পশ্চিমবঙ্গে জেএমবির শীর্ষ নেতা গ্রেফতার

  কলকাতা প্রতিনিধি ৩০ মে ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নিষিদ্ধ জঙ্গিগোষ্ঠী জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) ভারতীয় শাখার এক শীর্ষ নেতাকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্সের (এসটিএফ) সদস্যরা। পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের সুতিতে বুদ্ধগয়া বিস্ফোরণে জড়িত সন্দেহে শুক্রবার তাকে গ্রেফতার করা হয়।

ভারতে জেএমবির সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হিসেবে কাজ করছিল গ্রেফতার আবদুল করিম ওরফে বড় করিম। জেএমবি নেতা সালাউদ্দিন সালেহিনের মতো কুখ্যাত জঙ্গিকে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে নিজের বাড়িতে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছিল সে। বাংলাদেশে গত কয়েক মাসে যে কয়েকজন জঙ্গি ধরা পড়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদেও উঠে আসে তার নাম। কিন্তু পরিযায়ী শ্রমিকের ছদ্মবেশে বাঙালি রাজমিস্ত্রিদের সঙ্গে সে লুকিয়ে ছিল দক্ষিণ ভারতের কর্নাটকে। পরে দাড়ি-গোঁফ কামিয়ে ভোল পাল্টে দিন কয়েক আগে গ্রামে ফিরেছিল। নিজের ডেরায় না থেকে গা-ঢাকা দিয়েছিল মাসির বাড়িতে। কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হল না। শুক্রবারই তাকে কলকাতার ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলা হয়। আদালত তাকে ১২ জুন পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন।

কলকাতা পুলিশের সদর দফতর লালবাজারে করিম সম্পর্কে এসব কথা জানান কলকাতা পুলিশের ডিসি (এসটিএফ) অপরাজিতা রাই। পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা করিম ধরা পড়ার পরেই বাংলাদেশ থেকে সন্ত্রাসবিরোধী সরকারি সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা এসটিএফের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন। এদিন বাংলাদেশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) এডিশনাল ডেপুটি কমিশনার সাইফুল ইসলাম ঢাকায় সংবাদমাধ্যমের কাছে বলেন, এসটিএফের কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছে, পেলেই বোঝা যাবে। জঙ্গিরা নাম বদল করে অনেক সময় চলাফেরা করে। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তি বাংলাদেশে করিম নামে না হলেও অন্য কোনো দাগি অপরাধী ছিল কিনা, তার তথ্য খতিয়ে দেখা হবে।

ডিসি (এসটিএফ) অপরাজিতা জানান, গত বছরের গোড়ার দিকে সালাউদ্দিন তৈরি করে জামা’আতুল মুজাহিদীন হিন্দ অর্থাৎ জেএমবির ভারতীয় শাখা। সেই শাখারই দায়িত্বে ছিল এই বড় করিম।

জিজ্ঞাসাবাদে করিম দাবি করেছে, এতদিন কর্নাটকের বিভিন্ন জায়গায় পরিযায়ী শ্রমিক সেজে লুকিয়ে ছিল সে। লকডাউনের সময় আটকে ছিল সেখানে। সম্প্রতি সে পালিয়ে আসে মুর্শিদাবাদে।

পরিযায়ী শ্রমিকের ছদ্মবেশে তাদের সঙ্গেই ট্রেনে ফেরে সে। পুলিশ সূত্র জানায়, করিমের দেয়া তথ্য অনুযায়ী সুতি থেকে ইমতিয়াজ নামে আরও একজনকে আটক করা হয়েছে। তার কার্যকলাপও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বাংলাদেশ থেকে পাঁচ বছর আগে ২০১৫ সালে দুই জেএমবি নেতা সালাউদ্দিন সালেহিন ও মাস্টার মুর্শিদাবাদে এসে ধুলিয়ান মডিউলের কাজ শুরু করে। ওই সময় তারা করিমের সামশেরগঞ্জের বাড়িতেই ছিল। তখন অন্য জেএমবি নেতা বোমারু মিজান ওরফে কাওসার সেখানে যায়। আগে করিম ট্রাক্টর চালাত। পারিবারিক গ্রিলের ব্যবসাও দেখত। তখনই সে জেএমবিতে যোগ দেয়।

জানা গেছে, বোমারু মিজানের কাছ থেকে সে বিস্ফোরক তৈরির প্রশিক্ষণ নেয়। বুদ্ধগয়া বিস্ফোরণের পেছনে তার হাত রয়েছে বলে সন্দেহ গোয়েন্দাদের।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত