরাসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য চলতি মূলধন হিসাবে ৩০ হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণের নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নীতিমালা অনুযায়ী কোনো ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠান এ সুবিধা পাবে না।
ফাইল ছবি

করোনাভাইরাসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য চলতি মূলধন হিসাবে ৩০ হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণের নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নীতিমালা অনুযায়ী কোনো ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠান এ সুবিধা পাবে না।

একই সঙ্গে কোনো প্রতিষ্ঠানের ঋণ মন্দ হিসাবে শ্রেণীবিন্যাসিত হওয়ার পর ইতোমধ্যে যদি তিনবারের বেশি নবায়ন করা হয়ে থাকে, তবে ওই প্রতিষ্ঠানও এ প্যাকেজের আওতায় ঋণ সুবিধা পাবে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জারি করা নীতিমালা থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

রোববার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে একটি সার্কুলারের মাধ্যমে নীতিমালাটি জারি করে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

এটি জারির সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হবে। ফলে নীতিমালা জারির পর থেকেই ৩০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজটি কার্যকর হয়েছে। এখন এর আওতায় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ঋণ বিতরণ করতে পারবে।

নীতিমালায় বলা হয়, ৯ শতাংশ সুদে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো নিজস্ব তহবিল থেকে এসব ঋণ দেবে। ঋণের বিপরীতে সুদ ভর্তুকি বাবদ সরকার দেবে সাড়ে ৪ শতাংশ এবং বাকি সাড়ে ৪ শতাংশ সুদ গ্রাহকের কাছ থেকে আদায় করতে হবে।

যেসব শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠান করোনাভাইরাসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শুধু ওইসব প্রতিষ্ঠান এ তহবিল থেকে চলতি মূলধন ঋণ সুবিধা পাবে। এ ঋণ নিয়ে আগের কোনো ঋণ পরিশোধ করা যাবে না।

প্যাকেজের আওতায় ঋণ দেয়া হবে তিন বছর মেয়াদে। এর মধ্যে এক বছর পর্যন্ত সরকার সুদ ভর্তুকি দেবে। বাকি দুই বছর নির্ধারিত হারে আরোপিত সুদের পুরোটাই গ্রাহককে পরিশোধ করতে হবে।

কোনো নতুন ব্যবসা শুরু করা বা কোনো প্রতিষ্ঠান সংস্কার বা কোনো ইউনিট বাড়ানোর জন্য এসব ঋণ ব্যবহার করা যাবে না। শুধু চলমান শিল্পের চলতি মূলধন হিসেবে এসব অর্থ ব্যবহার করতে হবে।

প্রতিষ্ঠানগুলো চলতি মূলধন হিসেবে এখন পর্যন্ত যে পরিমাণ ঋণ সুবিধা ভোগ করছে, তার ৩০ শতাংশ এ তহবিল থেকে নেয়া যাবে। কোনো প্রতিষ্ঠান এ ঋণ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়ে খেলাপি হলে সরকার থেকে ভর্তুকি বাবদ সুদ পাওয়া যাবে না।

সেক্ষেত্রে সুদ আদায় করতে হবে গ্রাহকের কাছ থেকে। খেলাপি হলে তা নবায়ন করা যাবে না। তবে গ্রাহকের লেনদেন সন্তোষজনক হলে ব্যাংক গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে নবায়ন করা যাবে।

সেক্ষেত্রে ভর্তুকি বাবদ সরকারের দেয়া সুদ পাওয়া যাবে না। গ্রাহক কোনো কারণে সুদ বাবদ সাড়ে ৪ শতাংশ পরিশোধ না করলে তা গ্রাহকের দায় হিসেবে বিবেচিত হবে।

এতে আরও বলা হয়, প্রতিটি ব্যাংকের ঋণ বিতরণের একটি সীমা থাকবে। এর বেশি ঋণ বিতরণ করলে সুদ ভর্তুকি পাওয়া যাবে না। কোনো গ্রাহককে বড় অংকের ঋণসীমার বেশি ঋণ দেয়া যাবে না।

২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঋণের স্থিতির মধ্যে স্ব স্ব ব্যাংকের অবদান এবং সম্ভাব্য ঋণ চাহিদার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রতিটি ব্যাংক এ প্যাকেজের আওতায় ঋণের চাহিদা নির্ধারণ করবে; যা এ প্যাকেজের আওতায় সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ঋণের প্রাথমিক সীমা হিসেবে বিবেচিত হবে।

ওই সীমার ওপর ভিত্তি করে ব্যাংক তাদের ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

যেহেতু আলোচ্য প্যাকেজের আওতায় মোট তহবিলের পরিমাণ নির্ধারিত রয়েছে, সেহেতু ব্যাংক কর্তৃক ওই সীমা নির্ধারণের পর স্বল্পতম সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনে ওই সীমা বাড়াতে বা কমাতে পারবে।

নীতিমালায় আরও বলা হয়, এ প্যাকেজের আওতায় তফসিলি ব্যাংকের নিজস্ব ঋণ নীতিমালা অনুযায়ী ঋণ মঞ্জুরি অনুমোদিত হতে হবে। তবে প্রতিটি ঋণ বিতরণের আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হবে।

এ ঋণ তদারকিতে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি ‘বিশেষ মনিটরিং ইউনিট’ গঠন করবে। এর আওতায় ঋণ বিশেষভাবে তদারকি করা হবে।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী ৫ এপ্রিল ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার একটি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেন। এর মধ্যে একটি ছিল- শিল্প ও সেবা খাতের শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে চলতি মূলধনের জোগান দিতে ৩০ হাজার কোটি টাকার ঋণ তহবিল।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

১৭ অক্টোবর, ২০২১