করোনাভাইরাসের প্রভাব

মেয়াদ বাড়ছে ১২২ প্রকল্পে ঝুঁকিতে আরও ১৯৫

৬ মাস মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হচ্ছে -পরিকল্পনা সচিব * করোনার কারণে প্রকল্পের বাস্তবায়ন ঝুঁকিমুক্ত নয় -আইএমইডি সচিব

  হামিদ-উজ-জামান ১৫ মে ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাভাইরাসের কারণে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম প্রায় বন্ধ। ফলে নতুন করে মেয়াদ বাড়ছে ১২২টি উন্নয়ন প্রকল্পের। তবে এগুলোর ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়ে এখনও কোনো আলোচনা হয়নি। এগুলো জুনের মধ্যেই শেষ হওয়ার কথা ছিল।

তবে এ সময়ের মধ্যে ১৯৫টি প্রকল্প শেষ করা যাবে বলে এখনও আশাবাদী মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো। কিন্তু এ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, করোনা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে এসব প্রকল্প।

বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে পরে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এদিকে আগামী অর্থবছরের (২০২০-২১) বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হচ্ছে। ২০২১ সালের জুনের মধ্যে ৩৮২টি প্রকল্প সমাপ্তির জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

যা চলমান অর্থবছরের সংশোধিত এডিপিতে ছিল ৩১৭টি। ফলে বৃদ্ধি পাচ্ছে ৬৫টি প্রকল্প। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

পরিকল্পনা সচিব মো. নূরুল আমিন বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, চলতি অর্থবছরে ৩১৭টি প্রকল্প শেষ করার লক্ষ্য ছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে দেখা গেছে ১২২টি প্রকল্প কোনোভাবেই জুনের মধ্যে শেষ করা সম্ভব হবে না।

তাই এগুলোর মেয়াদ ৬ মাস বাড়িয়ে পর্যাপ্ত বরাদ্দ নিশ্চিত করা হচ্ছে। আর বাকি প্রকল্পের মধ্যে অনেকগুলোরই ইতোমধ্যে ৭০-৮০ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে। এখনও আমাদের হাতে দেড় মাস সময় রয়েছে।

করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলে এসব প্রকল্প শেষ করা যেতে পারে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একেবারেই কাজ করা না গেলে তখন শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দেখে তারপরই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরের মূল এডিপিতে ৩৫৫টি প্রকল্পের বাস্তবায়ন শেষের কথা ছিল। এর মধ্যে বিনিয়োগ প্রকল্প ছিল ৩৪১টি ও কারিগরি সহায়তার ১৪টি। অর্থবছরের ৯ মাসের মাথায় এসে সংশোধিত এডিপিতে লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ৩১৭টি নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে বিনিয়োগ প্রকল্প ৩১৫টি ও কারিগরি সহায়তার দুটি প্রকল্প।

কিন্তু করোনা কারণে ২৬ মার্চ থেকে লকডাউন শুরু হলে প্রায় সব প্রকল্পের কার্যক্রমে দেখা দেয় স্থবিরতা। তাই মঙ্গলবার পরিকল্পনা কমিশনের বর্ধিত সভায় ১২২টি প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এসময় বলা হয়, ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬ মাস মেয়াদ বাড়িয়ে প্রকল্পগুলোকে আগামী অর্থবছরের এডিপিতে অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব করা হচ্ছে।

প্রকল্প তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সচিব আবুল মনসুর মো. ফয়েজ উল্লাহ যুগান্তরকে বলেন, চলতি অর্থবছরে শেষ করার তালিকায় থাকলেও আমি জানি না ১৯৫টি প্রকল্প এখন কী অবস্থায় আছে।

তবে এটুকু বলা যায়, করোনার কারণে এসব প্রকল্পের বাস্তবায়নও ঝুঁকিমুক্ত নয়। সামাজিক খাতের কিছু প্রকল্প হয়তো জুনের মধ্যে শেষ করা যাবে। কিন্তু অবকাঠামো খাতের প্রকল্পগুলোতে সমস্যা হতে পারে।

এদিকে আগামী অর্থবছরের এডিপিতে প্রকল্প সমাপ্ত করার লক্ষ্য বাড়িয়ে ধরা হয়েছে ৩৮২টি। এর মধ্যে বিনিয়োগ প্রকল্প হচ্ছে ৩৮০টি ও কারিগরি সহায়তা প্রকল্প দুটি। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত এডিপিতে ধরা ছিল ৩১৭টি। ফলে সংশোধিত এডিপির তুলনায় বাড়ছে ৬৫টি প্রকল্প।

এছাড়া চলতি অর্থবছরের মূল এডিপিতে ছিল ৩৫৫টি প্রকল্প। ফলে এ তুলনায় বাড়ছে ২৭টি প্রকল্প। নতুন এডিপিতে খাতভিত্তিক প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্ধারিত লক্ষ্য হচ্ছে, কৃষি খাতে ৫৪টি, পল্লী উন্নয়ন ও পল্লী প্রতিষ্ঠান খাতে ২৭টি, পানি সম্পদ খাতে ৩৫টি, শিল্প খাতে দুটি, বিদ্যুতে ২১টি, তৈল-গ্যাস ও প্রাকৃতিক সম্পদে দুটি ও সর্বোচ্চ পরিবহন খাতে ৭৮টি প্রকল্প রয়েছে।

এছাড়া যোগাযোগ খাতে সাতটি, ভৌত পরিকল্পনা-পানি সরবরাহ ও গৃহায়নে ৫৯টি, শিক্ষা ও ধর্মে ১২টি, ক্রীড়া ও সংস্কৃতিতে সাতটি, স্বাস্থ্য-পুষ্টি-জনসংখ্যা ও পরিবার কল্যাণে ১৯টি, গণসংযোগে পাঁচটি, সমাজকল্যাণ-মহিলা বিষয়ক ও যুব উন্নয়নে ১১টি, জনপ্রশাসনে ১৭টি, বিজ্ঞান-তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে ২২টি এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান খাতের প্রকল্প রয়েছে চারটি প্রকল্প।

এগুলোর বিষয়ে পরিকল্পা কমিশন থেকে বলা হয়েছে- বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ থেকে প্রস্তাবিত ৩৮২টি সম্ভাব্য সমাপ্য প্রকল্পের তালিকা ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত এডিপিতে সংযোজন করা যেতে পারে। এ প্রকল্পগুলো যথাসময়ে অর্থাৎ ২০২১ সালের ৩০ জুনের মধ্যে শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

আরও
আরও খবর
 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত