করোনায়ও প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ৮.২ শতাংশ

  হামিদ-উজ-জামান ০৩ জুন ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হতে পারে ৮ দশমিক ২ শতাংশ। একই লক্ষ্য ছিল চলতি বছরেও। তবে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয় ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ।

এছাড়া নতুন বাজেটে মূল্যস্ফীতির লক্ষ্য ধরা হচ্ছে ৫ দশমিক ৪ শতাংশ, যা চলতি বাজেটে রয়েছে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৩২৬ ডলার অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হতে পারে, যা চলতি বাজেটে রয়েছে ২ হাজার ১৭৩ ডলার।

‘মিডিয়াম টার্ম ম্যাক্রোইকনোমিক ফ্রেমওয়ার্কে (২০২০-২১ থেকে ২০২২-২৩)’ এসব বিষয় প্রক্ষেপণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, যেহেতু এই ফ্রেমওয়ার্কটি তৈরি এবং আপডেট করে অর্থ মন্ত্রণালয় সেহেতু এটির সঙ্গে মিল রেখেই বাজেটের সব লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে এবারের বাস্তবতা ভিন্ন। তাই এখনও এই লক্ষ্যগুলো চূড়ান্ত হয়নি। বিভিন্ন পর্যায়ে মতামত নেয়ার কাজ চলছে।

প্রবৃদ্ধির এ লক্ষ্যমাত্রাকে উচ্চাভিলাষী বলে আখ্যায়িত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ। জানতে চাইলে মঙ্গলবার তিনি যুগান্তরকে বলেন- এটা কিভাবে অর্জন সম্ভব হবে? কেননা অর্থ মন্ত্রণালয় জানে রেমিটেন্স কমে গেছে, আগামীতে আরও কমবে, রফতানি কমেছে, বিনিয়োগ স্থবির, তাছাড়া উৎপাদনের সব ক্ষেত্রে করোনার ক্ষতিকর প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। তাহলে এত বেশি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরার কারণ কি? আমার তো মনে হয় আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা উচিত।

সূত্র জানায়, আগামী অর্থবছরের জন্য টাকার অঙ্কে অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রত্যাশিত জিডিপির পরিমাণ হচ্ছে ৩১ লাখ ৭১ হাজার ৮২৪ কোটি টাকা। যেটি চলতি অর্থবছরের বাজেটে রয়েছে ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। এছাড়া ২০১৮-১৯ অর্থবছরের চূড়ান্ত হিসাবে অর্জিত হয়েছিল ২৫ লাখ ৪২ হাজার ৪৮২ কোটি টাকা।

মিডিয়াম টার্ম ম্যাক্রোইকনোমিক ফ্রেমওয়ার্কে বলা হয়েছে- আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য আগামী অর্থবছরের বাজেটে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ধরা হতে পারে তিন লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকা। যা চলতি বাজেটে ধরা হয় তিন লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। এর মধ্যে কর রাজস্বের লক্ষ্য ধরা হতে পারে তিন লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি বাজেটে রয়েছে তিন লাখ ৪০ হাজার ১০০ কোটি টাকা। এছাড়া মোট বিনিয়োগের লক্ষ্য ধরা হবে ১০ লাখ ৬১ হাজার ১৬৬ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের বাজেটে এ লক্ষ্য রয়েছে নয় লাখ ৪৬ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা। এর মধ্যে আগামী অর্থবছরের বাজেটে বেসরকারি বিনিয়োগের লক্ষ্য রয়েছে সাত লাখ ৯২ হাজার ৫৯৩ কোটি টাকা। যেটি চলমান বাজেটে রয়েছে ছয় লাখ ৯৪ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা। এছাড়া সরকারি বিনিয়োগের লক্ষ্য ধরা হতে পারে দুই লাখ ৬৮ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। চলতি বাজেটে এটি রয়েছে দুই লাখ ৪৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা।

আগামী অর্থবছরে জাতীয় সঞ্চয় ধরা হতে পারে ১০ লাখ ৬৩ হাজার ৯৭৯ কোটি টাকা। যা চলতি বাজেটে রয়েছে নয় লাখ ৮৩ হাজার কোটি টাকা। অভ্যন্তরীণ ঋণের লক্ষ্য ধরা হতে পারে ১৭ দশমিক ৬০ শতাংশ, যা চলতি বাজেটে রয়েছে ১৪ দশমিক ৫০ শতাংশ। বেসরকারি খাতের ঋণের লক্ষ্য হতে পারে ১৬ দশমিক ৭০ শতাংশ, যা বর্তমানে রয়েছে ১৬ দশমিক ৬০ শতাংশ। ব্যাপক মুদ্রা সরবরাহের ক্ষেত্রে আগামী অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা হতে পারে ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ, যা চলতি অর্থবছরের সমান।

মিডিয়াম টার্ম ম্যাক্রোইকনোমিক ফ্রেমওয়ার্কে আরও বলা হয়েছে, আগামী অর্থবছর রফতানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হতে পারে ৪১ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন ডলার, যা চলতি অর্থবছর রয়েছে ৪৬ দশমিক ৬০ বিলিয়ন ডলার। আমদানির ক্ষেত্রে ধরা হতে পারে ৫৪ দশমিক ৮৮ বিলিয়ন ডলার, যা বর্তমানে রয়েছে ৬৩ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার। রেমিটেন্স আয়ের লক্ষ্য ধরা হতে পারে ১৯ দশমিক ৮৩ বিলিয়ন ডলার, যা বর্তমান অর্থবছরের লক্ষ্য রয়েছে ১৯ বিলিয়ন ডলার।

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

আরও

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত