পাকিস্তানে ৯৯ যাত্রী নিয়ে বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৬৬

  যুগান্তর ডেস্ক ২৩ মে ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পাকিস্তানের বন্দরনগরী করাচির আবাসিক এলাকায় শুক্রবার একটি যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের (পিআইএ) জেট বিমান এ-৩২০ লাহোর থেকে যাত্রী ও ক্রু মিলিয়ে ৯৯ জনকে নিয়ে করাচি যাচ্ছিল। বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১২টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৬৬ জন যাত্রী নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন সরকারি কর্মকর্তারা। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। বিবিসি ও ডন।

পাকিস্তানের বিমান চলাচল কর্মকর্তারা বলেন, পিআইএর বিমানটিতে ৯১ জন যাত্রী ও আটজন ক্রু ছিলেন। লাহোর থেকে বিমানটি যাত্রা শুরু করে পাকিস্তানের করাচির জিন্নাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাচ্ছিল। বিমানবন্দর থেকে বিমানটি মাত্র এক মিনিটের দূরত্বে ছিল। করাচির যে আবাসিক এলাকায় বিমানটি ভেঙে পড়েছে সেখান থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়ছে। উদ্ধারকর্মীরা উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। এলাকার বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিমানটি করাচির জিন্নাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রায় দুই মাইল উত্তর-পূর্বে করাচির মডেল কলোনি নামে একটি এলাকায় ভেঙে পড়ে। সিন্ধু প্রদেশের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা ৬৬ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তারা দাবি করেছেন দু’জন যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নিচ্ছে ইদি ফাউন্ডেশন। এ ফাউন্ডেশনের মুখপাত্র সাদ ইদি বলেন, দুর্ঘটনাস্থল থেকে এখন পর্যন্ত বিমানের ১৩ জন আরোহীকে অচেতন অবস্থায় বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ওই আবাসিক এলাকার ২৫ থেকে ৩০ জন আহত বাসিন্দাকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। ঠিক কতজন নিহত হয়েছেন, তা এ মুহূর্তে বলা সম্ভব নয়।

প্রত্যক্ষদর্শী মোহাম্মদ উজায়ের বিবিসি উর্দু বিভাগকে জানিয়েছেন, বিকট আওয়াজ শুনে তিনি বাইরে বেরিয়ে আসেন। চারটি বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। প্রচুর ধোঁয়া আর আগুন জ্বলছে। আরেকজন প্রত্যক্ষদর্শী ড. কানওয়াল নাজিম বিবিসি উর্দুকে বলেছেন, তিনি মানুষের চিৎকার শুনতে পাচ্ছেন। মসজিদ লাগোয়া তিনটি বাড়ি থেকে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে। সরু রাস্তার জন্য উদ্ধার কাজের যানবাহন ও অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছতে বেগ পেতে হচ্ছে।

বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, বিমানটি অবতরণের ঠিক আগে দিয়ে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে চাকা খুলতে পারছিল না। পিআইএর প্রধান নির্বাহী এয়ার ভাইস মার্শাল এরশাদ মালিক বলেন, পাইলট ট্রাফিক কন্ট্রোল রুমে যান্ত্রিক ওই রুটির কথা জানিয়েছিলেন।

পাকিস্তান সেনাবাহিনী বলেছে, তাদের দ্রুত মোকাবেলা বাহিনীর সৈন্যরা দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে উদ্ধার কাজে সহায়তার জন্য। স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে জরুরিকালীন অবস্থা জারি করা হয়েছে। করোনাভাইরাস লকডাউনে বন্ধ থাকার পর মাত্র কয়েকদিন আগে দেশটিতে বাণিজ্যিক বিমান চলাচল আবার শুরু হয়েছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন, তিনি দুর্ঘটনার খবরে মর্মাহত ও দুঃখিত। তিনি অবিলম্বে ঘটনার তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

এর আগেও পাকিস্তানে এমন অনেক বিমান দুর্ঘটনা ঘটেছে। ২০১০ সালে ইসলামাবাদে প্রাইভেট এয়ারলাইন এয়ারব্লু দুর্ঘটনায় বিমানের ১৫২ যাত্রীর সবাই নিহত হয়। পাকিস্তানের ইতিহাসে এটি ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা। এরপর ২০১২ সালে রাওয়ালপিণ্ডিতে খারাপ আবহাওয়ার মধ্যে বোয়িং ৭৩৭-২০০ দুর্ঘটনায় উড়োজাহাজটির ১২১ জন যাত্রী ও ৬ ক্রুর সবাই নিহত হয়। ২০১৬ সালে পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ ইসলামাবাদে যাওয়ার পথে তাতে আগুন ধরে বিস্ফোরণ ঘটে নিহত হয় ৪৭ জন।

 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত