কাল-পরশু চট্টগ্রামে হতে পারে ভারিবর্ষণ, জলাবদ্ধতার আশঙ্কা
jugantor
রাজধানীসহ কয়েক জেলায় কালবৈশাখীর ছোবল
কাল-পরশু চট্টগ্রামে হতে পারে ভারিবর্ষণ, জলাবদ্ধতার আশঙ্কা

  যুগান্তর রিপোর্ট  

২৪ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বৈশাখের দশম দিনে বৃহস্পতিবার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বয়ে গেছে কালবৈশাখী। রাজধানীতে এর গতি ছিল ৭৪ কিলোমিটার, সঙ্গে শিলাবর্ষণ।

সাধারণত সন্ধ্যার পর বা মধ্যরাতে কালবৈশাখী বয়ে যায়। কিন্তু বিকাল ৪টায় শুরু হওয়া আধাঘণ্টার বৈকালিক এ ঝড় শীতল করে যায় ধরণী। চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী এটি উড়িয়ে যায় গাছপালা। সঙ্গে ছিল একপশলা বৃষ্টি। এরপর অবশ্য ঢাকার আকাশ কিছু সময়ের জন্য আলো ঝলমলে হয়। পরক্ষণেই আবার আকাশে জমতে থাকে কালো মেঘ।

আবহাওয়া অধিদফতর (বিএমডি) জানায়, দুপুরেই রাজধানীসহ আশপাশের জেলায় কালবৈশাখী বয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল। এর তিন ঘণ্টা পরই ঘটল ঘটনাটি। ঢাকার সঙ্গে পার্শ্ববর্তী জেলা টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ এবং সিলেট হয়ে কুমিল্লার ওপর দিয়েও এটি বয়ে যায়।

এদিকে আবহাওয়া ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ এবং ভারতের পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে বৃষ্টিপ্রবণতা বাড়তে পারে। বিশেষ করে ভারতের ত্রিপুরা এবং বরাক নদীর অববাহিকায় ভারি বৃষ্টি হতে পারে। পরে তা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের দিকে সরে যেতে পারে। এর ফলে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে।

বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম শহরে জলাবদ্ধতা থেকে ‘নগরবন্যা’ দেখা দিতে পারে। বুয়েটের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ড. একেএম সাইফুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীতে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী পূর্বদিকে সরে যায়।

এরপর তা উত্তর-পশ্চিমে যায়। এটি ২৫ ও ২৬ এপ্রিলের দিকে চট্টগ্রাম অঞ্চলে অবস্থান করতে পারে। ১৫০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে। তেমনটি হলে চট্টগ্রাম শহর পানিতে তলিয়ে যাবে। ফলে ওই শহরের মানুষ ‘নগরবন্যার’ শিকার হতে পারে। পাশাপাশি ভূমিধসের আশঙ্কাও আছে। কালবৈশাখী ও মেঘের বিদ্যমান পরিস্থিতি অনুযায়ী কম্পিউটারে মডেল বিশ্লেষণ করে এ ধারণা পাওয়া গেছে।

তিনি আরও জানান, মেঘালয়ের দিকে তেমন বেশি বৃষ্টি নেই। তবে ত্রিপুরার দিকে বৃষ্টির প্রবণতা ভালোই দেখা যাচ্ছে। ওই বৃষ্টির কারণে খোয়াই, মনু, কুশিয়ারায় আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে।

ফলে আজমিরীগঞ্জে কালনী নদী, বাল্লায় খোয়াই নদী, অমলশীদে কুশিয়ারা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিতাস, ফেঞ্জুগঞ্জের কুশিয়ারা বিপদসীমার উপরে চলে যেতে পারে। এতে সংশ্লিষ্ট এলাকার হাওরের ফসল নষ্ট হতে পারে।

বিএমডির আবহাওয়াবিদ আরিফ হোসেন জানান, শুক্রবার এবং শনিবারও দেশের বিভিন্ন স্থানে কালবৈশাখী বয়ে যেতে পারে। তবে টানা বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই। কালবৈশাখীর কারণে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে।

রাজধানীসহ কয়েক জেলায় কালবৈশাখীর ছোবল

কাল-পরশু চট্টগ্রামে হতে পারে ভারিবর্ষণ, জলাবদ্ধতার আশঙ্কা

 যুগান্তর রিপোর্ট 
২৪ এপ্রিল ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বৈশাখের দশম দিনে বৃহস্পতিবার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বয়ে গেছে কালবৈশাখী। রাজধানীতে এর গতি ছিল ৭৪ কিলোমিটার, সঙ্গে শিলাবর্ষণ।

সাধারণত সন্ধ্যার পর বা মধ্যরাতে কালবৈশাখী বয়ে যায়। কিন্তু বিকাল ৪টায় শুরু হওয়া আধাঘণ্টার বৈকালিক এ ঝড় শীতল করে যায় ধরণী। চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী এটি উড়িয়ে যায় গাছপালা। সঙ্গে ছিল একপশলা বৃষ্টি। এরপর অবশ্য ঢাকার আকাশ কিছু সময়ের জন্য আলো ঝলমলে হয়। পরক্ষণেই আবার আকাশে জমতে থাকে কালো মেঘ।

আবহাওয়া অধিদফতর (বিএমডি) জানায়, দুপুরেই রাজধানীসহ আশপাশের জেলায় কালবৈশাখী বয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল। এর তিন ঘণ্টা পরই ঘটল ঘটনাটি। ঢাকার সঙ্গে পার্শ্ববর্তী জেলা টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ এবং সিলেট হয়ে কুমিল্লার ওপর দিয়েও এটি বয়ে যায়।

এদিকে আবহাওয়া ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ এবং ভারতের পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে বৃষ্টিপ্রবণতা বাড়তে পারে। বিশেষ করে ভারতের ত্রিপুরা এবং বরাক নদীর অববাহিকায় ভারি বৃষ্টি হতে পারে। পরে তা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের দিকে সরে যেতে পারে। এর ফলে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে।
 

বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম শহরে জলাবদ্ধতা থেকে ‘নগরবন্যা’ দেখা দিতে পারে। বুয়েটের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ড. একেএম সাইফুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীতে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী পূর্বদিকে সরে যায়।
 

এরপর তা উত্তর-পশ্চিমে যায়। এটি ২৫ ও ২৬ এপ্রিলের দিকে চট্টগ্রাম অঞ্চলে অবস্থান করতে পারে। ১৫০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে। তেমনটি হলে চট্টগ্রাম শহর পানিতে তলিয়ে যাবে। ফলে ওই শহরের মানুষ ‘নগরবন্যার’ শিকার হতে পারে। পাশাপাশি ভূমিধসের আশঙ্কাও আছে। কালবৈশাখী ও মেঘের বিদ্যমান পরিস্থিতি অনুযায়ী কম্পিউটারে মডেল বিশ্লেষণ করে এ ধারণা পাওয়া গেছে।

তিনি আরও জানান, মেঘালয়ের দিকে তেমন বেশি বৃষ্টি নেই। তবে ত্রিপুরার দিকে বৃষ্টির প্রবণতা ভালোই দেখা যাচ্ছে। ওই বৃষ্টির কারণে খোয়াই, মনু, কুশিয়ারায় আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে।

ফলে আজমিরীগঞ্জে কালনী নদী, বাল্লায় খোয়াই নদী, অমলশীদে কুশিয়ারা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিতাস, ফেঞ্জুগঞ্জের কুশিয়ারা বিপদসীমার উপরে চলে যেতে পারে। এতে সংশ্লিষ্ট এলাকার হাওরের ফসল নষ্ট হতে পারে।

বিএমডির আবহাওয়াবিদ আরিফ হোসেন জানান, শুক্রবার এবং শনিবারও দেশের বিভিন্ন স্থানে কালবৈশাখী বয়ে যেতে পারে। তবে টানা বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই। কালবৈশাখীর কারণে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে।