করোনার প্রভাব মোকাবেলা: আইডিবি থেকে বিশেষ ঋণ পাচ্ছে বাংলাদেশ
jugantor
করোনার প্রভাব মোকাবেলা: আইডিবি থেকে বিশেষ ঋণ পাচ্ছে বাংলাদেশ

  যুগান্তর রিপোর্ট  

২৭ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি)

অর্থনীতিতে করোনাভাইরাসের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলার জন্য ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি) বাংলাদেশকে বিশেষ ঋণ সহায়তা দেবে।

জ্বালানি তেল আমদানির পাশাপাশি ওআইসি সদস্যভুক্ত দেশগুলো থেকে শিল্পের যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানির জন্য এসব ঋণ ব্যবহার করা যাবে। একই সঙ্গে কমানো হবে আইডিবি ঋণের সুদের হার।

এদিকে আইডিবির বোর্ড অব গভর্নরস ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে করোনাভাইরাসের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত সদস্য দেশগুলোর প্রত্যেককে দেড় কোটি থেকে ২৫ কোটি ডলার পর্যন্ত বিশেষ ঋণ সহায়তা দেবে। ইতোমধ্যে সদস্য দেশগুলোকে ২৩০ কোটি ডলার ঋণ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে আইডিবি।

এর মধ্যে নয়টি দেশের অনুকূলে ৪৪ কোটি ৪৫ লাখ ডলার বরাদ্দ দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে উগান্ডাকে ২ কোটি ২০ লাখ ডলার, মালিকে ২ কোটি ২৫ লাখ ডলার, মালদ্বীপকে ২ কোটি ৫৬ লাখ ডলার দেয়া হবে।

ওই দেশগুলো আইডিবির কাছে জরুরি ভিত্তিতে ঋণ সহায়তা চেয়েছে। যে কারণে তাদের অনুকূলে ঋণের অর্থ ছাড় করা হয়েছে। বাংলাদেশ এখনও আইডিবির কাছে কোনো ঋণ সহায়তা চায়নি। যে কারণে আইডিবি থেকে বাংলাদেশের অনুকূলে কোনো ঋণ সহায়তা ছাড় করেনি।

তবে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল (আইএমএফ), এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), বিশ্বব্যাংক ও এশিয়ান অবকাঠামো উন্নয়ন ব্যাংকের কাছে জরুরি ভিত্তিতে প্রায় ৪৫০ কোটি ডলারের ঋণ সহায়তা চেয়েছে। আইডিবির অর্থায়নে এখন পর্যন্ত ৪৩১টি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে।

এর মধ্যে শেষ হয়েছে ৩৫৯টি। চলমান আছে ৭২টি। এসব প্রকল্পে মোট ২১৪ কোটি ডলার অর্থায়ন করেছে আইডিবি। এর মধ্যে জ্বালানি তেল আমদানিতে আইডিবি বাংলাদেশকে বড় অঙ্কের ঋণ দেয়।

প্রতিবছর গড়ে এ খাতে ১৫০ কোটি ডলার ঋণ দেয়। জ্বালানি তেল বিক্রি করে এসব ঋণ আবার পরিশোধ করে দেয় বাংলাদেশ।

বর্তমানে করোনার প্রভাবে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দাম এতটাই কমে গেছে যে, এখন অপরিশোধিত তেল কিনলে উল্টো বিক্রেতারা আরও ঋণ দিচ্ছে। ফলে জ্বালানি তেল আমদানিতে এখন পরিবহন ও অন্যান্য খাতে খুবই ঋণ কম লাগবে।

এ কারণে ঋণের বাকি অর্থ বাংলাদেশ অন্য খাতে ব্যবহার করতে চাচ্ছে। এ বিষয়ে আইডিবির সঙ্গে এখন আলোচনা চলছে। এর মধ্যে আইডিবি অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশনের (ওআইসি) সদস্য দেশগুলো থেকে শিল্পের যন্ত্রপাতি বা কাঁচামাল আমদানি করলে এর বিপরীতে অর্থায়ন করার একটি প্রকল্প নিয়েছে।

এর আওতায় বাংলাদেশ ঋণ নিতে পারে। সে ক্ষেত্রে সরকারি খাতের পাশাপাশি বেসরকারি খাতও এ খাতে আগ্রহী হবে। তবে ওআইসির দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মিসর, তুরস্ক-এসব দেশ থেকেই সীমিত আকারে কিছু শিল্পের কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি আমদানির সুযোগ রয়েছে।

এদিকে আইডিবির ঋণের চড়া সুদের হার নিয়ে বাংলাদেশ বরাবরই আপত্তি করে আসছে। আইডিবি ঋণের সুদের হার নির্ধারিত হয় লন্ডন ইন্টার ব্যাংক অফার রেটের (লাইবর) সঙ্গে ১ দশমিক ৫৫ শতাংশ এবং কমিটমেন্ট ফি বাবদ দশমিক ২৫ শতাংশ যোগ করে।

বর্তমানে লাইবর রেট ১ দশমিক ৭৩ শতাংশ। এর সঙ্গে আইডিবির নিজস্ব চার্জগুলো যোগ করলে সুদের হার দাঁড়াচ্ছে প্রায় সাড়ে ৩ শতাংশ। এদিকে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ ঋণ দিচ্ছে ১ শতাংশেরও কম সুদে।

এসব কারণে আইডিবির ঋণের সুদের প্রতি সরকারের ঝোঁক কম। তবে ইদানীং সরকার সরবরাহ ঋণ বা সাপ্লাইয়ার্স ক্রেডিটের আওতায় ৫-৬ শতাংশ সুদেও ঋণ নিচ্ছে।

বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা ওই সুদে বাণিজ্যিক ঋণ নিচ্ছে। ওইসব বাণিজ্যিক ঋণ থেকে আইডিবির ঋণের সুদের হার কম। সে কারণে এখন সরকার ও বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা আইডিবির ঋণের প্রতি আগ্রহী।

তবে ইসলামী দেশগুলো থেকে জ্বালানি তেল ছাড়া বড় অঙ্কের শিল্পের যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানি সুযোগ কম বলে তারা এ ঋণ ব্যবহার করতে পারছেন না।

করোনার প্রভাব মোকাবেলা: আইডিবি থেকে বিশেষ ঋণ পাচ্ছে বাংলাদেশ

 যুগান্তর রিপোর্ট 
২৭ এপ্রিল ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি)
ফাইল ছবি

অর্থনীতিতে করোনাভাইরাসের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলার জন্য ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি) বাংলাদেশকে বিশেষ ঋণ সহায়তা দেবে।

জ্বালানি তেল আমদানির পাশাপাশি ওআইসি সদস্যভুক্ত দেশগুলো থেকে শিল্পের যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানির জন্য এসব ঋণ ব্যবহার করা যাবে। একই সঙ্গে কমানো হবে আইডিবি ঋণের সুদের হার।

এদিকে আইডিবির বোর্ড অব গভর্নরস ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে করোনাভাইরাসের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত সদস্য দেশগুলোর প্রত্যেককে দেড় কোটি থেকে ২৫ কোটি ডলার পর্যন্ত বিশেষ ঋণ সহায়তা দেবে। ইতোমধ্যে সদস্য দেশগুলোকে ২৩০ কোটি ডলার ঋণ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে আইডিবি।

এর মধ্যে নয়টি দেশের অনুকূলে ৪৪ কোটি ৪৫ লাখ ডলার বরাদ্দ দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে উগান্ডাকে ২ কোটি ২০ লাখ ডলার, মালিকে ২ কোটি ২৫ লাখ ডলার, মালদ্বীপকে ২ কোটি ৫৬ লাখ ডলার দেয়া হবে।

ওই দেশগুলো আইডিবির কাছে জরুরি ভিত্তিতে ঋণ সহায়তা চেয়েছে। যে কারণে তাদের অনুকূলে ঋণের অর্থ ছাড় করা হয়েছে। বাংলাদেশ এখনও আইডিবির কাছে কোনো ঋণ সহায়তা চায়নি। যে কারণে আইডিবি থেকে বাংলাদেশের অনুকূলে কোনো ঋণ সহায়তা ছাড় করেনি।

তবে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল (আইএমএফ), এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), বিশ্বব্যাংক ও এশিয়ান অবকাঠামো উন্নয়ন ব্যাংকের কাছে জরুরি ভিত্তিতে প্রায় ৪৫০ কোটি ডলারের ঋণ সহায়তা চেয়েছে। আইডিবির অর্থায়নে এখন পর্যন্ত ৪৩১টি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে।

এর মধ্যে শেষ হয়েছে ৩৫৯টি। চলমান আছে ৭২টি। এসব প্রকল্পে মোট ২১৪ কোটি ডলার অর্থায়ন করেছে আইডিবি। এর মধ্যে জ্বালানি তেল আমদানিতে আইডিবি বাংলাদেশকে বড় অঙ্কের ঋণ দেয়।

প্রতিবছর গড়ে এ খাতে ১৫০ কোটি ডলার ঋণ দেয়। জ্বালানি তেল বিক্রি করে এসব ঋণ আবার পরিশোধ করে দেয় বাংলাদেশ।

বর্তমানে করোনার প্রভাবে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দাম এতটাই কমে গেছে যে, এখন অপরিশোধিত তেল কিনলে উল্টো বিক্রেতারা আরও ঋণ দিচ্ছে। ফলে জ্বালানি তেল আমদানিতে এখন পরিবহন ও অন্যান্য খাতে খুবই ঋণ কম লাগবে।

এ কারণে ঋণের বাকি অর্থ বাংলাদেশ অন্য খাতে ব্যবহার করতে চাচ্ছে। এ বিষয়ে আইডিবির সঙ্গে এখন আলোচনা চলছে। এর মধ্যে আইডিবি অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশনের (ওআইসি) সদস্য দেশগুলো থেকে শিল্পের যন্ত্রপাতি বা কাঁচামাল আমদানি করলে এর বিপরীতে অর্থায়ন করার একটি প্রকল্প নিয়েছে।

এর আওতায় বাংলাদেশ ঋণ নিতে পারে। সে ক্ষেত্রে সরকারি খাতের পাশাপাশি বেসরকারি খাতও এ খাতে আগ্রহী হবে। তবে ওআইসির দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মিসর, তুরস্ক-এসব দেশ থেকেই সীমিত আকারে কিছু শিল্পের কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি আমদানির সুযোগ রয়েছে।

এদিকে আইডিবির ঋণের চড়া সুদের হার নিয়ে বাংলাদেশ বরাবরই আপত্তি করে আসছে। আইডিবি ঋণের সুদের হার নির্ধারিত হয় লন্ডন ইন্টার ব্যাংক অফার রেটের (লাইবর) সঙ্গে ১ দশমিক ৫৫ শতাংশ এবং কমিটমেন্ট ফি বাবদ দশমিক ২৫ শতাংশ যোগ করে।

বর্তমানে লাইবর রেট ১ দশমিক ৭৩ শতাংশ। এর সঙ্গে আইডিবির নিজস্ব চার্জগুলো যোগ করলে সুদের হার দাঁড়াচ্ছে প্রায় সাড়ে ৩ শতাংশ। এদিকে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ ঋণ দিচ্ছে ১ শতাংশেরও কম সুদে।

এসব কারণে আইডিবির ঋণের সুদের প্রতি সরকারের ঝোঁক কম। তবে ইদানীং সরকার সরবরাহ ঋণ বা সাপ্লাইয়ার্স ক্রেডিটের আওতায় ৫-৬ শতাংশ সুদেও ঋণ নিচ্ছে।

বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা ওই সুদে বাণিজ্যিক ঋণ নিচ্ছে। ওইসব বাণিজ্যিক ঋণ থেকে আইডিবির ঋণের সুদের হার কম। সে কারণে এখন সরকার ও বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা আইডিবির ঋণের প্রতি আগ্রহী।

তবে ইসলামী দেশগুলো থেকে জ্বালানি তেল ছাড়া বড় অঙ্কের শিল্পের যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানি সুযোগ কম বলে তারা এ ঋণ ব্যবহার করতে পারছেন না।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

০৪ ডিসেম্বর, ২০২১