পশ্চিমবঙ্গের দমকলমন্ত্রী আক্রান্ত

করোনায় মৃত্যুতে চীনকে ছাড়াল ভারত

পশ্চিমবঙ্গে মসজিদ ও মন্দিরসহ ধর্মস্থান খুলছে * পশ্চিমবঙ্গের ক্রিকেট অন্দরমহলেও করোনার থাবা

  কৃষ্ণকুমার দাস, কলকাতা থেকে ৩০ মে ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মহামারী করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে ভারতে মৃত্যুর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। করোনায় মৃত্যুতে চীনকে ছাড়িয়ে গেছে ভারত। শুক্রবার ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে ১৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশটিতে করোনায় ৪ হাজার ৭০৬ জনের মৃত্যু হল। আর চীনে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা ৪৬৩৮। ২৪ ঘণ্টায় ভারতে আক্রান্ত হয়েছেন ৭ হাজার ৪৬৬ জন। একদিনে এত মানুষ এর আগে সংক্রমিত হননি। শুক্রবার পর্যন্ত দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৬৫ হাজার ৭৯৯ জন। আর চীনে আক্রান্তের সংখ্যা ৮৪ হাজার ১০৬ জন। আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ভারতের মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু, দিল্লি ও গুজরাট রাজ্যে।

ভারতের অন্যসব রাজ্যের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গেও নতুন করে এক লাফে ৩৪৪ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে শুধু কলকাতা শহরে ৮৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কলকাতাসহ ১০টি প্রধান শহরে ভারতের করোনা আক্রান্ত ৭০ শতাংশ। পশ্চিমবঙ্গের দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু সস্ত্রীক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তবে তিনি উপসর্গহীন হওয়ায় এবং শারীরিক কোনো সমস্যা না থাকায় আপাতত তাকে বাড়িতে ‘হোম আইসোলেশনে’ রাখা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির ঘনিষ্ঠ বিধায়ক তমোনাশ ঘোষও আক্রান্ত হয়েছেন। তমোনাশ অ্যাপোলা হাসপাতালে ভেন্টিলেশনে আছেন। বিধায়কের স্ত্রী ও মেয়ে এবং বাড়ির পরিচারিকাও আক্রান্ত। মন্ত্রিসভার সদস্য আক্রান্ত হওয়ায় খুবই উদ্বিগ্ন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। শুক্রবার সকাল থেকে ফোন করে তিনি দলের সব প্রবীণ বিধায়ক, মন্ত্রী ও সাংসদদের আরও সতর্কতা অবলম্বন করতে পরামর্শ দেন। উদ্বিগ্ন কলকাতার মেয়র ও পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমও। নগর নিগমের স্বাস্থ্যকর্তাদের নিয়ে তিনি জরুরি বৈঠক ডেকেছেন। মহারাষ্ট্র ও গুজরাট থেকে শ্রমিকরা আসায় সংক্রমণের হার লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন ফিরহাদ হাকিম।

পশ্চিমবঙ্গের ক্রিকেট নিয়ামক সংস্থা ‘ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল’র (সিএবি) অন্দরমহলেও করোনা থাবা বসিয়েছে। বাংলার সিনিয়র দলের অন্যতম নির্বাচক সাগরময় সেন শর্মা আক্রান্ত হয়েছেন। এ প্রথম পশ্চিমবঙ্গে কোনো ক্রিকেট ব্যক্তিত্ব আক্রান্ত হলেন। শুক্রবার জানা যায় তার শরীরে বাসা বেঁধেছে ভাইরাসটি। এর আগে তার স্ত্রী করোনায় আক্রান্ত হন। স্ত্রী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার পর তার শরীরে ঢুকেছে ভাইরাসটি। যদিও তার দেহে করোনার উপসর্গ ছিল না। তবে টেস্ট করানোর পর পজিটিভ আসে। দমদম বিমানবন্দরের কাছে রাজারহাটের কোয়ারেন্টিন সেন্টারে তাকে রাখা হয়েছে।

এত কিছুর মধ্যেও ১ জুন থেকে পশ্চিমবঙ্গে সব মসজিদ ও মন্দিরসহ ধর্মস্থান খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। শুক্রবার নবান্নে তিনি বলেন, ট্রেনে-বাসে যদি এত লোক একসঙ্গে যাতায়াত করতে পারেন, তবে ধর্মস্থান কেন বন্ধ থাকবে? তবে কোনো ধর্মস্থানে একসঙ্গে ১০ জনের বেশি ঢুকতে পারবেন না। কোনো জমায়েত করা যাবে না। ভিনরাজ্য থেকে আসা শ্রমিকদের জন্য পশ্চিমবঙ্গে করোনা বাড়ছে বলে মন্তব্য করেন মমতা। শ্রমিকদের গ্রামের স্কুলবাড়িতে তৈরি কোয়ারিন্টন সেন্টারে রাখা হবে।

দক্ষিণ ভারতের কেরালায় শুরু হয়েছিল ভারতের প্রথম করোনা সংক্রমণ। তার পরই শীর্ষে চলে আসে মহারাষ্ট্র। হু হু করে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকে ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানীতে। এখনও সেই ধারা অব্যাহত। ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের হিসেবে, মহারাষ্ট্রেই মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ৯৮২ জনের। ৯৬০ জন মারা গেছেন গুজরাটে। মধ্যপ্রদেশে মৃতের সংখ্যা ৩২১, পশ্চিমবঙ্গে ২৯৫। শতাধিক মৃত্যুর তালিকায় রয়েছে দিল্লি (৩১৬), উত্তরপ্রদেশ (১৯৭), রাজস্থান (১৮০) ও তামিলনাড়ু (১৪৫)। সংক্রমণের হারে শীর্ষে মহারাষ্ট্র। গত ২৪ ঘণ্টায়, দু’হাজার ৫৯৮ জন নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে সেখানে। এ নিয়ে সে রাজ্যে আক্রান্ত ৫৯ হাজার ৫৪৬ জন। এর মধ্যে মুম্বাইয়েই আক্রান্ত ৩৫ হাজারেরও বেশি। আক্রান্তের হিসাবে রাজ্যগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে তামিলনাড়ু। সে রাজ্যে কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়েছেন ১৯ হাজার ৩৭২ জন। এর পরে রয়েছে রাজধানী দিল্লি। সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ১৬ হাজার ২৮১ জন। গুজরাটে আক্রান্ত ১৫ হাজার ৫৬২ জন। এরপর রয়েছে রাজস্থান (৮০৬৭), মধ্যপ্রদেশ (৭৪৫৩), উত্তরপ্রদেশ (৭১৭০), পশ্চিমবঙ্গ (৪৫৩৬), বিহার (৩২৯৬), অন্ধ্রপ্রদেশ (৩২৫১), কর্নাটক (২৫৩৩), তেলাঙ্গানা (২২৫৬), পাঞ্জাব (২১৫৮), জম্মু-কাশ্মীর (২০৩৬), ওড়িশা (১০৬০), হরিয়ানা (১৫০৪) ও কেরালা (১০৮৮)।

করোনাভাইরাসে যেমন মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন, তেমন সুস্থ হয়ে ওঠার সংখ্যাটাও নেহাত কম নয়। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৭১ হাজার ১০৬ জন। তার মধ্যে ৩ হাজার ৪১৪ জন সুস্থ হয়েছেন গত ২৪ ঘণ্টায়। ভারতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম রোগী শনাক্ত হয় জানুয়ারির শেষ দিকে। যুক্তরাষ্ট্রে এ পর্যন্ত ১৭ লাখের বেশি কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছেন, যা বিশ্বে সবচেয়ে বেশি। আক্রান্তের সংখ্যায় এরপর রয়েছে যথাক্রমে ব্রাজিল, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, স্পেন, ইতালি, ফ্রান্স ও জার্মানি এবং তারপর ভারত।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত