ত্রিপক্ষীয় সভার সিদ্ধান্ত

পোশাক শ্রমিকদের মে মাসের বেতন ঈদের পর

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৫ মে ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ফাইল ছবি

পোশাক শ্রমিকদের মে মাসের বেতন ঈদের পরে দেয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার-মালিক-শ্রমিক পক্ষ।

রাজধানীর বিজয়নগরের শ্রম ভবনে শ্রম প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ানের সভাপতিত্বে সাড়ে ৫ ঘণ্টা বৈঠকে বৃহস্পতিবার এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পাশাপাশি ঈদের ছুটি ৩ দিন থাকবে।

তবে বোনাসের বিষয়ে মালিক ও শ্রমিক পক্ষ ঐকমত্যে পৌঁছতে পারেনি। আগামী সপ্তাহে আবার বৈঠক করে ঈদ বোনাসের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

শ্রম সচিব কেএম আলী আজমের সঞ্চালনায় বৈঠকে মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি ও বর্তমান সংসদ সদস্য আবদুস সালাম মুর্শেদী ও শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক, বিটিএমএ সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন, বিকেএমইএ’র জ্যেষ্ঠ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম ও সহ-সভাপতি ফজলে শামীম এহসান।

এছাড়া ৪২টি শ্রমিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি ফজলুল হক মন্টু, গার্মেন্ট শ্রমিক কর্মচারী লীগের সভাপতি লীমা ফেরদৌস, ইন্ডাস্ট্রিয়াল বাংলাদেশ কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক চায়না রহমান ও বাংলাদেশ জাতীয় গার্মেন্ট শ্রমিক কর্মচারী লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম রনি প্রমুখ।

বৈঠকে শ্রমিক নেতারা বলেন, ঈদের আগে শ্রমিকদের মে মাসের ১৫ দিনের বেতন এবং পূর্ণাঙ্গ বোনাস দিতে হবে। তা না হলে তাদের বেঁচে থাকাই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে। মার্চ ও এপ্রিল মাসে যে বেতন দেয়া হয়েছে ঘর ভাড়া দিয়েই তা শেষ হয়ে গেছে।

ক্ষুধার যন্ত্রণায় শ্রমিকরা রাস্তায় নামলে তখন নেতারাও কন্ট্রোল করতে পারবে না, আর নেতাদের দোষারোপ করেও লাভ হবে না। এছাড়া আগের বৈঠকে শ্রমিক ছাঁটাই হবে না বলে মালিকরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা পালন করা হচ্ছে না।

প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও শ্রমিকদের অনৈতিক ছাঁটাই করা হচ্ছে।

গার্মেন্ট শ্রমিক কর্মচারী লীগের সভাপতি লীমা ফেরদৌস বলেন, মালিকরা শ্রমিক ছাঁটাই করবে না অঙ্গীকার করলেও মাঠের বাস্তবতা ভিন্ন। প্রতিনিয়ত শ্রমিক ছাঁটাই হচ্ছে।

বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ’র সদস্য কারখানাগুলো কিছুটা নিয়ম মেনে বেতন দিলেও এর বাইরে সোয়েটার ও সাব-কন্ট্রাক্টে কাজ করা কারখানাগুলো কোনো আইনের তোয়াক্কা করছে না। নিজেদের নিয়ম মতো এক-দেড় হাজার টাকা বেতন দিচ্ছে। এ ধরনের কারখানা শ্রমিকদের বেতন নিশ্চিত করতে শ্রম প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে আলাদা কমিটি গঠনের আহ্বান জানান তিনি।

শ্রমিক নেতা কাউসার আহমেদ পলাশ বলেন, নারায়ণগঞ্জের বিসিকে শ্রমিক ছাঁটাই করা হচ্ছে, বেতনও দেয়া হচ্ছে না। মালিকরা বেতন দেবেন দেবেন বলেও দিচ্ছেন না। শ্রমিকরা মানবেতর জীবনযাপন করছে।

শ্রমিক নেতাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মালিকপক্ষের প্রতিনিধি আবদুস সালাম মুর্শেদী বলেন, মে মাসের বেতন কোনোভাবেই ঈদের আগে দেয়া সম্ভব নয়। এখনও এপ্রিল মাসের বেতন ব্যাংকগুলো শ্রমিকদের অ্যাকাউন্টে দিতে পারেনি। তাছাড়া বেতন শিট করাও হয়নি। আর ব্যাংকও টাকা দেবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। তাছাড়া শ্রম আইনে বলা আছে, মাস শেষ হওয়ার ৭ কর্মদিবসের মধ্যে শ্রমিকদের বেতন দিতে হবে। সে হিসেবে জুনের ১০ তারিখের মধ্যে বেতন দেয়া হবে।

বেতনের বিষয়ে শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, এখন মানুষ বাঁচার চেষ্টা করছে। সব পক্ষকেই বৈশ্বিক বাস্তবতা বুঝতে হবে। সরকার-শ্রমিকদের চাপে পড়ে কাপড় ও মেশিন বিক্রি করে আগে মালিকরা ঈদ বোনাস দিয়েছে। এবার প্রেক্ষাপট ভিন্ন, কেউ কাপড় ও মেশিনও কিনবে না। কারখানা ভাংচুর করেও লাভ হবে না।

বিশ্ববাজারে কাপড়ের চাহিদা না বাড়লে এবং নতুন অর্ডার না এলে অবস্থা সামনের দিকে আরও ভয়াবহ হতে পারে। তিনি প্রস্তাব দিয়ে বলেন, এই দুঃসময়েও মালিকরা শ্রমিকদের বোনাস দিতে চায়। সেটা আগেরবারের ২৫-৫০ শতাংশ।

তবে এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, অন্য সব শিল্প শ্রমিকদের শতভাগ বোনাস দিতে পারলে কোনো গার্মেন্ট দিতে পারবে না। ঈদের আগেই শ্রম আইন অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ বোনাস দিতে হবে। যেসব শ্রমিক এক বছরের বেশি সময় কর্মরত আছে তাদের মূল বেতনের শতভাগ এবং এক বছর কর্মরতদের ৫০ ভাগ বোনাস হিসেবে দিতে হবে।

বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক বলেন, বিজিএমইএ’র সদস্যভুক্ত এক হাজার ৬১৫টি কারখানা ৫ হাজার কোটি টাকা তহবিল থেকে ঋণের জন্য আবেদন করেছিল। কিন্তু বুধবার পর্যন্ত ৫৩৬টি কারখানা ঋণের টাকা পায়নি।

এ অবস্থায় অনেক মালিক শ্রমিকদের এপ্রিল মাসের বেতন দিতে পারছে না। অনেক কারখানায় শ্রমিকরা বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ করছে, সেটা যৌক্তিক। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি সবাইকে অনুধাবন করতে হবে। মালিকদের অবস্থাও শোচনীয়।

দীর্ঘ সাড়ে ৫ ঘণ্টা আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে মালিক-শ্রমিকপক্ষ ২টি বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছে। এগুলো হচ্ছে- এবার ঈদে ছুটি দেয়া হবে ৩ দিন। আর মে মাসের বেতন দেয়া হবে জুন মাসে। তবে বোনাসের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি কোনো পক্ষই। এ নিয়ে আগামী সপ্তাহে আবারও বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানান শ্রম প্রতিমন্ত্রী।

আরও খবর
 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত