গোয়েন্দা প্রতিবেদন

ঈদে হুমকি হতে পারে পলাতক জঙ্গিরা

বড় বড় মসজিদে সহিংসতার আশঙ্কা * ছুটিতে বাড়তে পারে চুরি-ডাকাতি, ছিনতাই

  সিরাজুল ইসলাম ২৩ মে ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঈদে হুমকি হতে পারে জঙ্গি সংগঠনগুলোর পলাতক সদস্যরা। তারা যে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটাতে পারে। তাদের মাধ্যমে রাজধানীসহ দেশের বড় বড় মসজিদে সহিংস ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। শুধু তাই নয়, স্বার্থান্বেষী মহল এবং সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দল সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলতে সার্বিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালাতে পারে। ত্রাণ ও জাকাতের কাপড় বিতরণের সময় পদপিষ্ট হয়ে প্রাণহাণির ঘটনা ঘটতে পারে। সরকারের একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ঈদুল ফিতরে দেশের সম্ভাব্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সংক্রান্ত ওই প্রতিবেদনটি এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোতে দেয়া হয়েছে।

উগ্রবাদী, সন্ত্রাসী কিংবা জঙ্গিগোষ্ঠীর হুমকির বিষয়ে র‌্যাব মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, যে কোনো সন্ত্রাসী, উগ্রবাদী কিংবা জঙ্গিগোষ্ঠীর অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির অপতৎপরতা কঠোরভাবে দমন করা হবে। সেজন্য র‌্যাবের গোয়েন্দা টিম কাজ করছে। সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিং করছে র‌্যাবের সাইবার টিম। সার্বিক বিষয়েই র‌্যাবের নজরদারি অব্যাহত আছে। নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড এবং জঙ্গি অপতৎপরতা বন্ধে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে চেকপোস্টের সংখ্যা। প্রস্তুত রাখা হয়েছে রিজার্ভ ফোর্স, বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট এবং ডগ স্কোয়াড।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে এ বছর সীমিত ও নিয়ন্ত্রিতভাবে ঈদের নামাজ আদায় করা হবে। নামাজ শেষে সৌহার্দ্য বিনিময় ও কোলাকুলির বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তারপরও ঈদের জামাতে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে যথাযথ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। ১৪ মে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মুসল্লিদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বিবেচনায় এ বছর ঈদের জামাত ঈদগাঁ মাঠ বা খোলা জায়গায় অনুষ্ঠিত হবে না। জামাত হবে কাছের মসজিদে। প্রয়োজনে একই মসজিদে একাধিক জামাত হবে। এ ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা, হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রাখা, নিজ নিজ জায়নামাজ নিয়ে আসা বাধ্যতামূলক করা, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থদের মসজিদে আসা নিরুৎসাহিত করাসহ ১৩টি শর্ত রয়েছে। কিন্তু মুসল্লিরা এসব শর্ত লঙ্ঘন করতে পারেন।

মার্কেট-শপিংমলের বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারের সিদ্ধান্তে মার্কেট-শপিংমল খোলা হলেও অনেক ক্ষেত্রেই স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। কোথাও কোথাও পকেটমার ছিনতাইকারী, প্রতারক, অজ্ঞান-মলম পার্টির তৎপরতা দেখা যায়। ঈদে ঢাকা মহানগরীর মার্কেট ও শপিংমলে কেনাকাটা এবং ব্যাংক ও অনান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা তোলার পর ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে জানমাল হারানোর আশঙ্কা আছে। ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটির সুযোগ নিয়ে অপরাধী চক্র চুরি-ডাকাতির ঘটনা ঘটাতে পারে। করোনাভাইরাসের কারণে গার্মেন্ট ফ্যাক্টরি ১ মাস বন্ধ থাকার পর ২৫ এপ্রিল থেকে সীমিত আকারে চালু হওয়ায় শ্রমিকদের ঈদ বোনাস নিয়ে পরিস্থিতি প্রকট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী ৩০ মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটি বাড়ানো হয়েছে। সে পর্যন্ত বন্ধ থাকবে গণপরিবহন। কিন্তু মানুষ রিকশা, ভ্যান, নসিমন-করিমনে বাড়ি যাচ্ছেন। নৌপথেও অনেকে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এক্ষেত্রে ইঞ্জিনচালিত নৌকা, ট্রলার বা অন্যান্য নৌযানে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির আশঙ্কা আছে। এ পরিস্থিতি রোধে সড়ক ও বিকল্প রাস্তাগুলোতে পর্যাপ্ত চেকপোস্ট স্থাপনের মাধ্যমে চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। নৌপথে নৌ পুলিশের তৎপরতা বাড়াতে হবে। গোয়েন্দা প্রতিবেদনের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, দেশি-বিদেশি স্বার্থান্বেষী মহল সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলতে অপতৎপরতায় লিপ্ত আছে। এ পরিস্থিতিতে ঈদ সামনে রেখে যে কোনো ধরনের সহিংস ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে যথাযথ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে। ঈদে ঘরমুখো মানুষের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব বজায় না থাকায় ঈদ ও ঈদপরবর্তী সময়ে সারা দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ব্যাপকহারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা আছে।

সার্বিক পরিস্থিতে ১৩ দফা সুপারিশ বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে। বলা হয়েছে, জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম ও এর আশপাশের এলাকায় ঈদ জামাতের আগে স্যুইপিং করে সার্বক্ষণিক পাহারার ব্যবস্থা রাখতে হবে। মসজিদের প্রবেশপথে আর্চওয়ে গেট স্থাপনের পাশাপাশি হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে মুসল্লিদের তল্লাশির ব্যবস্থা নিতে হবে। ঈদে ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকা ফার্মেসি ও হাসপাতালগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে। চুরি, ছিনতাই, মলম ও অজ্ঞান পার্টির তৎপরতা রোধে ঢাকা মহানগরীসহ অন্যান্য মহানগর ও জেলা শহরে পুলিশ ও র‌্যাবের টহল বাড়াতে হবে। অগ্রিম তথ্য সংগ্রহে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে হবে।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত