বাজার দর: বেড়েছে ব্রয়লার ও দেশি মুরগির দাম

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৬ মে ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাজারে সব ধরনের মাংসের দাম বেড়েছে। শুক্রবার প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে ১৭০-১৮০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছে ১৫০-১৬০ টাকায়। আর এক মাস আগে বিক্রি হয়েছে ১০০-১১০ টাকায়। এছাড়া সপ্তাহের ব্যবধানে দেশি মুরগি কেজিতে ৫০ টাকা বেড়ে বিক্রি হয়েছে ৫৫০ টাকায়।

এছাড়া রমজান মাসে বেড়ে যাওয়া গরুর মাংস এখন ৫৮০-৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে বাজারে পেঁয়াজ, সবজি ও ডিমের দামে স্বস্তি ফিরেছে। এ দিন প্রতি ডজন (১২ পিস) ফার্মের ডিম ১০ টাকা কমে বিক্রি হয়েছে ৭০ টাকায়।

এছাড়া সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে রমজাননির্ভর পণ্য ছোলা ও মসুর ডালের দাম কমেছে। শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, হাতিরপুল ও রামপুরা বাজার ঘুরে এ তথ্য জানা গেছে।

এদিকে মাংসের দামে অস্থিরতার চিত্র সরকারি সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) দৈনিক বাজার মূল্য তালিকায় দেখা গেছে। টিসিবি বলছে, সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ। আর মাসের ব্যবধানে বেড়েছে ৬৮ দশমিক ৪২ শতাংশ। এছাড়া মাসের ব্যবধানে প্রতিকেজি দেশি মুরগির দাম বেড়েছে ২৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ। মাসের ব্যবধানে কেজিতে গরুর মাংসের দাম বেড়েছে ২ দশমিক ৬১ শতাংশ।

রাজধানীর হাতিরপুল বাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসা মো. শাকিল যুগান্তরকে বলেন, ঈদের এখনও অনেক দিন বাকি। কিন্তু মাংস বিক্রেতারা মুরগি থেকে শুরু করে গরু ও খাসির মাংস বাড়তি দরে বিক্রি শুরু করেছে, যা একেবারেই ঠিক না।

একই বাজারের বিক্রেতা মো. রহমতউল্লাহ বলেন, বাজারে ব্রয়লার মুরগির সরবরাহ কম। তাই দাম বেড়েছে। সঙ্গে চাহিদা বাড়ায় দেশি মুরগির দাম বেড়েছে। তিনি জানান, করোনা পরিস্থিতিতে খামারিরা মুরগির বাচ্চা উৎপাদন করে বিক্রি করতে পারেননি। মেরে ফেলতে হয়েছে। যে কারণে এখন স্বাভাবিকভাবে সরবরাহ কমায় দাম বেড়েছে।

কারওয়ান বাজারের মাংস বিক্রেতা হাবিবুল্লাহ বলেন, রমজানের শুরু থেকে গরুর মাংস সর্বোচ্চ ৬০০ টাকা ও খাসির মাংস সর্বোচ্চ ৯০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। কারণ করোনায় গরু ও খাসির সরবরাহ কম। যে কারণে দাম বেশি দিয়ে কিনতে হচ্ছে। বিক্রি করতে হচ্ছে বেশি দামে।

এদিকে বাজারের মুদি বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ দিন প্রতিকেজি ছোলা বিক্রি হয়েছে ৬৫-৭০ টাকা, যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ৭০-৭৫ টাকায়। এছাড়া মসুর ডাল (বড় দানা) প্রতিকেজি বিক্রি হয়েছে ৮৫-৯৫ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছে ৯০-১০০ টাকায়। আর ছোট দানা মসুর ডাল বিক্রি হয়েছে ১২০-১২৫ টাকা কেজি, যা এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছে ১২৫-১৩০ টাকায়।

এ দিন প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৪০-৪৫ টাকায়। যা এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছে ৪৫-৫০ টাকায়। আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৩৫-৪০ টাকা কেজি। দেশি রসুন বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ১০০-১১০ টাকা। যা এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছে ১১০-১২০ টাকায়। দেশি আদা বিক্রি হয়েছে ১৬০-১৮০ টাকা কেজি। আর প্রতিকেজি আমদানি করা আদা বিক্রি হয়েছে ১৩০-১৫০ টাকায়।

বাজারে প্রতিকেজি টমেটো বিক্রি হয়েছে ২৫-৩০ টাকা, করলা ৩০-৪০ টাকা কেজি, গাজর ৩০-৪০ টাকা, পেঁপে ২০-৩০ টাকা, মুলা ৩০ টাকা, চিচিঙ্গা ৩৫-৪০ টাকা, ধুন্দল ৪০ টাকা, প্রতিকেজি বেগুন মানভেদে বিক্রি হয়েছে ৪০-৬০ টাকা, শসা ২৫-৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এছাড়া প্রতিপিস লাউ বিক্রি হয়েছে ৪০-৫০ টাকা, প্রতিপিস বাঁধাকপি ২০-৩০ টাকা, প্রতি হালি লেবু আকারভেদে বিক্রি হয়েছে ১৫-২৫ টাকায়।

বাজারে মাছ বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ দিন প্রতিকেজি রুই মাঠ বিক্রি হয়েছে ২৫০-৩০০ টাকা। প্রতিকেজি নলা মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৬০-২০০ টাকয়া। প্রতিকেজি তেলাপিয়া বিক্রি হয়েছে ১৩০-১৬০ টাকায়, পাঙ্গাশ ১৪০-১৬০ টাকা কেজি, শিং ৩০০-৪৫০ টাকা, পাবদা ৪৫০-৫০০ টাকা, বোয়াল ৫০০- ৬০০ টাকা ও টেংরা ৪৫০-৫০০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে।

 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত