করোনায় তছনছ দেশের অর্থনীতি, জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার নিয়ে বিতর্ক
jugantor
করোনায় তছনছ দেশের অর্থনীতি, জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার নিয়ে বিতর্ক

  হামিদ-উজ-জামান  

০৭ মে ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কোভিড-১৯-এর ধাক্কায় চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে জিডিপি (মোট দেশজ উৎপাদন)। প্রবৃদ্ধির হার নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। সরকার ও উন্নয়ন সহযোগীরা একেক রকম কথা বলছেন। করোনার এ মহামারীতে অর্থবছর শেষে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ঠিক কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে সেটি এখনই বলা কঠিন।

তবে করোনা কতদিন স্থায়ী হয় তার ওপরই নির্ভর করছে সব। বিশ্বব্যাংক বলেছে এ বছর জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ২-৩ শতাংশের মধ্যেই থাকবে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বলেছে ২ শতাংশে নেমে যেতে পারে।

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বলেছে করোনার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা গেলে প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৮ শতাংশ হতে পারে। এদিকে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রাথমিক হিসাবে বলা হয়েছে - প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ।

এর আগে বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস ঠিক নয় বলে মন্তব্য করে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছিলেন, এ বছর প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের মধ্যেই থাকবে। তবে প্রবৃদ্ধির হার নিয়ে বিতর্ক থাকলেও করোনায় প্রবৃদ্ধির যে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এ নিয়ে সবাই একমত।

সূত্র বলছে, পরিসংখ্যান ব্যুরোর অর্থবছরের প্রথম ৮ মাসের প্রবৃদ্ধির হার নিয়ে জানতে চাইলে সংস্থার মহাপরিচালক তাজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, এ ধরনের প্রাথমিক কোনো হিসাবই তৈরি করা হয়নি। কেননা অর্থবছরের প্রথম ৮ মাসের অবস্থা তো ভালোই ছিল। বর্তমানে করোনার কারণে সব কিছুই বন্ধ রয়েছে।

প্রথম ৮ মাসের সঙ্গে শেষ ৪ মাসের হিসাব একেবারেই মিলবে না। তাই আমরা প্রতিবছর প্রাথমিক একটি হিসাব তৈরি করলেও এ বছর করিনি। তবে একথা বলতে পারি, এ অর্থবছর প্রবৃদ্ধির হার কম হবে।

পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ড. শামসুল আলম বলেছেন - প্রবৃদ্ধি যে ২-৩ শতাংশে নেমে যাবে একথা ঠিক নয়। কেননা অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্র“য়ারি পর্যন্ত সবকিছুই স্বাভাবিক ছিল। এছাড়া এবার বোরোসহ কৃষিতে ভালো ফলন হয়েছে। লকডাউন চললেও দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫-৬ শতাংশের মধ্যেই থাকবে।

তবে ১২ এপ্রিল ‘সাউথ এশিয়া ইকোনমিক ফোকাস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংক বলেছে, এ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ২-৩ শতাংশে নেমে আসতে পারে। তবে তা নির্ভর করছে করোনা কতটা দীর্ঘায়িত হবে। এর পরদিন ১৩ এপ্রিল অর্থমন্ত্রী বলেছেন, বিশ্বব্যাংকের এ পূর্বাভাস সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, এখনই এটা বলার সময় আসেনি।

জানতে চাইলে ঢাকায় বিশ্বব্যাংকের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন - করোনার কারণে অবশ্যই জিডিপি প্রবৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে সন্দেহ নেই। বিশ্বব্যাংক ২-৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধির কথা বলেছে। কিন্তু ওই প্রতিবেদনে অনেক দেশের নেগেটিভ প্রবৃদ্ধি দেখানো হয়েছে। করোনা দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি নেগেটিভ হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের পরদিন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএসএফ) জিডিপি প্রবৃদ্ধি ২ শতাংশে নেমে আসবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে।

‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক-২০২০, দ্য গ্রেট লকডাউন’ প্রতিবেদনে বিভিন্ন দেশের ২০২০ সালে জিডিপি প্রবৃদ্ধির এ পূর্বাভাস দেয়। তবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বলেছে, করোনার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে পারলে এ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি জোরালোই থাকবে বলে মনে করছে।

সংস্থার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ, যা এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। ৩ এপ্রিল প্রকাশিত ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক-২০২০’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। সরকার চলতি অর্থবছর ৮ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছিল।

করোনায় তছনছ দেশের অর্থনীতি, জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার নিয়ে বিতর্ক

 হামিদ-উজ-জামান 
০৭ মে ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কোভিড-১৯-এর ধাক্কায় চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে জিডিপি (মোট দেশজ উৎপাদন)। প্রবৃদ্ধির হার নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। সরকার ও উন্নয়ন সহযোগীরা একেক রকম কথা বলছেন। করোনার এ মহামারীতে অর্থবছর শেষে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ঠিক কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে সেটি এখনই বলা কঠিন।

তবে করোনা কতদিন স্থায়ী হয় তার ওপরই নির্ভর করছে সব। বিশ্বব্যাংক বলেছে এ বছর জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ২-৩ শতাংশের মধ্যেই থাকবে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বলেছে ২ শতাংশে নেমে যেতে পারে।

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বলেছে করোনার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা গেলে প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৮ শতাংশ হতে পারে। এদিকে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রাথমিক হিসাবে বলা হয়েছে - প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ।

এর আগে বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস ঠিক নয় বলে মন্তব্য করে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছিলেন, এ বছর প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের মধ্যেই থাকবে। তবে প্রবৃদ্ধির হার নিয়ে বিতর্ক থাকলেও করোনায় প্রবৃদ্ধির যে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এ নিয়ে সবাই একমত।

সূত্র বলছে, পরিসংখ্যান ব্যুরোর অর্থবছরের প্রথম ৮ মাসের প্রবৃদ্ধির হার নিয়ে জানতে চাইলে সংস্থার মহাপরিচালক তাজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, এ ধরনের প্রাথমিক কোনো হিসাবই তৈরি করা হয়নি। কেননা অর্থবছরের প্রথম ৮ মাসের অবস্থা তো ভালোই ছিল। বর্তমানে করোনার কারণে সব কিছুই বন্ধ রয়েছে।

প্রথম ৮ মাসের সঙ্গে শেষ ৪ মাসের হিসাব একেবারেই মিলবে না। তাই আমরা প্রতিবছর প্রাথমিক একটি হিসাব তৈরি করলেও এ বছর করিনি। তবে একথা বলতে পারি, এ অর্থবছর প্রবৃদ্ধির হার কম হবে।

পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ড. শামসুল আলম বলেছেন - প্রবৃদ্ধি যে ২-৩ শতাংশে নেমে যাবে একথা ঠিক নয়। কেননা অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্র“য়ারি পর্যন্ত সবকিছুই স্বাভাবিক ছিল। এছাড়া এবার বোরোসহ কৃষিতে ভালো ফলন হয়েছে। লকডাউন চললেও দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫-৬ শতাংশের মধ্যেই থাকবে।

তবে ১২ এপ্রিল ‘সাউথ এশিয়া ইকোনমিক ফোকাস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংক বলেছে, এ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ২-৩ শতাংশে নেমে আসতে পারে। তবে তা নির্ভর করছে করোনা কতটা দীর্ঘায়িত হবে। এর পরদিন ১৩ এপ্রিল অর্থমন্ত্রী বলেছেন, বিশ্বব্যাংকের এ পূর্বাভাস সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, এখনই এটা বলার সময় আসেনি।

জানতে চাইলে ঢাকায় বিশ্বব্যাংকের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন - করোনার কারণে অবশ্যই জিডিপি প্রবৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে সন্দেহ নেই। বিশ্বব্যাংক ২-৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধির কথা বলেছে। কিন্তু ওই প্রতিবেদনে অনেক দেশের নেগেটিভ প্রবৃদ্ধি দেখানো হয়েছে। করোনা দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি নেগেটিভ হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের পরদিন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএসএফ) জিডিপি প্রবৃদ্ধি ২ শতাংশে নেমে আসবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে।

‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক-২০২০, দ্য গ্রেট লকডাউন’ প্রতিবেদনে বিভিন্ন দেশের ২০২০ সালে জিডিপি প্রবৃদ্ধির এ পূর্বাভাস দেয়। তবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বলেছে, করোনার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে পারলে এ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি জোরালোই থাকবে বলে মনে করছে।

সংস্থার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ, যা এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। ৩ এপ্রিল প্রকাশিত ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক-২০২০’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। সরকার চলতি অর্থবছর ৮ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছিল।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

০৪ ডিসেম্বর, ২০২১