চট্টগ্রামে ১৪ চিকিৎসক করোনায় আক্রান্ত: নিম্নমানের সুরক্ষাসামগ্রী ও তথ্য গোপনে দুরবস্থা

  এমএ কাউসার, চট্টগ্রাম ব্যুরো ১৬ মে ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি কোভিড-১৯ সংক্রমিত হচ্ছেন চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীরা। আক্রান্তদের সেবা দিতে গিয়ে নানাভাবে সংক্রমিত হচ্ছেন তারা। চট্টগ্রামে এ পর্যন্ত ১৪ জন চিকিৎসকের করোনা শনাক্ত হয়েছে। দিন দিন এ সংখ্যা বাড়ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, অধিকাংশ চিকিৎসক আক্রান্ত হয়েছেন রোগী-স্বজনের তথ্য গোপন করে সেবা নেয়ার কারণে। তাছাড়া চিকিৎসকদের ব্যবহৃত পিপিই (পারসোনাল প্রটেকটিভ ইকুইপমেন্ট) ও সুরক্ষাসামগ্রী নিম্নমানের হওয়ায় রোগীর সেবা দিতে গিয়ে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকেই।

বৃহস্পতিবার আগের ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ৩৬ বছর বয়সী এক গাইনি বিশেষজ্ঞ ও চকবাজার এলাকার ২৭ বছর বয়সী এক নারী চিকিৎসকের করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। দুই চিকিৎসকসহ এদিন চট্টগ্রামে ৬১ জন শনাক্ত হয়।

চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় ৪ জন এবং নগরীর সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের ১০ জন মিলে ১৪ জন কোভিড-১৯ এ সংক্রমিত হয়েছেন। এ পর্যন্ত ৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

বিশিষ্ট চিকিৎসক ও মুক্তিযুদ্ধের গবেষণা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান ডা. মাহফুজুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, বেশিরভাগ চিকিৎসক কন্ট্রাক্ট ট্রেসিংয়ের মাধ্যমে আক্রান্ত হয়েছেন। কারও উপসর্গ ছিল, কারও ছিল না। প্রথমত ফলস পিপিই, দ্বিতীয়ত কমিউনিটি ট্রান্সমিশন, তৃতীয়ত রোগী-স্বজনরা তথ্য লুকিয়ে সেবা নেয়া।

তিনি আরও বলেন, মানহীন পিপিই ব্যবহারের মাধ্যমে চিকিৎসকরা কোভিড-১৯ সংক্রমিত হচ্ছেন। সেবা দিতে গিয়েও চিকিৎসকরা আন্তর্জাতিক গাইডলাইন মানছেন না। অনেক ক্ষেত্রে পিপিই ব্যবহারে অলসতা ও অজ্ঞতাকেও দায়ী করেছেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ অধ্যক্ষ ডা. মোহাম্মদ শামীম হাসান যুগান্তরকে বলেন, একজন সাধারণ মানুষ আর চিকিৎসক করোনা আক্রান্ত হওয়া ঠিক এক কথা নয়। অনেক সময় কোভিড রোগী কিংবা স্বজনদের মিথ্যে তথ্যের কারণে অনেক চিকিৎসক মিসগাইড হয়েছেন। এ কারণে অনেকে আক্রান্ত হয়েছেন। এ ব্যাপারে সবাইকে সচেতন হতে হবে।

এদিকে শ্বাসকষ্ট নিয়ে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের কনসালট্যান্ট ডা. লুৎফুর রহমান শিমুল নামে এক চিকিৎসককে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউ ভর্তি করা হয়েছে। বুধবার তাকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে আইসিইউতে নেয়া হয়। ডা. লুৎফর রহমান নগরীর বেসরকারি ম্যাক্স হাসপাতালের পরিচালক। সেখানে তিনি চেম্বার করতেন। তবে ম্যাক্স হাসপাতালে তাকে ভর্তি না রাখায় চমেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও করোনা বিষয়ক সেলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমন্বয়ক ডা. আ ম ম মিনহাজুর রহমান বলেন, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক লুৎফর রহমানের ডায়াবেটিস আছে। শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় তাকে চমেকের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে। তবে নমুনা পরীক্ষার রিপোর্টে তার ফলাফল নেগেটিভ এলেও সিটি স্ক্যানে করোনার মতো লক্ষণ দেখা গেছে।

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

আরও
 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত