আদালতের হস্তক্ষেপে মুক্ত নির্দোষ রুবেল
jugantor
যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশ
আদালতের হস্তক্ষেপে মুক্ত নির্দোষ রুবেল

  রাজশাহী ব্যুরো  

০৪ জুন ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অবশেষে মুক্তি পেলেন দুই মাস ২৩ দিন কারাগারে থাকা নিরাপরাধ মো. রুবেল (২৩)। হাইকোর্টের নির্দেশ ও শিবগঞ্জ থানা পুলিশের আবেদনের পর বুধবার রুবেলকে নিঃশর্ত মুক্তির আদেশ দেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আবু কাহার। বুধবার সন্ধ্যায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে ছাড়া পান শিবগঞ্জের পাঁকা ইউনিয়নের চরপাঁকা গ্রামের মোন্টুর ছেলে রুবেল। গত ১০ মার্চ পুলিশ প্রকৃত আসামি মো. রুবেল আলী ওরফে রুবেল বাবুলের বদলে এই রুবেলকে মাদক মামলার গ্রেফতার করে জেলে পাঠায়।

বুধবার ‘শিবগঞ্জে পুলিশের অবহেলা- এক রুবেলের বদলে জেলে আরেক রুবেল’ শিরোনামে দৈনিক যুগান্তরে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। বুধবার প্রতিবেদনটি হাইকোর্টের নজরে আনেন অ্যাডভোকেট শিশির মনির এবং হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের একক বেঞ্চে শুনানি হয়। মানবিক কারণে রুবেলের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন হাইকোর্টের আইনজীবী শিশির মনির ও রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি এটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার। শুনানি শেষে বিচারপতি ইনায়েতুর রহিম দ্রুত রুবেলকে নিঃশর্ত মুক্তির আদেশ দেন। আদেশটি পরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠানো হয়। এদিকে দৈনিক যুগান্তরে রিপোর্ট প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেন শিবগঞ্জ থানার ওসি সামশুল আলম শাহ। পরে তিনি বুধবার ভুলক্রমে রুবেলকে গ্রেফতারের কথা উল্লেখ করে রুবেলের মুক্তি চেয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের তৃতীয় আদালতে আবেদন করেন। একদিকে হাইকোর্টের নির্দেশ অপরদিকে থানার আবেদন। পরে বিকালে শুনানি শেষে বিচারক আবু কাহার রুবেলকে নিঃশর্ত মুক্তির আদেশ দেন এবং একই সঙ্গে আলোচিত মামলাটির প্রকৃত আসামি পলাতক রুবেল আলী ওরফে বাবুলের বিরুদ্ধে ফের গ্রেফতারের আদেশ দেন। এছাড়া তথ্য যাচাই না করে একজন নিরাপরাধ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানোর অপরাধে ম্যাজিস্ট্রেট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশসহ শিবগঞ্জ থানা পুলিশকে কারণ দর্শানোর আদেশ দেন। মামলার পরবর্তী তারিখে আদালতে হাজির হয়ে তাদের শোকজের জবাব দিতে বলা হয়েছে। অস্বাভাবিক দ্রুততায় সন্ধ্যায় জেলমুক্ত রুবেল বলেন, আমি কোনো অপরাধ করেননি। স্থগিত হওয়া ইউনিয়র পরিষদের উপ-নির্বাচনে নৌকার পক্ষে কাজ করছিলাম। পুলিশের একজন সোর্স কাম দালাল ওই নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছিলেন। তার রোষানলে পড়েই পুলিশ আমাকে গ্রেফতার করেন। গ্রেফতারের সময় আমি পুলিশকে বারবার বলেছিলেন আমি কোনো মামলার আসামি না। আমার নামে কোনো ওয়ারেন্টও নাই। ওই সময় পুলিশের ওই দালালকে ফোন দিলে তিনি ফোনের অপর প্রান্ত থেকে অভিযানকারী পুলিশকে আমাকে গ্রেফতারের জন্য চাপাচাপি করেন। পরে পুলিশ আমাকে গ্রেফতার করেন।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ৬ এপ্রিল চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের কালুপুর এলাকা থেকে গাঁজা সেবনের অভিযোগে পুলিশ গ্রেফতার করেন চরপাঁকা কদমতলা গ্রামের মো. মন্টু আলীর ছেলে রুবেল আলী ওরফে রুবেল বাবুল (২৬) কে। মামলা করে ওইদিনই পুলিশ তাকে জেলহাজতে পাঠায়। ঘটনার কয়েকদিন পর আসামি রুবেল বাবুল জামিনে মুক্তি পেয়ে তিনবার আদালতে হাজিরা দিয়ে রুবেল বাবুল উধাও হয়ে যান। গ্রামের নাম আলাদা হলেও আসামি ও তার বাবার নামে মিল থাকার সুযোগ নিয়ে পরে এই রুবেলকে জেলে পাঠানো হয়।

যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশ

আদালতের হস্তক্ষেপে মুক্ত নির্দোষ রুবেল

 রাজশাহী ব্যুরো 
০৪ জুন ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অবশেষে মুক্তি পেলেন দুই মাস ২৩ দিন কারাগারে থাকা নিরাপরাধ মো. রুবেল (২৩)। হাইকোর্টের নির্দেশ ও শিবগঞ্জ থানা পুলিশের আবেদনের পর বুধবার রুবেলকে নিঃশর্ত মুক্তির আদেশ দেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আবু কাহার। বুধবার সন্ধ্যায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে ছাড়া পান শিবগঞ্জের পাঁকা ইউনিয়নের চরপাঁকা গ্রামের মোন্টুর ছেলে রুবেল। গত ১০ মার্চ পুলিশ প্রকৃত আসামি মো. রুবেল আলী ওরফে রুবেল বাবুলের বদলে এই রুবেলকে মাদক মামলার গ্রেফতার করে জেলে পাঠায়।

বুধবার ‘শিবগঞ্জে পুলিশের অবহেলা- এক রুবেলের বদলে জেলে আরেক রুবেল’ শিরোনামে দৈনিক যুগান্তরে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। বুধবার প্রতিবেদনটি হাইকোর্টের নজরে আনেন অ্যাডভোকেট শিশির মনির এবং হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের একক বেঞ্চে শুনানি হয়। মানবিক কারণে রুবেলের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন হাইকোর্টের আইনজীবী শিশির মনির ও রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি এটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার। শুনানি শেষে বিচারপতি ইনায়েতুর রহিম দ্রুত রুবেলকে নিঃশর্ত মুক্তির আদেশ দেন। আদেশটি পরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠানো হয়। এদিকে দৈনিক যুগান্তরে রিপোর্ট প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেন শিবগঞ্জ থানার ওসি সামশুল আলম শাহ। পরে তিনি বুধবার ভুলক্রমে রুবেলকে গ্রেফতারের কথা উল্লেখ করে রুবেলের মুক্তি চেয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের তৃতীয় আদালতে আবেদন করেন। একদিকে হাইকোর্টের নির্দেশ অপরদিকে থানার আবেদন। পরে বিকালে শুনানি শেষে বিচারক আবু কাহার রুবেলকে নিঃশর্ত মুক্তির আদেশ দেন এবং একই সঙ্গে আলোচিত মামলাটির প্রকৃত আসামি পলাতক রুবেল আলী ওরফে বাবুলের বিরুদ্ধে ফের গ্রেফতারের আদেশ দেন। এছাড়া তথ্য যাচাই না করে একজন নিরাপরাধ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানোর অপরাধে ম্যাজিস্ট্রেট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশসহ শিবগঞ্জ থানা পুলিশকে কারণ দর্শানোর আদেশ দেন। মামলার পরবর্তী তারিখে আদালতে হাজির হয়ে তাদের শোকজের জবাব দিতে বলা হয়েছে। অস্বাভাবিক দ্রুততায় সন্ধ্যায় জেলমুক্ত রুবেল বলেন, আমি কোনো অপরাধ করেননি। স্থগিত হওয়া ইউনিয়র পরিষদের উপ-নির্বাচনে নৌকার পক্ষে কাজ করছিলাম। পুলিশের একজন সোর্স কাম দালাল ওই নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছিলেন। তার রোষানলে পড়েই পুলিশ আমাকে গ্রেফতার করেন। গ্রেফতারের সময় আমি পুলিশকে বারবার বলেছিলেন আমি কোনো মামলার আসামি না। আমার নামে কোনো ওয়ারেন্টও নাই। ওই সময় পুলিশের ওই দালালকে ফোন দিলে তিনি ফোনের অপর প্রান্ত থেকে অভিযানকারী পুলিশকে আমাকে গ্রেফতারের জন্য চাপাচাপি করেন। পরে পুলিশ আমাকে গ্রেফতার করেন।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ৬ এপ্রিল চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের কালুপুর এলাকা থেকে গাঁজা সেবনের অভিযোগে পুলিশ গ্রেফতার করেন চরপাঁকা কদমতলা গ্রামের মো. মন্টু আলীর ছেলে রুবেল আলী ওরফে রুবেল বাবুল (২৬) কে। মামলা করে ওইদিনই পুলিশ তাকে জেলহাজতে পাঠায়। ঘটনার কয়েকদিন পর আসামি রুবেল বাবুল জামিনে মুক্তি পেয়ে তিনবার আদালতে হাজিরা দিয়ে রুবেল বাবুল উধাও হয়ে যান। গ্রামের নাম আলাদা হলেও আসামি ও তার বাবার নামে মিল থাকার সুযোগ নিয়ে পরে এই রুবেলকে জেলে পাঠানো হয়।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন