জনগণকে মহাবিপদে ঠেলে দেয়া হচ্ছে

মির্জা ফখরুল

  যুগান্তর রিপোর্ট ০২ জুন ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, করোনাভাইরাসের ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, সবাই বলছে সবকিছু খুলে দেয়া হবে আত্মঘাতী। এটা করলে একটা ভয়ংকর অবস্থা তৈরি হবে। বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি সরকার নিয়োজিত টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটিও একই কথা বলছে বারবার। কিন্তু সরকার সে কথা শোনেননি। আমরা মনে করি, এক্ষেত্রে সরকার আরও সময় নিতে পারত। ভারতে দেখেন, তারা সব রাজ্যের চিফ মিনিস্টার, প্রিন্সিপাল সেক্রেটারিদের সঙ্গে কথা বলে আরও এক মাস লকডাউন বাড়িয়েছে। আসলে দায়িত্বশীলতা নেই বলেই সরকার এভাবে তুঘলকি কারবার করছেন, যা জনগণকে মহাবিপদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

সোমবার সকালে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ট্রেন চলছে এবং তাতে গাদাগাদি করে মানুষ আসছে। বাসে ওঠার জন্য, জায়গা পাওয়ার জন্য রীতিমতো মারামারি হচ্ছে। বাংলাদেশে এভাবে গণপরিবহনকে নিয়ন্ত্রণ করবেন? এটা সম্ভব না। অফিস খুলে দিয়েছেন। অফিস খুললে তো লোকজন আসবেই। লঞ্চেও একই অবস্থা। মনে হচ্ছে এ পরিস্থিতিতে সরকার ‘কানে তুলা দিয়েছে। যা খুশি বলেন তাদের কিছু যায়-আসে না। তারা তো আছেই। সরকার কোথায় প্রশ্ন রেখে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকারের একলা চলো নীতি পুরোপুরিভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ৭৭ হাজার কোটি টাকা ব্যাংক ঋণ দেয়া হবে, কোনো ইনসেনটিভ না। এটা কিন্তু একটা কৌশল, যা নিয়ে হুমকি-ধমকিও দেয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, কিছু বললেই তারা বলছে আমরা উসকানি দেয়ার চেষ্টা করছি, সমালোচনা করছি। একজন তো প্রায়ই বলেন যে, বিষোদগার করবেন না। আরে বিষোদগার করে আপনারা যে অবৈধভাবে সরকার দখল করে আছেন সেটা বলছি না। আমরা বলছি যে, আপনারা ব্যর্থ হয়েছেন, এটা করতে পারছেন না, এই জিনিসটা করা উচিত ছিল।

বাস ভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে ‘অমানবিক’ উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, এটা সম্পূর্ণভাবে একটা অমানবিক কাজ হয়েছে। এমনিতেই মানুষের ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। বাসে কারা ওঠে? কম আয়ের সাধারণ মানুষেরাই বাসে ওঠে। তাদের বাস ভাড়া বাড়িয়ে দিল। কার স্বার্থে বাড়িয়েছে? মালিকদের স্বার্থে বাড়িয়েছে। মালিকদের আবার প্রণোদনা দিচ্ছে, অনুদান দিচ্ছে। পুরো বিষয়টা হয়েছে লুটপাটের জন্য, পুরোপুরি লুটপাট। শুধু দুর্নীতির সুযোগ নিচ্ছে সবাই।

গণস্বাস্থ্যের উদ্ভাবিত কিট অনুমোদন না পাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, এখনও ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর কিট অনুমোদন পায়নি। পত্রপত্রিকায় আমরা দেখেছি এই কিট নিয়েও বিভিন্ন রকমের দুর্নীতি চলছে, ব্যবসা চলছে, বাণিজ্য চলছে। এ দুর্দিনে যারা মানুষের স্বাস্থ্যকে, জীবনকে পুঁজি করে ব্যবসা-বাণিজ্য করার সুযোগ দেয় সেই সরকারকে কি আমরা দুর্নীতিমুক্ত বলতে পারব? পারব না। আমরা আশা করব, সরকার ভুল-ত্রুটিগুলো শুধরে নিয়ে জনগণের জন্য কাজ করবেন।

করোনাভাইরাসের কারণে কৃষকদের দুর্বিষহ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে ১০ দফা প্রস্তাবনা তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব। এসবের মধ্যে আছে, আগামী এক বছর পোলট্রি ও ডেয়ারিসহ সব ধরনের কৃষি ঋণের কিস্তি সুদসহ মওকুফ, বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ ও ভর্তুকিসহ প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ, কৃষিপণ্যসহ আম, লিচু কাঁঠাল, পেয়ারা প্রভৃতি ফল সরকারি উদ্যোগে বাজারজাত নিশ্চিতকরণ, কৃষকদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, কৃষকদের উৎপাদিত ধানের বিপরীতে কমপক্ষে তিন মাসের সমপরিমাণ টাকা বিনা সুদে প্রদান, কৃষকদের কাছ থেকে বেশি পরিমাণ ধান ক্রয়ে অতিরিক্ত ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ, প্রান্তিক চাষী ও ক্ষেতমজুরদের জন্য বিশেষ সুদবিহীন ঋণ ও কৃষকদের ওপরে হয়রানি বন্ধ করে তাদের কাছ থেকে সরাসরি ধান ও চাল ক্রয়ের ব্যবস্থা।

বর্তমান পরিস্থিতিতে কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে বিএনপির অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের নেয়া কর্মসূচি ঘোষণা করেন মির্জা ফখরুল। আগামী ১০ জুন প্রতিটি জেলায় প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে চলতি মৌসুমে বোরো ধান ক্রয়ের দাবিতে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি পেশ, আর্থিক ও পরিবহন সংকটে যেসব কৃষক ধান বিক্রি করতে পারছে না তাদেরকে কৃষকদল থেকে সহায়তা প্রদান এবং প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে চলমান ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত রাখার কথাও জানান তিনি।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত