বরিশালে উপসর্গহীন করোনা রোগী বাড়ছে

ভয়াবহ কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের আশঙ্কা

  আকতার ফারুক শাহিন, বরিশাল ব্যুরো ০২ জুন ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা সংক্রমণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে উপসর্গহীন রোগী। বরিশালে উপসর্গহীন রোগীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় ভয়াবহ কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের আশঙ্কা করা হচ্ছে। জ্বর, সর্দি, কাশির মতো লক্ষণ ছাড়াই প্রতিদিন করোনা রোগী ধরা পড়ছে। বিষয়টি নিয়ে আতঙ্কগ্রস্ত স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, বরিশাল বিভাগে ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ মানুষ করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার কারণে হয়তো অনেকে সুস্থ হয়ে উঠেছেন। অজান্তে তারা অন্যদেরও আক্রান্ত করছেন।

বরিশালের বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. বাসুদেব কুমার দাস বলেন, নানা রোগে স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে সেবা নিতে আসা অনেকের এখন করোনা পজিটিভ ধরা পড়ছে। কোনো উপসর্গ তাদের মধ্যে না থাকলেও পরীক্ষা করলেই করোনা ধরা পড়ছে। এটি বড় রকমের একটি উদ্বেগের কারণ।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি) সূত্র জানায়, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ৬১ জন পুলিশ সদস্য করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের অনেকের পরিবারের সদস্যরাও আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে আছেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার প্রলয় চিসিম, কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি (তদন্ত) আবদুর রহমান মুকুলসহ বেশ কয়েকজন এসআই, এএসআই ও কনস্টেবল।

শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আরটি পিসিআর ল্যাব সূত্র জানায়, বিএমপির ধারাবাহিক চেকআপে অনেকে করোনা শনাক্ত হয়েছেন। তাদের অনেকেরই কোনো উপসর্গ ছিল না। ১১ মে প্রথম উত্তর জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আবুল কালাম আজাদের গাড়িচালকের করোনা শনাক্ত হয়। এরপর বিএমপি ধারাবাহিকভাবে সদস্যের করোনা পরীক্ষা করানোর সিদ্ধান্ত নেয়। ধারাবাহিক চেকআপে উপসর্গহীন বহু পুলিশ সদস্যের করোনা পজিটিভ পাওয়া যাচ্ছে। সর্বশেষ করোনা পজিটিভ আসা বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার প্রলয় চিসিম জানান, তার ন্যূনতম কোনো লক্ষণ ছিল না। শুরু থেকে তিনি জনসম্পৃক্ত নানা কাজ করছিলেন। সেই কারণে কৌতূহলবশত ২৯ মে করোনা পরীক্ষার নমুনা দেন। ৩১ মে রাতে শেবাচিমের ল্যাব থেকে জানানো হয় যে তার করোনা পজিটিভ। তিনি বলেন, কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের কারণেই তিনি সংক্রমিত হয়েছেন।

পুলিশ সদস্যদের বাইরে রোববার শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক অরিন্দম বড়াল, প্রিয়াংকা দাস এবং তৌফিক এলাহি আহাদের করোনা পজিটিভ এসেছে। তাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, সন্দেহবশত করোনা পরীক্ষা করালে পজিটিভ আসে। অথচ তাদের শরীরে করোনার কোনো উপসর্গ ছিল না।

শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে কাজ করা দু’জন চিকিৎসক বলেন, মানুষের অবাধ বিচরণ এবং স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করায় দক্ষিণাঞ্চলের ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ মানুষ সংক্রমিত হয়ে পড়েছেন। স্বাস্থ্য দফতর বলছে, বরিশালে ১০ হাজার ৮৬৬ মানুষের করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬০৮ জনের শরীরে করোনার উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

বরিশাল নাগরিক পরিষদের সদস্য সচিব ডা. মিজানুর রহমান বলেন, একটি কথা মাথায় রাখতে হবে যে, যাদের পরীক্ষা করা হয়েছে তাদের অধিকাংশেরই করোনার কোনো না কোনো উপসর্গ ছিল। এছাড়া আরও কিছু মানুষের পরীক্ষা করা হয়েছে যারা করোনা আক্রান্তদের সংস্পর্শে ছিলেন। কিন্তু আমরা এখন যে নতুন সংকটে পড়েছি তা হল উপসর্গহীন করোনা রোগী। তিনি বলেন, আমাদের স্বাস্থ্য খাতের বর্তমান অবকাঠামোতে উপসর্গহীন রোগীর করোনা পরীক্ষা করাও প্রায় অসম্ভব। রোগী যখন বুঝতে পারে তখন তার বা চিকিৎসকের আর কিছুই করার থাকে না। এ পরিস্থিতি ঠেকাতে ব্যাপক হারে করোনা পরীক্ষা বাড়াতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।

বরিশালের সিভিল সার্জন ডা. মনোয়ার হোসেন বলেন, উপসর্গ নেই অথচ পরীক্ষা করাতে এসে পজিটিভ হয়েছে এমন রোগীর সংখ্যাই এখন বেশি। দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এ ধরনের করোনা রোগীর সংখ্যা। কিছুদিন আগেও এটি ছিল না। এভাবে চলতে থাকলে পরিস্থিতি সামাল দেয়া যাবে না।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত