প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন

ব্যাংকে টাকার জোগান বাড়াতে বিশেষ উদ্যোগ

বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার * বিশেষ রেপো চালু, ব্যাংকগুলো কম সুদে এক বছরের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে পারবে

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৪ মে ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

করোনার প্রভাব মোকাবেলায় প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে ব্যাংকগুলোতে টাকার জোগান বাড়াতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর অংশ হিসেবে প্রথম বারের মতো কেন্দ্রীয় ব্যাংক এক বছর মেয়াদি বিশেষ রেপো (পুনঃক্রয় চুক্তি) চালু করেছে। এর মাধ্যমে ব্যাংকগুলো কম সুদে এক বছর মেয়াদে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে পারবে। ঋণের অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঘোষিত বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে ব্যবহার করতে হবে।

বুধবার এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এটি বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে। সার্কুলার অনুযায়ী বিশেষ রেপো বুধবার থেকেই কার্যকর হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এই পদ্ধতি চালু থাকবে।

রেপোর মাধ্যমে বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো জরুরি প্রয়োজনে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে টাকা নিতে পারে। সরকারকে ঋণের টাকা জোগান দেয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক যেসব ট্রেজারি বিল নিলামের মাধ্যমে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে বিক্রি করে, সেগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিয়ে টাকা নিতে পারে। এতে বর্তমানে সুদ দিতে হয় ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ। বর্তমানে ১ দিন, ১৪ দিন এবং ২৮ দিন মেয়াদি রেপো চালু আছে। এখন নতুন করে এক বছর মেয়াদি বিশেষ রেপো চালু করল।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, আগে স্বল্পমেয়াদি রেপো চালু থাকার কারণে ব্যাংকগুলোকে জরুরি প্রয়োজনে ১ দিন থেকে ২৮ দিন মেয়াদি ঋণ নিতে হতো। মেয়াদ শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্থ ফেরত দিতে হতো। ফলে ব্যাংকগুলো তহবিল ব্যবস্থাপনায় বিশেষ চাপে পড়ত। প্রণোদনা বাস্তবায়নে ব্যাংকগুলো ৬ মাস থেকে তিন বছর মেয়াদি ঋণ দেবে। এ কারণে ব্যাংকগুলোকে দীর্ঘমেয়াদি ঋণের টাকা জোগান দিতে এবার এক বছর মেয়াদি রেপো চালু করা হল।

সার্কুলারে বলা হয়, বিদ্যমান রেপো হারকে ভিত্তি ধরে বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত মুদ্রানীতি ও মুদ্রাবাজারের তারল্য পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এ বিশেষ রেপোর সুদের হার ও পরিমাণ বাংলাদেশ ব্যাংকের অকশন কমিটি নির্ধারণ করে দেবে। প্রতি অকশনে এ কমিটির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।

প্রতিটি ব্যাংককে তাদের মোট আমানতের বিপরীতে একটি অংশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বিধিবদ্ধ জমা বা এসএলআর (স্টেটিউটরি লিকুইডিটি রেশিও) বাবদ জমা রাখতে হয়। এ অর্থ ব্যাংকগুলো বিভিন্ন ট্রেজারি বিলে বিনিয়োগ করে জমা রাখে। ওই জমার অতিরিক্ত ট্রেজারি বিলগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে জামানত রেখে অর্থ গ্রহণ করতে পারবে।

ট্রেজারি বিল অভিহিত মূল্যের ১৫ শতাংশ এবং ট্রেজারি বন্ডের অভিহিত মূল্যের ৫ শতাংশ মার্জিন রেখে বাকি অর্থ রেপো হিসেবে দেয়া হবে।

সার্কুলারে আরও বলা হয়, বিশেষ রেপোর মাধ্যমে নেয়া অর্থ সম্প্রতি ঘোষিত বিভিন্ন আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে বিনিয়োগ করতে হবে। অর্থ বিনিয়োগের খাতগুলো উল্লেখ করে মাসিক ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেট ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্টকে অবহিত করতে হবে। রেপোর মাধ্যমে নেয়া অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া সরকারি বিল, বন্ড ও বাংলাদেশ ব্যাংক বিলে বিনিয়োগ করা যাবে না।

প্রসঙ্গত, করোনার কারণে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ক্ষতি মোকাবেলায় সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক এখন পর্যন্ত লক্ষাধিক কোটি টাকার আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। সেগুলোর বাস্তবায়নের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এর আগে ব্যাংকগুলোতে টাকার প্রবাহ বাড়াতে আরও কিছু উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর মধ্যে রয়েছে, ব্যাংকগুলোর চাহিদা অনুযায়ী বৈদেশিক মুদ্রার জোগান, সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ড কেনার বিপরীতে আটকে থাকা অর্থ ছাড়, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রয়োজনে অর্থের জোগান, বৈদেশিক উৎস থেকে ব্যাংকগুলোর অর্থ সংগ্রহের বিধি শিথিল করা, বৈদেশিক মুদ্রা কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বিক্রি করে নগদ অর্থ নিতে পারা।

এছাড়াও এক ব্যাংক অন্য ব্যাংক থেকে আমানত বা ধার নেয়া, বিধিবদ্ধ আমানত (এসএলআর) হিসাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা অর্থ কিছুটা ছাড় করতে এর হার কমানো, সেকেন্ডারি বন্ড মার্কেট থেকে অর্থ সংগ্রহ করার সুযোগ দেয়া হয়েছে।

 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত