চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার জট কমাতে হবে

  চট্টগ্রাম ব্যুরো ১৬ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের অর্থনীতির হৃৎপিণ্ড চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার জট কমাতে হবে। করোনা পরিস্থিতিতে মানুষের চলাচল সীমিত করা হলেও কাজে সমন্বয় করার জন্য বন্দর ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে একজন করে ফোকাল পয়েন্ট রাখতে হবে।

লেনদেনের সুবিধার্থে ব্যাংক খোলা রাখার সময় বৃদ্ধিসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে। বন্দরের কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের আইডি কার্ড সঙ্গে রাখতে হবে। রাষ্ট্র ও সরকারের স্বার্থে টিমওয়ার্কের মাধ্যমে বন্দরকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে।

মঙ্গলবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সমন্বয় সভায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার এবিএম আজাদ এসব কথা বলেন। কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম বন্দরে সৃষ্ট কনটেইনার জট নিরসনের মাধ্যমে পণ্য সরবরাহ পরিস্থিতি উন্নয়নের লক্ষ্যে আয়োজিত সমন্বয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, করোনার বিস্তার ঠেকাতে দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর অনেক শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কনটেইনার ডেলিভারি কমতে থাকে। এ কারণে বন্দরের ভেতরে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ কনটেইনার জট। ইয়ার্ডে ৪৯ হাজার টিইইউএস (টোয়েন্টি ফিট ইকুইভেলেন্ট ইউনিটস) কনটেইনার রাখার জায়গা থাকলেও সোমবার পর্যন্ত ছিল ৪৭ হাজার ৪১৩ টিইইউএস।

নিকট অতীতে বন্দরে একদিনে এত বিপুলসংখ্যক কনটেইনার জমা হওয়ার নজির নেই। এদিকে জাহাজ থেকে কনটেইনার নামিয়ে রাখার জায়গা না থাকায় জেটিতে পণ্য হ্যান্ডলিংও কমে এসেছে। স্বাভাবিক সময়ে যেখানে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৮ হাজার টিইইউএস কনটেইনার জাহাজে উঠানো-নামাতো হতো, সেখানে সোমবার হয়েছে মাত্র ২ হাজার ৯৫৯ টিইইউএস। পণ্য হ্যান্ডলিং কমে যাওয়ায় বহির্নোঙরে বাড়ছে অপেক্ষমাণ জাহাজের সংখ্যা। এ অবস্থায় বন্দর সচল রাখাটাই এখন কঠিন হয়ে পড়েছে।

সমন্বয় সভায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ‘বন্দরের কনটেইনার জট কমাতে নিজের স্বার্থের কথা চিন্তা না করে সমন্বিত প্রস্তাব পাঠাতে হবে।’

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল শেখ মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘মোংলা বন্দর বন্ধ হলে দেশের তেমন ক্ষতি হবে না। দেশ-বিদেশে ৯৫ শতাংশ আমদানি-রফতানি চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে হয়। এ বন্দর বন্ধ হলে দেশ ও সরকারের হার্ট বন্ধ হয়ে যাবে। কনটেইনার ডেলিভারি না হওয়ার কারণে জট লেগে আছে। আমরা সমস্যা চিহ্নিত করতে পেরেছি। সবার সহযোগিতা পেলে ৪ দিনের মধ্যে ম্যানেজ করতে পারব। যে কোনো পরিস্থিতি হোক না কেন, দেশের বৃহৎ স্বার্থে বন্দর চালু রাখার জন্য আন্তরিকভাবে চেষ্টা করতে হবে। করোনা পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদিও হতে পারে। আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে। বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বন্দর ব্যবহারকারী অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন এগিয়ে এলে আমদানি-রফতানি স্বাভাবিক থাকবে।’

কাস্টম হাউস কমিশনার এম ফখরুল আলম বলেন, ‘রফতানিতে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। বিলাসবহুল বাণিজ্যিক পণ্য আমদানি ছাড়ে কিছুটা বিধিনিষেধ আছে। কিন্তু নিত্যপণ্য, ফল, শিল্পের কাঁচামাল, মূলধনী যন্ত্রপাতি, কৃষি উপকরণ ছাড় হচ্ছে। এখন প্রতিদিন ১ হাজারের বেশি ডকুমেন্ট সাবমিট হচ্ছে। বন্ডের পণ্য খালাস করে সুবিধামতো জায়গায় রাখতে বড় ঝুঁকি দেখি না। কাস্টম হাউস সার্বক্ষণিক খোলা। ব্যাংক বেলা ৩-৪টা পর্যন্ত খোলা রাখলে আমদানিকারকদের সুবিধা হবে। বন্দরের জট কমাতে আমদানিকারককে এগিয়ে আসতে হবে।’

সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) শংকর রঞ্জন সাহা, ডিজিএফআইর কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কবীর আহাম্মদ, বন্দরের সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) মো. জাফর আলম, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন, সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) এসএম মোস্তাক আহমদ খান, বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আহসানুল হক চৌধুরী প্রমুখ।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত