আশঙ্কা চিকিৎসকের

ভারতে করোনায় আক্রান্ত হবেন ৬৫ কোটি মানুষ

  যুগান্তর ডেস্ক ০২ জুন ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ভারতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হবেন ৬৫ কোটি মানুষ। এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন দেশটির ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব মেন্টাল হেলথ অ্যান্ড নিউরো সায়েন্সের (নিমহ্যানস) নিউরোলজির প্রধান ভি রবি। তিনি বলেন, এ মাসের শুরু থেকে কড়াকড়ি শিথিল করতে যাচ্ছে ভারত। আর এতেই বড় ধরনের বিপদ নেমে আসতে পারে। এ সময় ব্যাপক রূপধারণ করবে করোনা। দেখা দেবে গোষ্ঠী সংক্রমণ। তার ধারণা, এ সময় ভারতের অর্ধেক জনগোষ্ঠী (৬৫ কোটি) করোনায় আক্রান্ত হবেন। এদিকে করোনায় আক্রান্তের দিক থেকে জার্মানি ও ফ্রান্সকেও ছাড়িয়ে গেছে ভারত। করোনার বিশ্ব তালিকায় দেশটির অবস্থান এখন সপ্তম। এমন পরিস্থিতিতে রাজধানী নয়াদিল্লির সব সীমান্ত ৭ দিনের জন্য বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল।

কর্নাটক হেলথ টাস্কফোর্সের কর্মকর্তা ভি রবি বলেন, দেশ এখনও সংক্রমণের তীব্রতা টের পায়নি। জুনের পর থেকে হু হু করে বাড়বে সংখ্যাটা। শুরু হবে গোষ্ঠী সংক্রমণও। তার দাবি, মধ্য ডিসেম্বরের মধ্যেই দেশের ৫০ শতাংশ নাগরিক করোনার কবলে পড়বেন। তবে উপসর্গ না থাকায় ৯০ শতাংশ মানুষ বুঝতেই পারবে না যে তাদের শরীরে বাসা বেঁধেছে মারণ ভাইরাস। তবে এক্ষেত্রে মাত্র পাঁচ শতাংশ রোগীকেই হয়তো ভেন্টিলেশনে রাখার প্রয়োজন হতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।

তবে আক্রান্তের তুলনায় মৃত্যুর হার তুলনামূলক কমই থাকবে বলে আভাস দিয়েছেন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ভি রবি। তার মতে, এ সময় করোনায় মৃত্যুর হার হতে পারে ৩ থেকে ৪ শতাংশ। তবে গুজরাটে এর হার ৬ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছতে পারে বলে আশঙ্কা তার।

এ ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য প্রতিটি রাজ্যকে প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন কর্নাটক হেলথ টাস্কফোর্সের কর্মকর্তা ভি রবি। তিনি বলেন, ইবোলা বা মার্সের মতো ততটা ভয়ংকর নয় করোনা। একে সঙ্গে নিয়েই বাঁচতে হবে। তবে সংক্রমণ রুখতে সতর্ক থাকা জরুরি। সচেতনতাই আমাদের রক্ষাকবচ।

এদিকে ভারতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৮ হাজার ৩৯২ জন। দ্বিতীয় দিনের মতো দেশটিতে একদিনেই ৮ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে আক্রান্ত হলেন। ফলে এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৯১ হাজার ৩৫৬। মোট মৃত্যু হয়েছে ৫ হাজার ৪১৪ জনের। ভারতে করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মহারাষ্ট্র। সেখানে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৬৭ হাজার ৬৫৫ জন। এরপরই রয়েছে তামিলনাড়ু। এ রাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ২২ হাজার ৩৩৩ জন, মৃত্যু হয়েছে ১৭৩ জনের।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির সব সীমান্ত বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। সোমবার সকালে দিল্লির সীমান্ত বন্ধের ঘোষণা দেন তিনি। কেজরিওয়াল বলেন, শুধু জরুরি সেবাদানকারী এবং সরকারি পাস রয়েছে এমন ব্যক্তিরা যাতায়াতের অনুমতি পাবেন। দিল্লির ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক আম আদমি পার্টির এই নেতা বলেন, আগামী এক সপ্তাহ দিল্লির সীমান্ত বন্ধ থাকবে। তবে জরুরি পরিষেবাগুলো এক্ষেত্রে ছাড় পাবে।

তিন ধাপে উঠছে লকডাউন : পঞ্চম দফায় ভারতে লকডাউন শুরু হল রোববার থেকে। আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত এ লকডাউনে পর্যায়ক্রমে খোলা হবে কিছু এলাকার জনসমাগম স্থল এবং রাতের কারফিউর সময়ও কমিয়ে আনা হচ্ছে। ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করেছে। সংক্রমণের হার কমেনি এমন এলাকায় কড়াকড়ি থাকলেও তিন ধাপে লকডাউন তুলে নেয়ার পরিকল্পনা ভারতীয় সরকারের। ৮ জুন থেকে শুরু হবে প্রথম ধাপ ‘আনলক-১’। প্রথম ধাপে ওই দিন থেকে ধর্মীয় উপাসনালয়, হোটেল, রেস্তোরাঁ ও শপিংমল খুলবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে। তবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপ কবে শুরু হবে তা স্পষ্ট করেনি কেন্দ্রীয় সরকার।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত