শাহরিয়ার আলমকে চায় আ’লীগ বিএনপি চায় আসন পুনরুদ্ধার

জাতীয় পার্টিতে সক্রিয় শামসুদ্দিন রিন্টু

  মিজানুর রহমান ও আমানুল হক আমান, চারঘাট ও বাঘা ০৫ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রাজশাহী-৬ আসন

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাঘা ও চারঘাট উপজেলা নিয়ে রাজশাহী-৬ আসনের সম্ভাব্য প্রার্র্থীরা তৎপর হয়ে উঠেছেন। মাঠে ময়দানে কর্মীসভা থেকে শুরু করে গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। যোগ দিচ্ছেন সভা-সমাবেশে। ভোটারদের কাছে দোয়া কামনা করে রাস্তার মোড়ে মোড়ে প্রার্থীদের ছবিসংবলিত পোস্টারও সাঁটানো হয়েছে। অনেককে দেখা যাচ্ছে ফেসবুকেও নিজেদের তৎপরতা প্রচার করতে। তৃণমূলের মনোযোগ আকর্ষণের পাশাপাশি প্রার্থিতা নিশ্চিত করার জন্য কেন্দ্রের সঙ্গেও যোগাযোগ বাড়িয়েছেন তারা।

নব্বইয়ের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে পর মোটা দাগে পাঁচটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম তিন দফায় বিজয়ী হয়েছে বিএনপি। শেষ দুটি নির্বাচনে জয় ঘরে তোলে আওয়ামী লীগ। ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগের তৎকালীন প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রয়াত ডা. আলাউদ্দিন বিএনপি প্রার্থী আজিজুর রহমানের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়ে ব্যর্থ হন ডা. আলাউদ্দিন। পরে বিএনপি থেকে মনোনয়ন বাগিয়ে নিয়ে আওয়ামী লীগের অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আনিছুর রহমানকে হারিয়ে জয়লাভ করেন ডা. আলাউদ্দিন। ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পান চারঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক রায়হানুল হক রায়হান। বিএনপির অ্যাডভোকেট কবীর হোসেনের কাছে পরাজিত হন রায়হানুল হক। তবে ২০০৮ সাল থেকে অবস্থা পাল্টাতে থাকে। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হন বর্তমান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। তিনি বিএনপি প্রার্থী সাবেক এমপি আজিজুর রহমানকে হারিয়ে বিজয়ী হন। ২০১৪ সালের নির্বাচনেও শাহরিয়ার আলম পুনঃনির্বাচিত হন। তবে ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের রায়হানুল হক বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে বিপুল ভোটে হেরে যান।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে চারঘাট-বাঘা আসনে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির একাধিক প্রার্থী মাঠে। শাহরিয়ার আলম ছাড়াও আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন- রায়হানুল হক, বাঘা পৌরসভার সাবেক মেয়র আক্কাছ আলী, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক অ্যাডভোকেট লায়েব উদ্দিন লাভলু এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল রমজান আলী।

অপরদিকে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেতে আগ্রহীরা হলেন-বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সদস্য চারঘাট উপজেলা পরিষদের পর পর দু’বার নির্বাচিত চেয়ারম্যান আবু সাঈদ চাঁদ, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শিল্পপতি বজলুর রহমান, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য দেবশীষ রায় মধু, রমেশ দত্ত, বাঘা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নুরুজ্জামান খান মানিক, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন এবং যুবদল নেতা আনোয়ার হোসেন উজ্জল।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায় একাধিক প্রার্থী থাকলেও শক্ত অবস্থানে রয়েছেন বর্তমান এমপি শাহরিয়ার আলম। ২০০৮ সাল থেকে একটানা ক্ষমতায় থাকার কারণে চারঘাট-বাঘার রাস্তাঘাট, মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দির থেকে শুরু করে সবখানেই লেগেছে শাহরিয়ার আলমের উন্নয়নের ছোঁয়া। ফলে এ আসনে আবারও মনোনয়ন পেতে যাচ্ছেন শাহরিয়ার আলম- জানিয়েছেন চারঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফকরুল ইসলাম। তিনি যুগান্তরকে বলেন, শাহরিয়ার আলম এমপি হওয়ার পর থেকে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। এ উন্নয়ন অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। দলমত নির্বিশেষে সব শ্রেণী-পেশার মানুষের হৃদয়ে শাহরিয়ার আলম শক্ত অবস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছেন। আগামী নির্বাচনে শাহরিয়ার আলমের বিকল্প নেই। তৃণমূলের নেতাকর্মীরাও শাহরিয়ার আলমের নেতৃত্বের প্রতি আস্থাশীল।

জানতে চাইলে শাহরিয়ার আলম বলেন, মনোনয়ন নিয়ে ভাবছি না। উন্নয়নের অগ্রদূত শেখ হাসিনাকে আবারও প্রধানমন্ত্রী করতে হবে। সেটা ভেবেই কাজ করছি। বাঘা পৌরসভাকে প্রথম শ্রেণী ও আড়ানী পৌরসভাকে দ্বিতীয় শ্রেণীতে উন্নতি করা হয়েছে। দুটি উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের রাস্তা পাকা এবং প্রতিটি বিদ্যালয়ে ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। তিনটি পৌরসভায় দুই বছরে ১০০ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। গত নয় বছরে নিঃস্বার্থভাবে মানুষের পাশে থেকেছি। সরকারি সহযোগিতা না পেলে ব্যক্তিগতভাবে সহায়তা দিয়েছি। শতাধিক গরিব ছেলে-মেয়েকে নিজ খরচে লেখাপড়া করানো হচ্ছে। এছাড়া চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করেছি। কর্মসংস্থান হয়েছে অসংখ্য যুবকের। আমি দলমত নির্বিশেষে সবার মধ্যে আস্থার জায়গা তৈরি করেছি। ফলে আমার উন্নয়নের কথা একবার মনে করলে জনগণের অন্যদিকে যাওয়ার চিন্তা করার সুযোগ নেই।

আলাপ হয় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক এমপি রায়হানুল হক রায়হানের সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতে গিয়ে বহুবার নির্যাতনের শিকার হয়েছি। এটি দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দও জানেন। এলাকার নেতাকর্মীদের সুখে-দুঃখে পাশে আছি। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। দল আমাকে মনোনয়ন দিলে আশা করি বিজয়ী হব ইনশাআল্লাহ।

অপরদিকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ। তিনি যুগান্তরকে বলেন, এর আগে তিনবার বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছি। কিন্তু নানা কারণে পাইনি। আশা করি এবার পাব। তবে তিনি বলেন, আদৌ নির্বাচন হবে কিনা সন্দেহ রয়েছে। হলেও কোন ধরনের নির্বাচন হবে? কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে? না শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন হবে? কেয়ারটেকার সরকার ছাড়া নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হওয়ার সম্ভাবনা নেই। আগে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ক্ষেত্র প্রস্তুত হোক, তারপর আসবে প্রার্থিতার প্রসঙ্গ। তবে আগামী নির্বাচনে দল অংশগ্রহণ করলে আমাকেই মনোনয়ন দেয়া হবে বলে আমি আশাবাদী। চাঁদ বলেন, সরকারবিরোধী দুর্বার আন্দোলন কোথাও হলে তা চারঘাট-বাঘাতেই হয়েছে। আন্দোলনের সময় যে নির্যাতন আমার ওপর হয়েছে তা দলীয় প্রধানসহ সিনিয়র সব নেতাই অবগত। তাছাড়া বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত এ আসনটি পনুরুদ্ধার করতে তৃণমূলের সব নেতাকর্মীই ঐক্যবদ্ধ।

বিএনপির আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী শিল্পপতি বজলুর রহমান বলেন, এলাকার উন্নয়ন করতে হলে যোগ্য নেতার প্রয়োজন। আমি ছাত্রদলের চারঘাট থানার প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক। আমি প্রথমে সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট কবীর হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বাঘা-চারঘাট এলাকায় গণসংযোগ শুরু করেছি। ১৯৯১ সালে সাবেক এমপি প্রয়াত আজিজুর রহমান এবং ২০০১ সালে সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট কবীর হোসেনের পক্ষে সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করেছি। এছাড়া আড়ানী ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক চক্রের আমি অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। এছাড়া জয়গুন্নেছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জার্মান ডাক্তার দ্বারা পরিচালিত রোদশি ফ্রি মেডিকেল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও পরিচালক। এলাকার মানুষ আমার সঙ্গে আছেন। আমি আশা করি দল আমাকে মূল্যায়ন করবে।

জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশী শামসুদ্দিন রিন্টু বলেন, পল্লীবন্ধু এরশাদ ক্ষমতায় থাকাকালে বাঘা ও চারঘাটের ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। আমি সাবেক প্রতিমন্ত্রী প্রয়াত নূরুন্নবী চাঁদের হাত ধরে জাতীয় ছাত্রসমাজের রাজনীতিতে আসি। দীর্ঘ সময় থেকে এলাকার মানুষের সঙ্গে আমার সম্পর্ক। তারা আমাকে ভালোবাসেন। তাই জনপ্রিয়তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পার্টির হাইকমান্ড আমাকে মনোনয়ন দেবে বলে দৃঢ়ভাবে আশাবাদী।

 
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

 

gpstar

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

E-mail: [email protected], [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter