ঢাকা-বরিশাল নৌরুট: রোটেশনে উধাও স্বাস্থ্যবিধি

করোনা সংক্রমণ ভয়াবহ রূপ নেয়ার শঙ্কা

  সাইদুর রহমান পান্থ, বরিশাল ব্যুরো ০৪ জুন ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

৪ দিন ধরে ঢাকা-বরিশাল রুটে নৌযান চলাচল করছে। ২ মাস ৬ দিন বন্ধ থাকার পর নৌযান চলাচল শুরু হওয়ায় যাত্রীরা হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন। এদিকে মালিকরা সিন্ডিকেট (রোটেশন প্রথা) করে স্বল্প সংখ্যক নৌযান চলাচ্ছেন। এ কারণে যাত্রীচাপ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। তাই সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। ফলে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে সংক্রমণ ভয়াবহ রূপ নেয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা যায়, অধিক মুনাফার লোভে লঞ্চ মালিকরা সিন্ডিকেট (রোটেশন প্রথা) করে লঞ্চের সংখ্যা বাড়াচ্ছেন না। যদিও রোটেশন শব্দটি মানতে নারাজ লঞ্চ মালিকরা। বিষয়টি নিয়ে নির্বিকার বিআইডব্লিউটিএসহ সরকারের নানা সংস্থা। যে কারণে সামাজিক দূরত্ব সৃষ্টিতে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন।

সূত্র জানায়, ঢাকা-বরিশাল রুটে বর্তমানে ৩০টি লঞ্চ চলাচল করছে। নিয়ম অনুসারে এর অর্ধেক লঞ্চ ঢাকা সদরঘাটে ও অর্ধেক লঞ্চ বরিশাল লঞ্চঘাটে থাকার কথা। কিন্তু রোটেশন পদ্ধতিতে মালিকরা দুই প্রান্ত মিলে কখনই ৮-১০টির বেশি লঞ্চ চালান না। ফলে যাত্রীরা ন্যূনতম সেবা দূরে থাক, লঞ্চে পা ফেলার জায়গাও পান না। করোনার এ মৌসুমেও চলছে এ রোটেশন প্রথা। প্রথম দিন মাত্র ৪টি লঞ্চ বরিশাল থেকে ছেড়ে গেছে। অপর প্রান্ত (সদরঘাট) থেকে মাত্র

৬টি লঞ্চ ছেড়ে বরিশালে এসেছে। একই ভাবে ২য় দিন বরিশাল থেকে সোমবার ৬টি লঞ্চ, মঙ্গলবার ৪টি ও বুধবার ৬টি লঞ্চ ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে।

বিআইডব্লিউটিএ সূত্র জানায়, যাত্রী চাপ বেশি থাকায় সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি উধাও হয়ে গেছে। দুই প্রান্তে সমানসংখ্যক লঞ্চ থাকলে বা পরিবহন করলে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা যেত। তবে এতে লাভ কম হতো লঞ্চ মালিকদের। তাই তারা সব লঞ্চ চলাচল না করিয়ে অল্প লঞ্চ দিয়ে যাত্রী পরিবহন করাচ্ছেন।

জানতে চাইলে সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের বরিশাল জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী এনায়েত হোসেন শিবলু বলেন, আমরা শুধু একটা দাবি জানাই, অন্য দিনগুলোয় না হলেও অন্তত করোনার এ সময়ে যেন রোটেশন ভেঙে লঞ্চ চালান মালিকরা। এতে খানিকটা হলেও দুর্ভোগ লাঘবের পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা যাবে। বরিশাল সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদের সাবেক সভাপতি ও আইনজীবী এসএম ইকবাল বলেন, ৫ বছর আগেও এ রুটে ১০-১২টি লঞ্চ চলত। এখন চলে ২৮-৩০টি। মালিকদের যদি এতই লোকসান, তাহলে ফি বছর লঞ্চের সংখ্যা বাড়ছে কেন? এ ঘটনাই প্রমাণ করে, লোকসানের যেসব কথা বলা হচ্ছে, তা পুরোপুরি মিথ্যা। তারা অতি লাভের আশায় রোটেশন করে যাত্রী পরিবহন করছে।

শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেস ক্লাবের সভাপতি মানবেন্দ্র বটব্যাল বলেন, লঞ্চ মালিকরা যাত্রীদের জিম্মি করে রোটেশন প্রথা চালু করেছে। আদালত এ রোটেশন প্রথাকে অবৈধ ঘোষণা করলেও তা মানছেন না লঞ্চ মালিকরা।

বাংলাদেশ নৌ চলাচল (যাত্রী পরিবহন) সংস্থার কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও সুন্দরবন নেভিগেশনের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, ‘ঢাকা-বরিশাল নৌ রুটে ৩০টি নয় ২৩টি লঞ্চ চলাচল করে। এর মধ্যে নিয়মিত চলাচল করে ১৮ থেকে ২০টি লঞ্চ। সম্প্রতি বিআইডব্লিউটিএতে আমাদের মিটিং হয়েছে। সেখানে ধারণক্ষমতার মধ্যে লঞ্চ পরিচালনার কথা বলা হয়েছে। তিনি বলেন, রোটেশন প্রথা নেই। কেউ কেউ লঞ্চ চালাচ্ছেন না। স্টাফ না আসার কারণে কেউ লঞ্চ চালাতে পারছেন না। যাত্রীদের সুরক্ষায় অনেক কার্যক্রম নেয়া হয়েছে। তবে সবার আগে যাত্রীদের সচেতন হতে হবে। বরিশাল জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান বলেন, করোনা সংক্রমণ এড়াতে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতের বিকল্প নেই। লঞ্চ মালিকরা বলেছেন, তারা লঞ্চের সংখ্যা বাড়াবেন। এ বিষয়ে সরকারও কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

বিআইডব্লিউটিএ বরিশালের নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের যুগ্ম পরিচালক আজমল হুদা মিঠু জানান, স্বাস্থ্য বিধি মেনে লঞ্চ পরিচালনার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে লঞ্চের সংখ্যা কম রয়েছে। অন্তত ৭টি করে লঞ্চ চলাচল করলে স্বাস্থ্য বিধি রক্ষা করা যাবে। এ বিষয়ে মালিকদের বলা হচ্ছে।

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

আরও

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত