২ শতাংশ সুদে ঋণ চায় বিজ্ঞাপনী সংস্থা
jugantor
করোনায় আর্থিক মোকাবেলা
২ শতাংশ সুদে ঋণ চায় বিজ্ঞাপনী সংস্থা

  যুগান্তর রিপোর্ট  

২০ মে ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাভাইরাসের কারণে বিজ্ঞাপন শিল্পের আয়ে বড় ধস নেমেছে। ব্যয় ঠিক থাকলেও বকেয়া বিল না আসায় সংকটে পড়েছে দেশের বিজ্ঞাপনী সংস্থাগুলো।

এ সংকট কাটাতে সরকারি প্রতিষ্ঠানের বকেয়া বিল দ্রুত পরিশোধ করার দাবি জানিয়েছে অ্যাডভারটাইজিং এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এএএবি)। এছাড়া ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে সরকারের কাছে সংগঠনটি ২ শতাংশ সুদে ঋণ সহায়তা চেয়েছে।

মঙ্গলবার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি রামেন্দু মজুমদার এসব দাবি তুলে ধরেন। এ সময় সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, এএএবির সাধারণ সম্পাদক মুনীর আহমেদ খান ও বিজ্ঞাপনী সংস্থার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

রামেন্দু মজুমদার বলেন, বিজ্ঞাপনী সংস্থার মাধ্যমে গণমাধ্যমের ৮০ শতাংশ আয় হয়। কিন্তু বর্তমানে অনেক মন্ত্রণালয়, সরকারি ও আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে সংস্থার বিল বকেয়া রয়েছে। এ কারণে গণমাধ্যমের বিল পরিশোধ করতে পারছে না সংস্থাটি। এতে সংস্থা ও গণমাধ্যম দুই জায়গাতেই সংকট তৈরি হয়েছে। এ সংকট নিরসনে শিগগিরই বকেয়া বিল পরিশোধে সরকারি নির্দেশনার দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি বিজ্ঞাপনী সংস্থাগুলোকে সরকার ঘোষিত প্যাকেজের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করে ২ শতাংশ সুদে ঋণ দিতে হবে।

রামেন্দু মজুমদার আরও বলেন, যারা বিজ্ঞাপনের ব্যবস্থা করেন শুধু তারাই নন, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ও অন্য খাতের লোকজন মিলে বিজ্ঞাপন শিল্পে ১৮ হাজার লোক সরাসরি জড়িত। মার্চের শেষ দিক থেকে এখন পর্যন্ত এখাতে কোনো আয় নেই। কিন্তু খরচ অব্যাহত রয়েছে। এতে বিরাট সংকটের মধ্যে পড়েছেন বিজ্ঞাপন এজেন্সিজ সদস্যরা। এমন পরিস্থিতির উত্তরণে সরকারের সহযোগিতা চেয়ে ১৩ মে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমরা স্মারকলিপি দিয়েছি।

রামেন্দু মজুমদার বলেন, আয়ের উৎসে ধস নামায় বিজ্ঞাপনী সংস্থাগুলোর নগদ অর্থ প্রবাহ নিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ব্যবসা চালু রাখার জন্য এক বছরের খরচের ৭০ শতাংশ ব্যাংক খাত থেকে ঋণ দেয়ার বিশেষ অনুরোধ জানাচ্ছি। চলতি মূলধনের জন্য এ ঋণ দিতে হবে। আর এ ঋণের সুদ হতে হবে ২ শতাংশ। ৩ বছরের মধ্যে এজেন্সিগুলো ঋণ পরিশোধ করবে।

ঋণ নেয়ার ৬ মাস পর থেকে সুদ চালু করতে হবে। ব্যবসার চিত্র তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন এজেন্সির দেয়া তথ্যে দেখা গেছে ২০২০ সালে ব্যবসার যে পরিকল্পনা ছিল তার ৭০ শতাংশ অর্জন করা যাবে না। জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ব্যবসায় মন্দাভাব থাকে।

এরপর দুই নববর্ষ ও বছরের শেষে দু-তিন মাস ব্যবসায় বিশেষ গতি আসে। কিন্তু এবার বাংলা নববর্ষ ও ঈদুল ফিতরে ব্যবসা হয়নি। ঈদুল আজহায়ও হবে না। মার্চ থেকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থবির হলেও বাড়ি ভাড়া ও অন্য সব ব্যয় করতে হবে। কর্মীদের বেতন দেয়া এখন বড় চ্যালেঞ্জ। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বিলের যে অর্থ পাওয়া যেত তাও বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে ওয়ার্কিং ক্যাপিটালের ওপর ব্যাপক চাপ পড়ছে। এ ধরনের চাপ সামাল দেয়া কষ্টকর।

সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, শুধু আমাদের জন্যই সরকারের কাছে সহায়তা চাইনি। এখন পত্রিকা ও টেলিভিশনের বিজ্ঞাপন কমে গেছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞাপন শিল্পে ধস নেমেছে। এখান থেকে উত্তরণে সরকারের সহায়তা জরুরি। এজেন্সিগুলো বিজ্ঞাপন থেকে যে কমিশন পায় তা খুবই কম। সরকার সহায়তা না করলে অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে। এতে প্রচুর পরিমাণ লোক চাকরি হারাবেন। কিন্তু আমরা দীর্ঘদিনের সহকর্মীদের বাদ দিতে চাই না।

এ সময়ে এজেন্সিগুলোর পক্ষ থেকে পাঁচটি দাবি করা হয়। এরমধ্যে রয়েছে- ২০১৮ সাল থেকে নেয়া অগ্রিম আয়কর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ফেরত অথবা ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত অগ্রীম আয় আদায় বন্ধ করতে হবে।

দ্বিতীয়ত- মন্ত্রণালয়, সরকারি ও আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানের বকেয়া বিল পরিশোধের নির্দেশ, তৃতীয়ত- গণমাধ্যমের স্বার্থে সব বিজ্ঞাপনদাতাকে দ্রুত বিজ্ঞাপনী সংস্থার বিল পরিশোধের নির্দেশ, ২ শতাংশ সুদে এক বছরের ব্যয়ের ৭০ শতাংশ ব্যাংকিং খাত থেকে ঋণ এবং সবশেষে বিজ্ঞাপন শিল্পকে প্রয়োজনীয় সেবা খাত হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া।

করোনায় আর্থিক মোকাবেলা

২ শতাংশ সুদে ঋণ চায় বিজ্ঞাপনী সংস্থা

 যুগান্তর রিপোর্ট 
২০ মে ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাভাইরাসের কারণে বিজ্ঞাপন শিল্পের আয়ে বড় ধস নেমেছে। ব্যয় ঠিক থাকলেও বকেয়া বিল না আসায় সংকটে পড়েছে দেশের বিজ্ঞাপনী সংস্থাগুলো।

এ সংকট কাটাতে সরকারি প্রতিষ্ঠানের বকেয়া বিল দ্রুত পরিশোধ করার দাবি জানিয়েছে অ্যাডভারটাইজিং এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এএএবি)। এছাড়া ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে সরকারের কাছে সংগঠনটি ২ শতাংশ সুদে ঋণ সহায়তা চেয়েছে।

মঙ্গলবার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি রামেন্দু মজুমদার এসব দাবি তুলে ধরেন। এ সময় সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, এএএবির সাধারণ সম্পাদক মুনীর আহমেদ খান ও বিজ্ঞাপনী সংস্থার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

রামেন্দু মজুমদার বলেন, বিজ্ঞাপনী সংস্থার মাধ্যমে গণমাধ্যমের ৮০ শতাংশ আয় হয়। কিন্তু বর্তমানে অনেক মন্ত্রণালয়, সরকারি ও আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে সংস্থার বিল বকেয়া রয়েছে। এ কারণে গণমাধ্যমের বিল পরিশোধ করতে পারছে না সংস্থাটি। এতে সংস্থা ও গণমাধ্যম দুই জায়গাতেই সংকট তৈরি হয়েছে। এ সংকট নিরসনে শিগগিরই বকেয়া বিল পরিশোধে সরকারি নির্দেশনার দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি বিজ্ঞাপনী সংস্থাগুলোকে সরকার ঘোষিত প্যাকেজের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করে ২ শতাংশ সুদে ঋণ দিতে হবে।

রামেন্দু মজুমদার আরও বলেন, যারা বিজ্ঞাপনের ব্যবস্থা করেন শুধু তারাই নন, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ও অন্য খাতের লোকজন মিলে বিজ্ঞাপন শিল্পে ১৮ হাজার লোক সরাসরি জড়িত। মার্চের শেষ দিক থেকে এখন পর্যন্ত এখাতে কোনো আয় নেই। কিন্তু খরচ অব্যাহত রয়েছে। এতে বিরাট সংকটের মধ্যে পড়েছেন বিজ্ঞাপন এজেন্সিজ সদস্যরা। এমন পরিস্থিতির উত্তরণে সরকারের সহযোগিতা চেয়ে ১৩ মে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমরা স্মারকলিপি দিয়েছি।

রামেন্দু মজুমদার বলেন, আয়ের উৎসে ধস নামায় বিজ্ঞাপনী সংস্থাগুলোর নগদ অর্থ প্রবাহ নিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ব্যবসা চালু রাখার জন্য এক বছরের খরচের ৭০ শতাংশ ব্যাংক খাত থেকে ঋণ দেয়ার বিশেষ অনুরোধ জানাচ্ছি। চলতি মূলধনের জন্য এ ঋণ দিতে হবে। আর এ ঋণের সুদ হতে হবে ২ শতাংশ। ৩ বছরের মধ্যে এজেন্সিগুলো ঋণ পরিশোধ করবে।

ঋণ নেয়ার ৬ মাস পর থেকে সুদ চালু করতে হবে। ব্যবসার চিত্র তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন এজেন্সির দেয়া তথ্যে দেখা গেছে ২০২০ সালে ব্যবসার যে পরিকল্পনা ছিল তার ৭০ শতাংশ অর্জন করা যাবে না। জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ব্যবসায় মন্দাভাব থাকে।

এরপর দুই নববর্ষ ও বছরের শেষে দু-তিন মাস ব্যবসায় বিশেষ গতি আসে। কিন্তু এবার বাংলা নববর্ষ ও ঈদুল ফিতরে ব্যবসা হয়নি। ঈদুল আজহায়ও হবে না। মার্চ থেকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থবির হলেও বাড়ি ভাড়া ও অন্য সব ব্যয় করতে হবে। কর্মীদের বেতন দেয়া এখন বড় চ্যালেঞ্জ। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বিলের যে অর্থ পাওয়া যেত তাও বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে ওয়ার্কিং ক্যাপিটালের ওপর ব্যাপক চাপ পড়ছে। এ ধরনের চাপ সামাল দেয়া কষ্টকর।

সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, শুধু আমাদের জন্যই সরকারের কাছে সহায়তা চাইনি। এখন পত্রিকা ও টেলিভিশনের বিজ্ঞাপন কমে গেছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞাপন শিল্পে ধস নেমেছে। এখান থেকে উত্তরণে সরকারের সহায়তা জরুরি। এজেন্সিগুলো বিজ্ঞাপন থেকে যে কমিশন পায় তা খুবই কম। সরকার সহায়তা না করলে অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে। এতে প্রচুর পরিমাণ লোক চাকরি হারাবেন। কিন্তু আমরা দীর্ঘদিনের সহকর্মীদের বাদ দিতে চাই না।

এ সময়ে এজেন্সিগুলোর পক্ষ থেকে পাঁচটি দাবি করা হয়। এরমধ্যে রয়েছে- ২০১৮ সাল থেকে নেয়া অগ্রিম আয়কর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ফেরত অথবা ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত অগ্রীম আয় আদায় বন্ধ করতে হবে।

দ্বিতীয়ত- মন্ত্রণালয়, সরকারি ও আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানের বকেয়া বিল পরিশোধের নির্দেশ, তৃতীয়ত- গণমাধ্যমের স্বার্থে সব বিজ্ঞাপনদাতাকে দ্রুত বিজ্ঞাপনী সংস্থার বিল পরিশোধের নির্দেশ, ২ শতাংশ সুদে এক বছরের ব্যয়ের ৭০ শতাংশ ব্যাংকিং খাত থেকে ঋণ এবং সবশেষে বিজ্ঞাপন শিল্পকে প্রয়োজনীয় সেবা খাত হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া।