বিভিন্ন স্থানে মার্কেটে ভিড়, স্বাস্থ্যবিধি মানছে না কেউ
jugantor
বিভিন্ন স্থানে মার্কেটে ভিড়, স্বাস্থ্যবিধি মানছে না কেউ

  যুগান্তর ডেস্ক  

১৫ মে ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিভিন্ন স্থানে মার্কেটে ভিড়, স্বাস্থ্যবিধি মানছে না কেউ

করোনাভাইরাস ঝুঁকির মধ্যে বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দোকানপাট, মার্কেট, শপিংমল খুলে দেয়া হয়েছে। দোকানপাটসহ সর্বত্র মানুষের ভিড় বাড়ছে; কিন্তু করোনা সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব কেউ মানছে না।

নিয়ম না মেনে জনসমাগম করায় করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বরিশাল ব্যুরো জানায়, করোনা ঝুঁকি থাকলেও বরিশালের মার্কেট-শপিংমলে ক্রমেই মানুষের ভিড় বাড়ছে। কোথাও সামাজিক দূরত্ব মানা হচ্ছে না। মাস্ক ও গ্লাভস না পরে ঈদবাজার করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান বলেন, করোনা ঝুঁকি এড়াতে মার্কেট ও শপিংমল কর্তৃপক্ষকে নিরাপদ দূরত্ব নিশ্চিত করতে হবে। ভ্রাম্যমাণ আদালত বিভিন্ন ঈদবাজার ঘুরে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন।

সরেজমিন নগরীর চকবাজার এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের শাটার অর্ধেক খোলা রেখে বেচাবিক্রি চলছে। প্রশাসনের লোকজন দেখলেই তারা ভেতরে ক্রেতা রেখেই শাটার টেনে দিচ্ছেন। ফুটপাতেও বসেছে অজস্র দোকান। সেখানে মহিলা ক্রেতাদের সঙ্গে রয়েছে পুরুষ ক্রেতাদের ভিড়।

ঈদবাজার করতে আসা মোহাম্মদ আল আমিন জানান, ঈদ সামনে কেনাকাটা করতে এসেছি; কিন্তু কেউ স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। অনেকে তো মাস্কও পরে না। ব্যবসায়ীদের উচিত ছিল দোকানে প্রবেশের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যবস্থা করা; কিন্তু তা কোথাও দেখা যাচ্ছে না।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে এক ব্যবসায়ী জানান, স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যবসা করা যায় না। কারণ ক্রেতারা অসচেতন। অনেকে মাস্কও পরে না। খুলনা ব্যুরো জানায়, স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব অনুসরণ না করায় খুলনায় শপিংমল, দোকানপাটসহ সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান শুক্রবার সকাল থেকে পুনরায় বন্ধ করে দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব অনুসরণ করে সীমিত আকারে দোকানপাট ও শপিংমল ৯ মে থেকে চালু করার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল; কিন্তু প্রতিটি স্থানে মানুষের উপচে পড়া ভিড়, অসচেতনতা ও অবহেলা লক্ষ করা যাচ্ছে।

এতে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তাই সব দোকানপাট বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হল। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, কৃষি পণ্য পরিবহন, কাঁচাবাজার ও ওষুধের দোকান এ নির্দেশনার আওতামুক্ত থাকবে।

তুরাগ প্রতিনিধি জানান, রাজধানীর তুরাগ, উত্তরা, উত্তরখান ও দক্ষিণখানের মার্কেট-শপিংমলে সামাজিক দূরত্ব মানা হচ্ছে না।

উত্তরা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার নাবিদ কামাল শৈবাল বলেন, বেশিরভাগ ব্যবসায়ী স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না এমন অভিযোগের ভিত্তিতে তারা মার্কেটগুলো পরিদর্শন করেছেন। প্রথম দিনে তাদের সতর্ক করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, নিয়ম-কানুন মেনে ব্যবসা করতে পারলে তারা করবেন; না হলে তাদের দোকান বন্ধ রাখতে হবে। উত্তরা বিভাগের পুলিশের পক্ষ থেকে আশুলিয়া, আবদুল্লাপুর, বিমানবন্দর এলাকায় চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।

গোমস্তাপুর (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করে বিভিন্ন মার্কেট খোলা রাখায় এবং জনসমাগম আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় দোকানপাট অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে গোমস্তাপুর থানা প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার চৌডালা, রহনপুর স্টেশনবাজার ও পুরনো বাজারের দোকানপাট বন্ধ করে দেয়া হয়।

এ প্রসঙ্গে গোমস্তাপুর থানার ওসি জসিম উদ্দিন জানান, বিভিন্ন মার্কেটে উপচে পড়া ভিড় দেখা দেয়ায় করোনা সংক্রমণ এড়াতে সেগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সোমবার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে গোমস্তাপুরে মার্কেটগুলোতে জনসমাগম বৃদ্ধিসংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশ হলে স্থানীয় প্রশাসন এ ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

বিভিন্ন স্থানে মার্কেটে ভিড়, স্বাস্থ্যবিধি মানছে না কেউ

 যুগান্তর ডেস্ক 
১৫ মে ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
বিভিন্ন স্থানে মার্কেটে ভিড়, স্বাস্থ্যবিধি মানছে না কেউ
ছবি: যুগান্তর

করোনাভাইরাস ঝুঁকির মধ্যে বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দোকানপাট, মার্কেট, শপিংমল খুলে দেয়া হয়েছে। দোকানপাটসহ সর্বত্র মানুষের ভিড় বাড়ছে; কিন্তু করোনা সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব কেউ মানছে না।

নিয়ম না মেনে জনসমাগম করায় করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বরিশাল ব্যুরো জানায়, করোনা ঝুঁকি থাকলেও বরিশালের মার্কেট-শপিংমলে ক্রমেই মানুষের ভিড় বাড়ছে। কোথাও সামাজিক দূরত্ব মানা হচ্ছে না। মাস্ক ও গ্লাভস না পরে ঈদবাজার করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান বলেন, করোনা ঝুঁকি এড়াতে মার্কেট ও শপিংমল কর্তৃপক্ষকে নিরাপদ দূরত্ব নিশ্চিত করতে হবে। ভ্রাম্যমাণ আদালত বিভিন্ন ঈদবাজার ঘুরে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন।

সরেজমিন নগরীর চকবাজার এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের শাটার অর্ধেক খোলা রেখে বেচাবিক্রি চলছে। প্রশাসনের লোকজন দেখলেই তারা ভেতরে ক্রেতা রেখেই শাটার টেনে দিচ্ছেন। ফুটপাতেও বসেছে অজস্র দোকান। সেখানে মহিলা ক্রেতাদের সঙ্গে রয়েছে পুরুষ ক্রেতাদের ভিড়।

ঈদবাজার করতে আসা মোহাম্মদ আল আমিন জানান, ঈদ সামনে কেনাকাটা করতে এসেছি; কিন্তু কেউ স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। অনেকে তো মাস্কও পরে না। ব্যবসায়ীদের উচিত ছিল দোকানে প্রবেশের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যবস্থা করা; কিন্তু তা কোথাও দেখা যাচ্ছে না।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে এক ব্যবসায়ী জানান, স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যবসা করা যায় না। কারণ ক্রেতারা অসচেতন। অনেকে মাস্কও পরে না। খুলনা ব্যুরো জানায়, স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব অনুসরণ না করায় খুলনায় শপিংমল, দোকানপাটসহ সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান শুক্রবার সকাল থেকে পুনরায় বন্ধ করে দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব অনুসরণ করে সীমিত আকারে দোকানপাট ও শপিংমল ৯ মে থেকে চালু করার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল; কিন্তু প্রতিটি স্থানে মানুষের উপচে পড়া ভিড়, অসচেতনতা ও অবহেলা লক্ষ করা যাচ্ছে।

এতে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তাই সব দোকানপাট বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হল। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, কৃষি পণ্য পরিবহন, কাঁচাবাজার ও ওষুধের দোকান এ নির্দেশনার আওতামুক্ত থাকবে।

তুরাগ প্রতিনিধি জানান, রাজধানীর তুরাগ, উত্তরা, উত্তরখান ও দক্ষিণখানের মার্কেট-শপিংমলে সামাজিক দূরত্ব মানা হচ্ছে না।

উত্তরা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার নাবিদ কামাল শৈবাল বলেন, বেশিরভাগ ব্যবসায়ী স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না এমন অভিযোগের ভিত্তিতে তারা মার্কেটগুলো পরিদর্শন করেছেন। প্রথম দিনে তাদের সতর্ক করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, নিয়ম-কানুন মেনে ব্যবসা করতে পারলে তারা করবেন; না হলে তাদের দোকান বন্ধ রাখতে হবে। উত্তরা বিভাগের পুলিশের পক্ষ থেকে আশুলিয়া, আবদুল্লাপুর, বিমানবন্দর এলাকায় চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।

গোমস্তাপুর (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করে বিভিন্ন মার্কেট খোলা রাখায় এবং জনসমাগম আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় দোকানপাট অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে গোমস্তাপুর থানা প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার চৌডালা, রহনপুর স্টেশনবাজার ও পুরনো বাজারের দোকানপাট বন্ধ করে দেয়া হয়।

এ প্রসঙ্গে গোমস্তাপুর থানার ওসি জসিম উদ্দিন জানান, বিভিন্ন মার্কেটে উপচে পড়া ভিড় দেখা দেয়ায় করোনা সংক্রমণ এড়াতে সেগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সোমবার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে গোমস্তাপুরে মার্কেটগুলোতে জনসমাগম বৃদ্ধিসংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশ হলে স্থানীয় প্রশাসন এ ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

 

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস