করোনার প্রভাব: পিছিয়ে পড়াদের জন্য দুই হাজার কোটি টাকা ঋণ

ঋণ পাবে মৎস্যজীবী, প্রশিক্ষিত বেকার, তাঁত, ক্ষুদ্রশিল্প, নারী উদ্যোক্তা

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৮ মে ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ছবি: সংগৃহীত

সরকারি খাতের নয়টি সংস্থাকে বিশেষ এলাকায় বা পিছিয়ে পড়া মানুষের মধ্যে ক্ষুদ্রঋণ বিতরণের জন্য ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। করোনার প্রভাব মোকাবেলায় সরকারি সহযোগিতা পৌঁছাতে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এসব সংস্থা উপকূলীয় অঞ্চলের মৎস্যজীবী, গ্রামীণ এলাকার ক্ষুদ্র তাঁতশিল্প, ক্ষুদ্রশিল্প, অতি দরিদ্র কৃষক ও নারী উদ্যোক্তাদের মধ্যে ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ করবে। এসব ঋণের সুদের হার ৯ শতাংশ।

যে নয়টি সংস্থার মাধ্যমে এই ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ করা হবে, সেগুলো হচ্ছে- মৎস্য অধিদফতর, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড, বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড, বাংলাদেশ যুব উন্নয়ন অধিদফতর, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক), মহিলাবিষয়ক অধিদফতর, প্রাণিসম্পদ অধিদফতর, পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন (পিডিবিএফ) ও ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশন।

সূত্র জানায়, গত অর্থবছরে সরকারি সংস্থাগুলো ৯ লাখ ৫৯ হাজার জনকে ২ হাজার ৭৬৯ কোটি টাকা ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ করেছে। ওই সময় পর্যন্ত ঋণের স্থিতি ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা।

আর সঞ্চয়ের পরিমাণ ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। করোনার প্রভাব মোকাবেলা করতে এসব সংস্থা নতুন ঋণ দেয়ার পাশাপাশি গ্রাহকদের সঞ্চয়ও ফেরত দিচ্ছে। যে কারণে সংস্থাগুলোর নতুন করে আরও অর্থের প্রয়োজন পড়েছে। এজন্য সরকারের কাছে ২ হাজার কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে।

গত অর্থবছরে মৎস্য অধিদফতর ১৫২ জন ঋণ গ্রহীতাকে ৯৪ লাখ ১৮ হাজার টাকা ঋণ দিয়েছে। এখন তাদের ঋণের স্থিতি ১৯ কোটি ২৪ লাখ টাকা।

সংস্থাটি উপকূলীয় ও চরাঞ্চলের জেলেদের মধ্যে যখন মাছ ধরা বন্ধ থাকে তখন তাদের মধ্যে ঋণ বিতরণ করে। এর বিপরীতে তারা কোনো সঞ্চয় সংগ্রহ করে না।

বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড গ্রামীণ দারিদ্র্য নিরসনে কাজ করে। তারা একটা এনজিওর মতো করে সমিতি গঠন করে ঋণ বিতরণ করে ও তাদের কাছ থেকে সঞ্চয় সংগ্রহ করে। গত অর্থবছরে তারা ১ লাখ ৮৩ হাজার জনকে ১ হাজার ১৫৯ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে। তাদের ঋণের স্থিতির পরিমাণ ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এর বিপরীতে সদস্যদের সঞ্চয়ের পরিমাণ ৫৬২ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ যুব উন্নয়ন অধিদফতর যুবকদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ প্রদান করে। একই সঙ্গে তাদের প্রশিক্ষণ অনুযায়ী কাজ শুরু করতে ঋণ বিতরণ করে। গত অর্থবছরে তারা ১৫ হাজার ৮১৩ জনকে ১৩৯ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে। তাদের ঋণের স্থিতি রয়েছে ১৩১ কোটি টাকা। এর বিপরীতে তারা সঞ্চয় সংগ্রহ করে না। বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড গ্রামীণ ক্ষুদ্র তাঁতিদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ঋণ দিচ্ছে। গত অর্থবছরে তারা ৩৬২ জনকে ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা ঋণ দিয়েছে। তাদের ঋণের স্থিতি ২৮ কোটি টাকা।

এর বিপরীতে তারা কোনো সঞ্চয় সংগ্রহ করে না। মহিলাবিষয়ক অধিদফতর নারীদের বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ দেয়। এর মধ্যে যারা উদ্যোক্তা হিসেবে ব্যবসা শুরু করতে চায় তাদের ঋণ দিয়ে সহযোগিতা করে। আলোচ্য সময়ে তারা ২ কোটি ৬ লাখ টাকা ঋণ দিয়েছে। তাদের ঋণের স্থিতি ৩২ কোটি টাকা।

প্রাণিসম্পদ অধিদফতর বেকার যুবকদের গবাদি পশুপালন ও খামার করার জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। পাশাপাশি তাদের ঋণও দেয়। আলোচ্য সময়ে তারা ৫৫ জনকে ৩৩ লাখ টাকা ঋণ দিয়েছে। তাদের ঋণের স্থিতি ৫২ কোটি টাকা।

পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন (পিডিবিএফ) গ্রামীণ এলাকার দরিদ্র মানুষের জীবন মান উন্নয়নে কাজ করে। গত অর্থবছরে ৬ লাখ ৫৪ হাজার জনকে ১ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে সংস্থাটি। তাদের ঋণের স্থিতি ৮০৪ কোটি টাকা। সদস্যদের সঞ্চয়ের পরিমাণ ৭০৬ কোটি টাকা।

ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশন প্রান্তিক কৃষকদের উন্নয়নে কাজ করে। তারা গত অর্থবছরে ৯৫ হাজার ৭০৬ জনকে ১৬২ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে। তাদের ঋণের স্থিতি ১২৫ কোটি টাকা। তাদের সদস্যদের সঞ্চয়ের পরিমাণ ২৬ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরিতে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তাদের উৎপাদিত পণ্য বিপণনে সহযোগিতা করে। এছাড়া উদ্যোক্তাদের ঋণ দিয়েও সহায়তা করে। এজন্য সংস্থাটি সরকারের কাছে ৬০০ কোটি টাকা চেয়েছে।

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

আরও
 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত