রাজনৈতিক দল নিবন্ধন

নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ ইসির

  কাজী জেবেল ০২ জুন ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রাজনৈতিক দল নিবন্ধনে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত একটি খসড়াও তৈরি করা হয়েছে। এতে ২০২০ সালের মধ্যে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সব পর্যায়ের কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী রাখার শর্ত শিথিল করার চিন্তা করা হচ্ছে।

এদিকে নতুন এ আইন করতে গিয়ে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১৯৭২ এ আবার সংশোধনী আনতে যাচ্ছে কমিশন। সোমবার কমিশনের সভায় এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। ওই সভায় একজন কমিশনার রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন দুই বছর পর পর পর্যালোচনা করার বিধান অন্তর্ভুক্তের প্রস্তাব করেন। ইসির সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসির সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর যুগান্তরকে বলেন, রাজনৈতিক দল নিবন্ধন সংক্রান্ত আলাদা আইন প্রণয়নের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে বড় কোনো পরিবর্তন আসছে না। আরপিওতে যেসব বিধান থাকছে সেগুলোর বাংলা ভাষায় রূপান্তর করা হচ্ছে। নতুন আইন করলে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা হতে পারে বলেও জানান তিনি।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে সোমবার ইসি সচিবালয়ে কমিশনের ৬৩তম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার এজেন্ডায় গণপ্রতিনিধিত্ব আইন ২০২০ এর খসড়া বিল অনুমোদন, রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন আইন প্রণয়ন, নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রণীত আইন বাংলা প্রণয়ন, জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর স্থগিত নির্বাচনের ওপর আলোচনার সিদ্ধান্ত প্রহণ এবং জাতীয় সংসদের সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ আইন ২০২০ এজেন্ডায় ছিল। সভায় এজেন্ডাভুক্ত এসব বিষয়ে আলোচনা হলেও কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়া বৈঠক শেষ হয়। ওই বৈঠকে করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে যেসব নির্বাচন আটকে আছে, সেগুলোর তথ্য উপস্থাপন করতে ইসি সচিবালয়কে নির্দেশনা দেয়া হয়।

জানা গেছে, বর্তমানে রাজনৈতিক দল নিবন্ধনে পৃথক কোনো আইন নেই। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ এর ৯০ অনুচ্ছেদ এবং রাজনৈতিক দল নিবন্ধন বিধিমালা ২০০৮ অনুযায়ী বর্তমানে রাজনৈতিক দল নিবন্ধন দিয়ে আসছে ইসি। আরপিও থেকে ৯০ অনুচ্ছেদ সরিয়ে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা নিজেই নতুন আইনের খসড়া তৈরি করেছেন।

অতি গোপনীয়তার সঙ্গে ওই খসড়া শুধু নির্বাচন কমিশনারদের দিয়েছেন। প্রচলন অনুযায়ী বৈঠকে অংশ নেয়া কর্মকর্তাদের আলোচনার জন্য কার্যপত্র দেয়া হলেও গতকালের বৈঠকে তা দেয়া হয়নি।

তবে বৈঠকে অংশ নেয়া একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, নতুন আইন প্রণয়নের যৌক্তিকতা নিয়ে আলোচনা হয়। এতে বলা হয়, জাতীয় সংসদের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোয় দলীয় প্রতীকে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। আরপিও শুধু জাতীয় সংসদ নির্বাচন সংক্রান্ত আইন। তাই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে করতে গিয়ে রাজনৈতিক দল নিবন্ধন নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এমন পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন আইনের খসড়া তৈরি করা হয়েছে। বৈঠকে খসড়া আইন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়নি। পরবর্তী বৈঠকে এটি নিয়ে আবারও আলোচনা হবে। এছাড়া রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিটি পর্যায়ের কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্ব রাখার শর্ত শিথিল করার বিষয়েও ইঙ্গিত দেন কমিশনাররা।

ওই বৈঠকে একজন নির্বাচন কমিশনার রাজনৈতিক দলগুলো নিবন্ধন শর্ত অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করে কি না, তা খতিয়ে দেখা হয় না বলে মন্তব্য করেন। তিনি রাজনৈতিক দল নিবন্ধন আইনে দুই বছর পরপর তা রিনিউ করার বিধান যুক্তের প্রস্তাব করেন। এছাড়া কমিশনার নিয়োগে আইন করার প্রস্তাবও দেন ওই কমিশনার।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ এর খসড়ায় নির্বাচন, ব্যালট পেপার, নির্বাচন কর্মকর্তা- এ জাতীয় ইংরেজি শব্দের বাংলা ভাষায় রূপান্তর না করার বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের পর্যবেক্ষণ নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে বলা হয়, রাজনৈতিক দল নিবন্ধনে নতুন আইন হলে আরপিওর কিছু জায়গায় সংশোধনী আনার প্রয়োজন হবে।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত