ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা পাবে ১০ লাখ, ব্যক্তি ৭৫ হাজার টাকা
jugantor
করোনার প্রভাব মোকাবেলায় ক্ষুদ্রঋণ
ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা পাবে ১০ লাখ, ব্যক্তি ৭৫ হাজার টাকা

  যুগান্তর রিপোর্ট  

১৫ মে ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ক্ষুদ্রঋণ

গ্রামীণ অর্থনীতিতে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে টাকার প্রবাহ বাড়ানো হবে। এ লক্ষ্যে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের সদস্য একক ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ দেয়া হবে।

যেসব সদস্যের এককভাবে ঋণ নেয়ার সক্ষমতা নেই, তাদের গ্রুপভিত্তিক ঋণ দেয়া হবে। কমপক্ষে ৫ সদস্যের গ্রুপ হলে তাদের দেয়া হবে তিন লাখ টাকা ঋণ। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এককভাবে পাবে ১০ লাখ টাকার ঋণ। ৫ সদস্যের গ্রুপ হলে দেয়া হবে ৩০ লাখ টাকা।

নিম্নআয়ের পেশাজীবী, প্রান্তিক কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ঋণ দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গঠিত তিন হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিল থেকে এ ঋণ দেয়া হবে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক নিজস্ব অর্থায়নে এ তহবিল গঠন করেছে।

এ তহবিল থেকে মাঠপর্যায়ের ক্ষুদ্রঋণ দানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে তাদের সদস্যদের মধ্যে ঋণ বিতরণ করা হবে। এ জন্য ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ) একটি নীতিমালা তৈরি করছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকেও ঋণ নেয়ার প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছে।

ওই তহবিল থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ঋণ দেবে ১ শতাংশ সুদে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঋণ দেবে সাড়ে ৩ শতাংশ সুদে। ওই প্রতিষ্ঠানগুলো মাঠপর্যায়ে ঋণ বিতরণ করবে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদে। এর বিপরীতে অন্য কোনো চার্জ বা ফি আদায় করা যাবে না।

এ বিষয়ে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির পরিচালক ও ক্ষুদ্রঋণ বিষয়ক মনিটরিং সেলের আহ্বায়ক মোহাম্মদ ইয়াকুব হোসেন বলেন, করোনার প্রভাবে মাঠপর্যায়ে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সদস্যদের আর্থিক সংকট দেখা দিয়েছে।

তাদের সংকট মোকাবেলায় যেমন নতুন ঋণ দেয়া হচ্ছে, তেমনি সদস্যরা চাইলে তাদের জমানো আমানতও তুলে নিতে পারছেন। ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব তহবিলের বাইরে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে মাঠপর্যায়ে আরও ৩ হাজার কোটি টাকার জোগান দেয়া হবে। এ তহবিল থেকে ঋণ বিতরণের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। মাঠপর্যায়ে ঋণের চাহিদা বেশি হলে তহবিলের আকার আরও বাড়ানো হবে।

এমআরএ সূত্র জানায়, তহবিল থেকে যে কোনো ব্যক্তি বা উদ্যোক্তা ঋণ নিতে পারবেন। গ্রুপের বেশি সদস্য হলে বাড়তি ঋণ দেয়া যাবে। যে কোনো ব্যক্তি বা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা যে কোনো একটি প্যাকেজের আওতায় ঋণ নিতে পারবেন।

এনজিওগুলো যে তহবিল পাবে তার ৭৫ শতাংশ দিতে হবে এককভাবে ব্যক্তি ক্ষুদ্রঋণ খাতে। বাকি ২৫ শতাংশ দিতে হবে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের। ঋণের গ্রেস পিরিয়ড হবে তিন মাস। ব্যক্তিপর্যায়ে ঋণের মেয়াদ হবে এক বছর। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা পর্যায়ে হবে ২ বছর।

দেশে এমআরএ নিবন্ধিত ৬৭ হাজার ৩৯০টি ক্ষুদ্রঋণ দানকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তারা প্রায় ৪ কোটি দরিদ্র মানুষ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণ সহায়তা দিচ্ছে। এর মধ্যে ৯১ শতাংশই নারী। মাঠপর্যায়ে এসব প্রতিষ্ঠানের বিতরণ করা ঋণের স্থিতির পরিমাণ ৮৭ হাজার কোটি টাকা। সদস্যদের সঞ্চয়ের পরিমাণ ২৭ হাজার কোটি টাকা।

করোনার প্রভাব মোকাবেলায় ক্ষুদ্রঋণ

ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা পাবে ১০ লাখ, ব্যক্তি ৭৫ হাজার টাকা

 যুগান্তর রিপোর্ট 
১৫ মে ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
ক্ষুদ্রঋণ
ছবি: যুগান্তর

গ্রামীণ অর্থনীতিতে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে টাকার প্রবাহ বাড়ানো হবে। এ লক্ষ্যে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের সদস্য একক ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ দেয়া হবে।

যেসব সদস্যের এককভাবে ঋণ নেয়ার সক্ষমতা নেই, তাদের গ্রুপভিত্তিক ঋণ দেয়া হবে। কমপক্ষে ৫ সদস্যের গ্রুপ হলে তাদের দেয়া হবে তিন লাখ টাকা ঋণ। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এককভাবে পাবে ১০ লাখ টাকার ঋণ। ৫ সদস্যের গ্রুপ হলে দেয়া হবে ৩০ লাখ টাকা।

নিম্ন আয়ের পেশাজীবী, প্রান্তিক কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ঋণ দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গঠিত তিন হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিল থেকে এ ঋণ দেয়া হবে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক নিজস্ব অর্থায়নে এ তহবিল গঠন করেছে।

এ তহবিল থেকে মাঠপর্যায়ের ক্ষুদ্রঋণ দানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে তাদের সদস্যদের মধ্যে ঋণ বিতরণ করা হবে। এ জন্য ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ) একটি নীতিমালা তৈরি করছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকেও ঋণ নেয়ার প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছে।

ওই তহবিল থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ঋণ দেবে ১ শতাংশ সুদে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঋণ দেবে সাড়ে ৩ শতাংশ সুদে। ওই প্রতিষ্ঠানগুলো মাঠপর্যায়ে ঋণ বিতরণ করবে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদে। এর বিপরীতে অন্য কোনো চার্জ বা ফি আদায় করা যাবে না।

এ বিষয়ে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির পরিচালক ও ক্ষুদ্রঋণ বিষয়ক মনিটরিং সেলের আহ্বায়ক মোহাম্মদ ইয়াকুব হোসেন বলেন, করোনার প্রভাবে মাঠপর্যায়ে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সদস্যদের আর্থিক সংকট দেখা দিয়েছে।

তাদের সংকট মোকাবেলায় যেমন নতুন ঋণ দেয়া হচ্ছে, তেমনি সদস্যরা চাইলে তাদের জমানো আমানতও তুলে নিতে পারছেন। ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব তহবিলের বাইরে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে মাঠপর্যায়ে আরও ৩ হাজার কোটি টাকার জোগান দেয়া হবে। এ তহবিল থেকে ঋণ বিতরণের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। মাঠপর্যায়ে ঋণের চাহিদা বেশি হলে তহবিলের আকার আরও বাড়ানো হবে।

এমআরএ সূত্র জানায়, তহবিল থেকে যে কোনো ব্যক্তি বা উদ্যোক্তা ঋণ নিতে পারবেন। গ্রুপের বেশি সদস্য হলে বাড়তি ঋণ দেয়া যাবে। যে কোনো ব্যক্তি বা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা যে কোনো একটি প্যাকেজের আওতায় ঋণ নিতে পারবেন।

এনজিওগুলো যে তহবিল পাবে তার ৭৫ শতাংশ দিতে হবে এককভাবে ব্যক্তি ক্ষুদ্রঋণ খাতে। বাকি ২৫ শতাংশ দিতে হবে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের। ঋণের গ্রেস পিরিয়ড হবে তিন মাস। ব্যক্তিপর্যায়ে ঋণের মেয়াদ হবে এক বছর। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা পর্যায়ে হবে ২ বছর।

দেশে এমআরএ নিবন্ধিত ৬৭ হাজার ৩৯০টি ক্ষুদ্রঋণ দানকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তারা প্রায় ৪ কোটি দরিদ্র মানুষ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণ সহায়তা দিচ্ছে। এর মধ্যে ৯১ শতাংশই নারী। মাঠপর্যায়ে এসব প্রতিষ্ঠানের বিতরণ করা ঋণের স্থিতির পরিমাণ ৮৭ হাজার কোটি টাকা। সদস্যদের সঞ্চয়ের পরিমাণ ২৭ হাজার কোটি টাকা।