ভৈরব বাজারে হাজার হাজার মণ নতুন ধান ক্রেতা নেই
jugantor
ভৈরব বাজারে হাজার হাজার মণ নতুন ধান ক্রেতা নেই

  ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি  

২১ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব বাজারে নতুন ধান আমদানি শুরু হলেও ক্রেতা নেই। হাজার হাজার মণ ধান ট্রলারযোগে নদীপথে হাওর এলাকা থেকে ভৈরবে আমদানি হচ্ছে। হাওরে নতুন ধান কাটা শুরু হলেই প্রতি বছর বৈশাখ মাসের শুরুতেই ৬ জেলার কমপক্ষে ২৫টি উপজেলায় উৎপাদিত ধান কৃষক ও পাইকাররা ভৈরব বাজারে নিয়ে আসে। জেলাগুলো হল- কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ। ব্যবসায়ীদের গুদামে ধারণ ক্ষমতা না থাকায় এসব ধান ভৈরব বাজারের নদীর পারে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। ভৈরবে ধানের আড়তদার এমএ মান্নান জানালেন, সোমবার ভৈরবে প্রতি মণ মোটা ধান ৪৫০-৪৭০ টাকা ও চিকন ধান ৬০০-৬৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

তারপরও ক্রেতা নেই বাজারে। ভৈরব বাজারকে লকডাউন করায় জরুরি দোকানপাটসহ কৃষিজাত পণ্যের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে বলা হয়েছে। সীমিত সময়ের মধ্যে ধান ওঠানামা করা যায় না। ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম জানান, ভৈরবে আমদানিকৃত ধান আশুগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জের মিরকাদিম, চাঁদপুর এলাকার ক্রেতারা কিনে নিয়ে যায়। আশপাশের এলাকার রাইস মিল মালিকরাও ধান কিনতে আসে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো ক্রেতা ভৈরবে আসতে পারছে না। সড়ক, রেল ও নৌপথে কোনো যানবাহন চলছে না। এ কারণে আমদানিকৃত ধান নিয়ে বিপদে আছি।

ধান ব্যবসায়ী আলী হোসেন জানান, হাওরের কৃষকরা এখন ধান কাটার পর ভালোভাবে না শুকিয়ে আধাকাঁচা ধান বিক্রির জন্য ভৈরব বাজারে পাঠাচ্ছে। ক্রেতা না থাকায় আমদানিকৃত কাঁচা ধান নিয়ে বিপদে আছি। ধানের আড়তদার লিটন সাহা জানান, প্রচুর ধান হাওর থেকে আসছে। গুদামে জায়গা নেই, তাই নদীর পারে স্তূপ করে রেখেছি। কিছু কিছু ধান আশুগঞ্জে বিক্রি করছি। কিন্তু ব্যাংক বন্ধ থাকায় লেনদেন করতে পারছি না। ব্যবসায়ী মাহবুব জানান, বর্তমান লকডাউনে দিনে তিন ঘণ্টা প্রতিষ্ঠান খোলা রেখে বেচাকেনা সম্ভব হচ্ছে না। কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা থেকে ভৈরবে ধান নিয়ে আসা কৃষক জমির হোসেনের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, আমি একজন ক্ষুদ্র কৃষক।

ধারদেনা করে ফসল করেছি। ধান কাটার পর গোলায় তোলার আগেই অর্ধেক ধান বিক্রি করতে হয় দেনা পরিশোধ করতে। ১০০ মণ ধান নিয়ে গতকাল ভৈরবে এসেছি কিন্তু এখনও বিক্রি না হওয়ায় দুশ্চিন্তায় আছি। আশুগঞ্জের রাইস মিল মালিক জিন্না খন্দকার জানান, ধানের অভাবে গত তিন মাস চাতাল বন্ধ ছিল। এখন শ্রমিকের অভাবে চাতালগুলো চালু করতে পারছি না। চালু করলেও করোনা পরিস্থিতিতে যানবাহন বন্ধ থাকায় ভৈরব থেকে ধান আনা সম্ভব হবে না। ভৈরব চেম্বার সভাপতি আলহাজ হুমায়ূন কবির জানান, বৈশাখ থেকে আষাঢ় মাস পর্যন্ত হাওরের কয়েকটি জেলার লাখ লাখ মণ ধান প্রতি বছর ভৈরবে আমদানি হয়। পরিবহন বন্ধ থাকায় ক্রেতারা ভৈরবে আসতে পারছে না। ফলে আমদানিকৃত ধান অবিক্রীত হয়ে রয়েছে। ধান নিয়ে ভৈরব বাজারের ব্যবসায়ীরা এখন বিপাকে, এ কথা তিনি স্বীকার করেন। ভৈরব উপজেলা কৃষি অফিসার আলম শরীফ খান জানান, কৃষিপণ্যের দোকান খোলা থাকার কথা। তবে পরিবরহন বন্ধের কারণে হয়তো ক্রেতারা ভৈরবে আসতে পারছেন না। দেশের এ দুর্যোগ মুহূর্তে সবারই ক্ষতি হচ্ছে।

ভৈরব বাজারে হাজার হাজার মণ নতুন ধান ক্রেতা নেই

 ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি 
২১ এপ্রিল ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব বাজারে নতুন ধান আমদানি শুরু হলেও ক্রেতা নেই। হাজার হাজার মণ ধান ট্রলারযোগে নদীপথে হাওর এলাকা থেকে ভৈরবে আমদানি হচ্ছে। হাওরে নতুন ধান কাটা শুরু হলেই প্রতি বছর বৈশাখ মাসের শুরুতেই ৬ জেলার কমপক্ষে ২৫টি উপজেলায় উৎপাদিত ধান কৃষক ও পাইকাররা ভৈরব বাজারে নিয়ে আসে। জেলাগুলো হল- কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ। ব্যবসায়ীদের গুদামে ধারণ ক্ষমতা না থাকায় এসব ধান ভৈরব বাজারের নদীর পারে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। ভৈরবে ধানের আড়তদার এমএ মান্নান জানালেন, সোমবার ভৈরবে প্রতি মণ মোটা ধান ৪৫০-৪৭০ টাকা ও চিকন ধান ৬০০-৬৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

তারপরও ক্রেতা নেই বাজারে। ভৈরব বাজারকে লকডাউন করায় জরুরি দোকানপাটসহ কৃষিজাত পণ্যের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে বলা হয়েছে। সীমিত সময়ের মধ্যে ধান ওঠানামা করা যায় না। ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম জানান, ভৈরবে আমদানিকৃত ধান আশুগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জের মিরকাদিম, চাঁদপুর এলাকার ক্রেতারা কিনে নিয়ে যায়। আশপাশের এলাকার রাইস মিল মালিকরাও ধান কিনতে আসে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো ক্রেতা ভৈরবে আসতে পারছে না। সড়ক, রেল ও নৌপথে কোনো যানবাহন চলছে না। এ কারণে আমদানিকৃত ধান নিয়ে বিপদে আছি।

ধান ব্যবসায়ী আলী হোসেন জানান, হাওরের কৃষকরা এখন ধান কাটার পর ভালোভাবে না শুকিয়ে আধাকাঁচা ধান বিক্রির জন্য ভৈরব বাজারে পাঠাচ্ছে। ক্রেতা না থাকায় আমদানিকৃত কাঁচা ধান নিয়ে বিপদে আছি। ধানের আড়তদার লিটন সাহা জানান, প্রচুর ধান হাওর থেকে আসছে। গুদামে জায়গা নেই, তাই নদীর পারে স্তূপ করে রেখেছি। কিছু কিছু ধান আশুগঞ্জে বিক্রি করছি। কিন্তু ব্যাংক বন্ধ থাকায় লেনদেন করতে পারছি না। ব্যবসায়ী মাহবুব জানান, বর্তমান লকডাউনে দিনে তিন ঘণ্টা প্রতিষ্ঠান খোলা রেখে বেচাকেনা সম্ভব হচ্ছে না। কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা থেকে ভৈরবে ধান নিয়ে আসা কৃষক জমির হোসেনের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, আমি একজন ক্ষুদ্র কৃষক।

ধারদেনা করে ফসল করেছি। ধান কাটার পর গোলায় তোলার আগেই অর্ধেক ধান বিক্রি করতে হয় দেনা পরিশোধ করতে। ১০০ মণ ধান নিয়ে গতকাল ভৈরবে এসেছি কিন্তু এখনও বিক্রি না হওয়ায় দুশ্চিন্তায় আছি। আশুগঞ্জের রাইস মিল মালিক জিন্না খন্দকার জানান, ধানের অভাবে গত তিন মাস চাতাল বন্ধ ছিল। এখন শ্রমিকের অভাবে চাতালগুলো চালু করতে পারছি না। চালু করলেও করোনা পরিস্থিতিতে যানবাহন বন্ধ থাকায় ভৈরব থেকে ধান আনা সম্ভব হবে না। ভৈরব চেম্বার সভাপতি আলহাজ হুমায়ূন কবির জানান, বৈশাখ থেকে আষাঢ় মাস পর্যন্ত হাওরের কয়েকটি জেলার লাখ লাখ মণ ধান প্রতি বছর ভৈরবে আমদানি হয়। পরিবহন বন্ধ থাকায় ক্রেতারা ভৈরবে আসতে পারছে না। ফলে আমদানিকৃত ধান অবিক্রীত হয়ে রয়েছে। ধান নিয়ে ভৈরব বাজারের ব্যবসায়ীরা এখন বিপাকে, এ কথা তিনি স্বীকার করেন। ভৈরব উপজেলা কৃষি অফিসার আলম শরীফ খান জানান, কৃষিপণ্যের দোকান খোলা থাকার কথা। তবে পরিবরহন বন্ধের কারণে হয়তো ক্রেতারা ভৈরবে আসতে পারছেন না। দেশের এ দুর্যোগ মুহূর্তে সবারই ক্ষতি হচ্ছে।