শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌ-রুট: এ যেন ঈদযাত্রা

গাদাগাদি করে ফেরি পার * স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাই নেই * লোকজনের চাপে গাড়ি ফেরিতে উঠতে বেগ পেতে হয়

  শেখ সাইদুর রহমান টুটুল, লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ) ১৬ মে ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌ-রুট দিয়ে দক্ষিণবঙ্গের দিকে মানুষের ঢল

শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌ-রুট দিয়ে শুক্রবার দক্ষিণবঙ্গের দিকে মানুষের ঢল নামে। শিমুলিয়া ঘাটে ছিল প্রচণ্ড যাত্রীচাপ। ঈদের দুই-এক দিন আগে যেমন যাত্রীচাপ দেখা যায়, ঠিক তেমন।

তবে করোনার এ মহামারীর সময় যাত্রীদের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো বালাই ছিল না। সামাজিক দূরত্ব মানা তো দূরের কথা, গাদাদাগি করে তারা ফেরি পার হয়েছেন। অনেকের মুখে ছিল না মাস্ক।

সকাল থেকেই শিমুলিয়া ঘাট দিয়ে শত শত যাত্রী পার হতে শুরু করে। ফেরিতে ছিল ছোট গাড়ির চাপ। এ ঘাট থেকে চন্দ্রের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার ফেরি পারপারের অপেক্ষায় থাকা ছোট গাড়ির দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়।

কয়েকজন যাত্রী জানান, পরিবহন বন্ধ থাকায় পথে পথে তারা ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। ঢাকা থেকে ফেরিঘাটে পৌঁছতে তাদের অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হয়েছে।

সকালে শিমুলিয়া ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, বাস বন্ধ থাকায় ঢাকা থেকে যাত্রীরা মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কার, লেগুনা, মোটরসাইকেল ও উবারের অফলাইনের গাড়িতে করে ঘাটে আসছেন। ঘাটে লঞ্চ সি-বোট বন্ধ থাকায় যাত্রীরা ফেরিতে পার হচ্ছেন।

ঘাটে ফেরি ভেড়ার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীরা হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন ওঠার জন্য। গাদাগাদি করে ফেরিতে দাঁড়িয়ে পদ্মা পাড়ি দিচ্ছেন। পন্টুনের ওপর দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় হাজারও যাত্রীকে। লোকজনের চাপ এতটাই বেশি ছিল যে, গাড়িগুলো ফেরিতে উঠতে বেগ পেতে হয়।

ছোট ছোট গাড়ির (মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কার) স্রোত বেশি হওয়ায় ঘাটে দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়। শিমুলিয়া ঘাট থেকে এক কিলোমিটার দূরে চন্দ্রের বাড়ির কাছে চলে যায় লাইন।

যাদের করোনার ভয় আছে, তারা গাদাগাদিতে না গিয়ে দূরে ঘাটের পাশে দাঁড়িয়ে দেখছে অবস্থা। কী করবে, এভাবে গাদাগাদি করে ফেরিতে যাবে, না একটু হালকা হলে তারপর ফেরিতে উঠবে!

আবার যারা দক্ষিণবঙ্গ থেকে ঢাকার দিকে আসছে তারাও পড়ে মহাবিপাকে। পন্টুনে অপেক্ষমাণ লোকজন ঠেলে গাড়ি ও ফেরি যাত্রীরা ওপরের দিকে উঠতে চরম দুর্ভোগে পড়েন।

মাওয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ পরিদর্শক সিরাজুল কবির জানান, মনে হচ্ছে ঈদের কেনা-কাটা শেষে লোকজন বাড়িতে ফিরছে। দক্ষিণবঙ্গমুখী শত শত লোক শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি দিয়ে গ্রামের বাড়িতে ছুটছে। এই তো মাত্র কয়েক দিন আগেও ঢাকামুখী যাত্রীর ঢল ছিল। আর এখন শুরু হয়েছে দক্ষিণবঙ্গমুখী ঢল। দেখলে মনে হয় তারা ঈদের শপিং করতে ঢাকায় গিয়েছিল। শপিং শেষে বাড়ি ফিরছে। তবে আসল কথা হল- যে আশায় তারা ঢাকা গিয়েছিল তা হয়তো পূর্ণ না হওয়ায় আবার বাড়ি ফিরছে।

তিনি বলেন, ‘সরকার সাধারণ ছুটি বাড়িয়েছে। গার্মেন্ট ফ্যাক্টরি ও দোকানপাটও পুরোপুরি না খোলায় তারা হয়তো আবার বাড়ি ছুটছে। তাছাড়া সরকার ঘোষণা করেছে ঈদে নিজ নিজ ঘরে অবস্থান করতে হবে, বাড়ি যাওয়া যাবে না। এ কারণেই হয়েতো লোকজন আগেই ছুটছে বাড়ির উদ্দেশে। তবে করোনার ভয়-ডর নেই তাদের মাঝে। এসব যাত্রীর কারও শরীরে করোনা ভাইরাস থাকলে, তা কমিউনিটিতে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

মাওয়া ট্রাফিক জোনের টিআই মো. হিলাল উদ্দিন জানান, সকাল থেকে দক্ষিণবঙ্গমুখী যাত্রীর ঢল ছিল। সেই সঙ্গে বেড়েছে ছোট ছোট গাড়ির চাপ। এক-দেড় কিলোমিটার ছড়িয়ে পড়েছে ছোটগাড়ির চাপ। ঢাকা থেকে লোকজন বিভিন্ন ধরনের ছোট ছোট গাড়িতে করে মাওয়ায় এসে ফেরি পার হচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিসি’র শিমুলিয়া ঘাটের এজিএম শফিকুল ইসলাম জানান, ১৩টি ফেরি চলাচল করলেও দক্ষিণবঙ্গমুখী গাড়ি ও যাত্রীর চাপে লোডিং-আনলোডিংয়ে সমস্যা হচ্ছে। পন্টুনে হ-য-ব-র-ল অবস্থার সৃষ্টি হওয়ায় এ সমস্যা দেখা দিচ্ছে। করোনার ভয়ে স্টাফরা ঠিকমতো কাজ করতে পারছেন না। তারা গাদাগাদির মধ্যে যেতে চাচ্ছেন না। আমাদের একজন স্টাফ এরই মধ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

আরও
 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত